আলিফ হোসেনঃ
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি)মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।অন্যদিকে ডাঃ টিপুকে মন্ত্রী সভায় নেয়া সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দলের ভিতর এবং বাইরের নানা ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, প্রতিহিংসা ও গুজবের বহু অন্ধকার গলিতেও তিনি পথ হারাননি এবং গতানুগতিক রাজনীতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি।নিজস্ব, স্বকীয়তা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন অমায়িক ব্যবহার ও প্রচণ্ড সাহসী নেতৃত্বের লৌহমানব এই মানুষটি ছাত্র রাজনীতির সীমানা অতিক্রম করে ধীরে ধীরে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার পুরুষে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তার প্রতি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ তাতে তিনি না চাইলেও এই অঞ্চলের মানুষ তাকেই তাদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে, এখানে তার কোনো বিকল্প নাই। কারণ সাধারণ মানুষের নিখাদ ভালবাসার চেয়ে বড় কোন শক্তি নাই। তাকে মন্ত্রী সভায় দেখতে এসব মানুষ এটা এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ, পারিবারিক ঐতিহ্য-সামাজিক মর্যাদা ও পরিচিতি, আর্থিক স্বচ্ছলতা, জনবল বা কর্মীবাহিনী, রাজনৈতিক দূরদর্শীতা, সাংগঠনিক দক্ষতা , আদর্শিক ও বিশ্বস্তত নেতৃত্ব হিসেবে মন্ত্রীসভায় স্থান পাবার মতো সব যোগ্যতা ও সক্ষমতা রয়েছে ডাঃ টিপুর।
এদিকে ঘোষিত ফলাফলে জানা গেছে, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের পোস্টাল ভোটসহ মোট ১১৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে ডা. ইকরামুল বারী টিপু এক লাখ ৩৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী তথা ১১ দল সমর্থিত ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী খন্দকার মুহা. আব্দুর রাকিব (প্রতিক দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৫৫৮ ভোট।
এছাড়াও ডা. এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৩ ভোট, আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) এক হাজার ৩২৭ ভোট, আরফানা বেগম ফেন্সি (কলস) ৭১২ ভোট এবং সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) পেয়েছেন ৬০৯ ভোট। এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ-৪ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৪ জন, নারী এক লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। সংসদ নির্বাচনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭০টি। বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৩৭৮টি ভোট। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮টি। ভোটের হার ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ (ঘোষিত তথ্যানুযায়ী)।
অন্যদিকে, একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার ২৭৬টি এবং ‘না’ ভোট ৬৮ হাজার ৩৯৩টি। গণভোটে মোট বৈধ ভোট ২ লাখ ১১ হাজার ৬৬৯টি, বাতিল ভোট ৩১ হাজার ৭৭১টি এবং সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪০টি।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক তৎপরতা ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অভিজ্ঞ মহলের অভিমত, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এখানকার এমপি এমাজ উদ্দিন প্রামানিক ছিলেন পুর্ণমন্ত্রী।তার সময়ে তিনি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ফলে মন্ত্রীর এলাকা থেকে নির্বাচিত হওয়ায় ডাঃ ইকরামুল বারী টিপুকে মন্ত্রী করার জোর দাবি উঠেছে।কারণ এমপি হয়ে সাবেক মন্ত্রীর উন্নয়ন ছাড়িয়ে যাওয়া তার পক্ষে কষ্টকর। আর তিনি এমপি হয়ে যদি মন্ত্রীর উন্নয়ন ছাড়িয়ে যেতে না পারেন তাহলে তিনি না প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তাই এলাকর উন্নয়নের পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে টিপুকে মন্ত্রী করার বিকল্প নাই।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 




















