ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সালথা থানার সাবেক ওসি শেখ সাদিক ও এসআই তন্ময়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

ফরিদপুরের সালথা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ সাদিক (৪৫) ও এসআই তন্ময় চক্রবর্তীর (৩৫) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার মো. হাফিজুর রহমান মুন্নু (৬৫) নামে এক ব্যক্তি ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফ হাসান মোকদ্দমাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সেখ সাদিক চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার বারাদি গ্রামের শেখ আমিনউদ্দীনের ছেলে। ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি সালথা থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসআই তন্ময় চক্রবর্তী রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ভররামদিয়া গ্রামের তাপস চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি বর্তমানে বোয়ালমারী থানায় কর্মরত রয়েছেন।
মামলার বাদী সালথার ভাওয়াল গ্রামের হাফিজুর রহমান মুন্নু গ্রামীণ ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম। আরজিতে মুন্নু বলেন, ‘চাকরি থেকে অবসরে যেয়ে তিনি গ্রামে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আমাকে ওসি সেখ সাদিক ও এসআই তন্ময় বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে বলতো যে- আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অনেক টাকা উপার্জন করে গ্রামে এসে রাজনীতি করছেন। এখন আমাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিবেন, নইলে শান্তিতে থাকতে পারবেন না।’
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ১১ মার্চ রাতে তাঁকে আটক করে আসামিরা ২০ লাখ চাঁদা দাবি করে, নইলে থানায় নিয়ে নির্যাতন ও হাতপা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেয়। তিনি প্রাণভয়ে নানাভাবে তাৎক্ষণিক ৫ লাখ টাকা দেন। এরপরেও তারা তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে রাতভর অমানবিকভাবে নির্যাতন করে পরেরদিন একটি বিস্ফোরক মামলায় আদালতে চালান করে। মামলা নং- ২৫০/২২, দণ্ডবিধি- ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৫৩/৫৪।
হাফিজুর রহমান মুন্নু আরও বলেন, ‘আমাকে মিথ্যা মামলায় আদালতে চালান দেওয়ার পরে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ওই মামলায় আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসি। সেসময় ভয়ে ভীত হওয়ায় আদালতে মামলা করতে পারিনি। এখন দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসায় এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় মামলাটি দায়ের করেছি।’
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মামুন অর রশীদ বলেন, ‘দণ্ডবিধি ১৪৩/৩২৩/৩৮৫/৩৮৭/৫০৬/১১৪ ধারায় মোকদ্দমাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাকসুর মেয়াদ শেষ ভোট কবে ঠিক নেই

error: Content is protected !!

সালথা থানার সাবেক ওসি শেখ সাদিক ও এসআই তন্ময়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

আপডেট টাইম : ০৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৪
এস. এম রবিউল ইসলাম রুবেল, স্টাফ রিপোর্টার :
ফরিদপুরের সালথা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ সাদিক (৪৫) ও এসআই তন্ময় চক্রবর্তীর (৩৫) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার মো. হাফিজুর রহমান মুন্নু (৬৫) নামে এক ব্যক্তি ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফ হাসান মোকদ্দমাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সেখ সাদিক চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার বারাদি গ্রামের শেখ আমিনউদ্দীনের ছেলে। ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি সালথা থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এসআই তন্ময় চক্রবর্তী রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ভররামদিয়া গ্রামের তাপস চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি বর্তমানে বোয়ালমারী থানায় কর্মরত রয়েছেন।
মামলার বাদী সালথার ভাওয়াল গ্রামের হাফিজুর রহমান মুন্নু গ্রামীণ ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম। আরজিতে মুন্নু বলেন, ‘চাকরি থেকে অবসরে যেয়ে তিনি গ্রামে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। আমাকে ওসি সেখ সাদিক ও এসআই তন্ময় বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে বলতো যে- আপনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অনেক টাকা উপার্জন করে গ্রামে এসে রাজনীতি করছেন। এখন আমাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিবেন, নইলে শান্তিতে থাকতে পারবেন না।’
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ১১ মার্চ রাতে তাঁকে আটক করে আসামিরা ২০ লাখ চাঁদা দাবি করে, নইলে থানায় নিয়ে নির্যাতন ও হাতপা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেয়। তিনি প্রাণভয়ে নানাভাবে তাৎক্ষণিক ৫ লাখ টাকা দেন। এরপরেও তারা তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে রাতভর অমানবিকভাবে নির্যাতন করে পরেরদিন একটি বিস্ফোরক মামলায় আদালতে চালান করে। মামলা নং- ২৫০/২২, দণ্ডবিধি- ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৫৩/৫৪।
হাফিজুর রহমান মুন্নু আরও বলেন, ‘আমাকে মিথ্যা মামলায় আদালতে চালান দেওয়ার পরে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ওই মামলায় আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসি। সেসময় ভয়ে ভীত হওয়ায় আদালতে মামলা করতে পারিনি। এখন দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসায় এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় মামলাটি দায়ের করেছি।’
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মামুন অর রশীদ বলেন, ‘দণ্ডবিধি ১৪৩/৩২৩/৩৮৫/৩৮৭/৫০৬/১১৪ ধারায় মোকদ্দমাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’