ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সালথায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে জোরপূর্বক জমি দখলের পায়তারা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ৫৯ নং কামাইদিয়া মৌজার বিএস ১৮৯৮ নং দাগের ৫৬ শতাংশ জমির উপর আদালতের রায় হলেও, তা উপেক্ষা করে জমি খোকো কামাইদিয়া গ্রামের আব্দুল হক মোল্লা ও জলিল মোল্লা গংরা জোরপূর্বক অবৈধ দখলের পায়তারা করছে। এতে এলাকায় শান্তি ভংঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় দুপক্ষে মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, কামাইদিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে তরিকুল মোল্লার ক্রয়কৃত এই জমি ভুলে রেকর্ড ভুক্ত হয়, সাবেক আরএস রের্কডী মালিকদের ওয়ারিশেদের নামে। এই রের্কডের বিরুদ্ধে তরিকুল মোল্লা দীর্ঘ ৫ বছর মামলা পরিচালানা করে ল্যান্ড সার্ভে আদালত থেকে তার পক্ষে রায় পায়। এবং তরিকুল শান্তিপুর্ণ ভাবে জমিটি ভোগদখলে আছে। কিন্তু আদালতের রায়ের তোয়াক্কা না করে ভূলবশত রের্কডীয় মালিকগন জমিতে বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে দখল করার পায়তারা করছে। তরিকুল মোল্লার বাবা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, জমির প্রকৃত (আরএস রের্কডীয়) মালিকগনের একজন আব্দুর রহমান মোট ৬.১৬ একর জমির মধ্যে ১.০২ একর জমি অংশহারে ভাগে পান। তিনি তার এই অংশ ১৯৫৮ সালে একই গ্রামের গেনেন্দ্র নাথ দের স্ত্রী শতদল বাশীনির কাছে বিক্রি করেন।

শতদল বাশীনির বর্গা চাষী হিসাবে ওই গ্রামের বাসিন্দা সাহাদাৎ মোল্লা জমিটি দীর্ঘদিন চাষবাস করেন। শতদলবাশীনির মৃত্যুও পর ওয়ারিশ থাকেন জিতেন কুমার দে। জিতেন কুমার দে এই জমি আবার ১৯৮২ সালে বিক্রি করেন একই গ্রামের মৃত্যু ইউসুব মোল্লার ছেলে মোকারম মোল্লার কাছে। মোকারম মোল্লার কাছ ২০১২ সালে ওছিয়াত নামা দলিল মুলে ক্রয় করে আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে তরিকুল মোল্লা।

আরও পড়ুনঃ সালথায় সড়কের কালভার্ট ভেঙে খানাখন্দ, বিপাকে পথচারী, পরিবহন

কিন্তু জমিটির বিএস রেকর্ড ভুলে সাবেক মালিকদের সন্তানদের নামে হলে বাধে বিপত্তি। উপোয়ান্ত না পেয়ে তরিকুল জমির ক্রয়কৃত মালিক হওয়া সত্তেয়ও রের্কড ভুক্ত না হওয়ায়, আদালতের সরনাপন্ন হন। তরিকুল ফরিদপুরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে একটি মামলা করেন যাহার মামলা নং ১০৪০/১৬ যা দীর্ঘ ৫ বছর পর তরিকুলের পক্ষে রায় হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ আব্দুল হক মোল্লা গংরা হাই কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যাহার নাম্বার ৩১/৯১/২২, এই মামলায় হাই কোর্ট স্টাটাস্কো প্রদান করেন। যাতে বলা রয়েছে কোর্টের রায় না হওয়া পর্যন্ত যার যার অবস্থানে থেকে শান্তি বজায় রাখতে। কিন্তু আব্দুল হক মোল্লা গংরা তা না মেনে জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

এলাকায় দাঙ্গা করার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার শাহিন বলেন, শুনেছি রাজ্জাক মোল্লার ছেলে তরিকুলের পক্ষে রায় হয়েছে। সেই রায় তাদের প্রতিপক্ষ আব্দুল হক মোল্লা গংরা মানছে না। এ নিয়ে সালিশও হয়েছে সালথা থানায়। থানা কতৃপক্ষ জমির ফসলের জিম্মাদার হিসাবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এবং উচ্চ আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষই জমিতে যেতে পারবে না বলে থানা থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল হক মোল্লা যদি সেটা না মেনে এলাকায় দাঙ্গা সৃষ্টি করার পায়তারা করে। তাহলে আমি আইনের সহযোগিতা নিয়ে আইনগত ভাবে আগাবো।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

সালথায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে জোরপূর্বক জমি দখলের পায়তারা

আপডেট টাইম : ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২
এফ.এম.আজিজুর রহমান, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ :

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ৫৯ নং কামাইদিয়া মৌজার বিএস ১৮৯৮ নং দাগের ৫৬ শতাংশ জমির উপর আদালতের রায় হলেও, তা উপেক্ষা করে জমি খোকো কামাইদিয়া গ্রামের আব্দুল হক মোল্লা ও জলিল মোল্লা গংরা জোরপূর্বক অবৈধ দখলের পায়তারা করছে। এতে এলাকায় শান্তি ভংঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় দুপক্ষে মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, কামাইদিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে তরিকুল মোল্লার ক্রয়কৃত এই জমি ভুলে রেকর্ড ভুক্ত হয়, সাবেক আরএস রের্কডী মালিকদের ওয়ারিশেদের নামে। এই রের্কডের বিরুদ্ধে তরিকুল মোল্লা দীর্ঘ ৫ বছর মামলা পরিচালানা করে ল্যান্ড সার্ভে আদালত থেকে তার পক্ষে রায় পায়। এবং তরিকুল শান্তিপুর্ণ ভাবে জমিটি ভোগদখলে আছে। কিন্তু আদালতের রায়ের তোয়াক্কা না করে ভূলবশত রের্কডীয় মালিকগন জমিতে বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে দখল করার পায়তারা করছে। তরিকুল মোল্লার বাবা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, জমির প্রকৃত (আরএস রের্কডীয়) মালিকগনের একজন আব্দুর রহমান মোট ৬.১৬ একর জমির মধ্যে ১.০২ একর জমি অংশহারে ভাগে পান। তিনি তার এই অংশ ১৯৫৮ সালে একই গ্রামের গেনেন্দ্র নাথ দের স্ত্রী শতদল বাশীনির কাছে বিক্রি করেন।

শতদল বাশীনির বর্গা চাষী হিসাবে ওই গ্রামের বাসিন্দা সাহাদাৎ মোল্লা জমিটি দীর্ঘদিন চাষবাস করেন। শতদলবাশীনির মৃত্যুও পর ওয়ারিশ থাকেন জিতেন কুমার দে। জিতেন কুমার দে এই জমি আবার ১৯৮২ সালে বিক্রি করেন একই গ্রামের মৃত্যু ইউসুব মোল্লার ছেলে মোকারম মোল্লার কাছে। মোকারম মোল্লার কাছ ২০১২ সালে ওছিয়াত নামা দলিল মুলে ক্রয় করে আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে তরিকুল মোল্লা।

আরও পড়ুনঃ সালথায় সড়কের কালভার্ট ভেঙে খানাখন্দ, বিপাকে পথচারী, পরিবহন

কিন্তু জমিটির বিএস রেকর্ড ভুলে সাবেক মালিকদের সন্তানদের নামে হলে বাধে বিপত্তি। উপোয়ান্ত না পেয়ে তরিকুল জমির ক্রয়কৃত মালিক হওয়া সত্তেয়ও রের্কড ভুক্ত না হওয়ায়, আদালতের সরনাপন্ন হন। তরিকুল ফরিদপুরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে একটি মামলা করেন যাহার মামলা নং ১০৪০/১৬ যা দীর্ঘ ৫ বছর পর তরিকুলের পক্ষে রায় হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ আব্দুল হক মোল্লা গংরা হাই কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যাহার নাম্বার ৩১/৯১/২২, এই মামলায় হাই কোর্ট স্টাটাস্কো প্রদান করেন। যাতে বলা রয়েছে কোর্টের রায় না হওয়া পর্যন্ত যার যার অবস্থানে থেকে শান্তি বজায় রাখতে। কিন্তু আব্দুল হক মোল্লা গংরা তা না মেনে জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

এলাকায় দাঙ্গা করার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার শাহিন বলেন, শুনেছি রাজ্জাক মোল্লার ছেলে তরিকুলের পক্ষে রায় হয়েছে। সেই রায় তাদের প্রতিপক্ষ আব্দুল হক মোল্লা গংরা মানছে না। এ নিয়ে সালিশও হয়েছে সালথা থানায়। থানা কতৃপক্ষ জমির ফসলের জিম্মাদার হিসাবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এবং উচ্চ আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত কোন পক্ষই জমিতে যেতে পারবে না বলে থানা থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল হক মোল্লা যদি সেটা না মেনে এলাকায় দাঙ্গা সৃষ্টি করার পায়তারা করে। তাহলে আমি আইনের সহযোগিতা নিয়ে আইনগত ভাবে আগাবো।