ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আত্রইয়ের মিরাপুর বধ্যভূমি

৫২ বছরেও নির্মাণ হয়নি নাম ফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ

-ছবিঃ প্রতীকী।

অযন্ত ও অবহেলায় রয়েছে নওগাঁর আত্রাইয়ে মিরপুর বধ্যভুমি।এখানে স্বাধীনতার ৫২ বছরেও শহীদ দের স্মরণে কোনো রকম বেদি বা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয় নি এই বধ্যভুমিতে গণহত্যা দিবস পালন বা এর ইতিহাস সম্পর্কে আজও কেউ খোঁজ খবর রাখে নি। ফলে বর্তমান প্রজম্মের কাছে এর অনেক ইতিহাস আজানা রয়ে গেছে।

জানা গেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন বৃহত্তর রাজশাহী জেলার সদর মহকুমা, নাটোর মহকুমা সান্তাহার  পার্বতীপুর প্রভূতি স্হান থেকে ট্রেনযোগে বাঙ্গালীদের ধরে আনা হতো এই আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনে। রেলওয়ে স্টেশনে পাশে আত্রাই নদী। নদীর উপর একটি রেল সেতু গুলি করে হত্যার পর নদীতে নিক্ষেপ করা হতো হাজারো মানুষের কঙ্কাল স্বাধীনতার পরবর্তীতে দেখা গেছে এই নদীর ধারে। বর্তমানে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মিরাপুর ও রাণীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর থেকে পাক হানাদার বাহিনীরা ১৯৭১ সালের ১০ শে জুলাই ধরে আনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সহোদর দুই ভাই ফিরোজ ও আলমগীর সহ মমতাজ,ছাত্তার,গফুর,কোফিল,আহাদ মিহির এবং জলিল নামের ৯ জনকে।

কোফিল, আহাদ মিহির ও জলিলকে গুলি করে হত্যা করে ওই গ্রামে। বাকি কয়েক জনকে ধরে আনা হলো আত্রাই নদীর ধারে।আবারও গুলি সবাই লুটিয়ে পড়লো নদীর জলে। ভাগ্য ক্রমে মৃত্যুযাত্রা থেকে বেঁচে যান ফিরোজ ও আলমগীর ২৪ বছরের টগবগে যুবক দেশের জন্য সেদিন মা বাবা ভাই বোন ছেরে আলমগীর ও ফিরোজ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তাই তাদের খেতে হয়েছিল পাক হানাদার বাহিনীর রাইফেলের তাজা গুলি। সেদিন রাইফেলের গুলিও এই যুবকের প্রাণ কেরে নিতে পারেনি। আহত অবস্হায় তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়ে ছিল নিজ গ্রাম উপজেলার মহাদীঘি গ্রামের এক কৃষকের ঘরে।

কিন্তু বিশ্বাস ঘাতক রাজাকার জানাসহ অন্যরা জুলাই মাসের শেষের দিকে আলমগীরকে ধরে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এর পর তার আর কোন হদিস মিলেনি। প্রণে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষ দসি কৃষ্ণপুর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী মোঃআব্দুস ছাত্তার জানান সেদিন পাক বাহিনীর হাতে ধরা পরে ৩৫ জন মুক্তিগ্রামী মানুষ। এর মধ্যে অলৌকিক ভাবে ৫ জন বেঁচে যান। ১৯৭১ সালের ১০ শে জুলাই আত্রাই পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২ টি বড় বজরা নৌকা যোগে মিরাপুর ও কৃষ্ণপুর গ্রাম ভোর রাতে ঘিরে ফেলে পাক হানাদাররা।

ওই দুই গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামি নিরীহ বাঙালিকে ধরে এনে পাক হানাদাররা ছোট যমুনা নদীর পাশে মিরাপুর বাঁশ ঝারের মধ্যে ব্রাশ পায়ারে হত্যা করে। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকা কালীন সময় ও শহীদদের মা বাবা স্রী সন্তান সরকারি ভাবে কোন স্বীকৃতি পায় নি। দেশের জন্য হাসি মুখে যারা জীবন উৎসর্গঃ করেছেন সে সব শহীদ দের সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং মিরাপুর বধ্যভূমিতে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

রংপুরে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত

error: Content is protected !!

আত্রইয়ের মিরাপুর বধ্যভূমি

৫২ বছরেও নির্মাণ হয়নি নাম ফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ

আপডেট টাইম : ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩
মোঃ আব্দুল জব্বার, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি :

অযন্ত ও অবহেলায় রয়েছে নওগাঁর আত্রাইয়ে মিরপুর বধ্যভুমি।এখানে স্বাধীনতার ৫২ বছরেও শহীদ দের স্মরণে কোনো রকম বেদি বা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হয় নি এই বধ্যভুমিতে গণহত্যা দিবস পালন বা এর ইতিহাস সম্পর্কে আজও কেউ খোঁজ খবর রাখে নি। ফলে বর্তমান প্রজম্মের কাছে এর অনেক ইতিহাস আজানা রয়ে গেছে।

জানা গেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন বৃহত্তর রাজশাহী জেলার সদর মহকুমা, নাটোর মহকুমা সান্তাহার  পার্বতীপুর প্রভূতি স্হান থেকে ট্রেনযোগে বাঙ্গালীদের ধরে আনা হতো এই আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনে। রেলওয়ে স্টেশনে পাশে আত্রাই নদী। নদীর উপর একটি রেল সেতু গুলি করে হত্যার পর নদীতে নিক্ষেপ করা হতো হাজারো মানুষের কঙ্কাল স্বাধীনতার পরবর্তীতে দেখা গেছে এই নদীর ধারে। বর্তমানে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মিরাপুর ও রাণীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর থেকে পাক হানাদার বাহিনীরা ১৯৭১ সালের ১০ শে জুলাই ধরে আনে বীর মুক্তিযোদ্ধা সহোদর দুই ভাই ফিরোজ ও আলমগীর সহ মমতাজ,ছাত্তার,গফুর,কোফিল,আহাদ মিহির এবং জলিল নামের ৯ জনকে।

কোফিল, আহাদ মিহির ও জলিলকে গুলি করে হত্যা করে ওই গ্রামে। বাকি কয়েক জনকে ধরে আনা হলো আত্রাই নদীর ধারে।আবারও গুলি সবাই লুটিয়ে পড়লো নদীর জলে। ভাগ্য ক্রমে মৃত্যুযাত্রা থেকে বেঁচে যান ফিরোজ ও আলমগীর ২৪ বছরের টগবগে যুবক দেশের জন্য সেদিন মা বাবা ভাই বোন ছেরে আলমগীর ও ফিরোজ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তাই তাদের খেতে হয়েছিল পাক হানাদার বাহিনীর রাইফেলের তাজা গুলি। সেদিন রাইফেলের গুলিও এই যুবকের প্রাণ কেরে নিতে পারেনি। আহত অবস্হায় তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়ে ছিল নিজ গ্রাম উপজেলার মহাদীঘি গ্রামের এক কৃষকের ঘরে।

কিন্তু বিশ্বাস ঘাতক রাজাকার জানাসহ অন্যরা জুলাই মাসের শেষের দিকে আলমগীরকে ধরে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এর পর তার আর কোন হদিস মিলেনি। প্রণে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষ দসি কৃষ্ণপুর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী মোঃআব্দুস ছাত্তার জানান সেদিন পাক বাহিনীর হাতে ধরা পরে ৩৫ জন মুক্তিগ্রামী মানুষ। এর মধ্যে অলৌকিক ভাবে ৫ জন বেঁচে যান। ১৯৭১ সালের ১০ শে জুলাই আত্রাই পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২ টি বড় বজরা নৌকা যোগে মিরাপুর ও কৃষ্ণপুর গ্রাম ভোর রাতে ঘিরে ফেলে পাক হানাদাররা।

ওই দুই গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামি নিরীহ বাঙালিকে ধরে এনে পাক হানাদাররা ছোট যমুনা নদীর পাশে মিরাপুর বাঁশ ঝারের মধ্যে ব্রাশ পায়ারে হত্যা করে। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকা কালীন সময় ও শহীদদের মা বাবা স্রী সন্তান সরকারি ভাবে কোন স্বীকৃতি পায় নি। দেশের জন্য হাসি মুখে যারা জীবন উৎসর্গঃ করেছেন সে সব শহীদ দের সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং মিরাপুর বধ্যভূমিতে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।


প্রিন্ট