রাজনীতি ডেস্ক: যশোরে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক দলীয়করণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পাঁচ সংসদ সদস্য এই অভিযোগ করেন। তাঁরা দাবি করেন, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যবসায়ী এবং কৃষির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মতামত বা পরামর্শ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসূল। এ সময় তিনি অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে বলেন যে, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের পরিবর্তে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে এই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। জামায়াত নেতাদের দাবি, জেলা বিএনপির নেতাদের প্রভাব এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনেকেই এই ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন। তালিকায় এমন কিছু ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বা যারা অতীতে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি নিষিদ্ধ ঘোষিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক এবং মাদক মামলায় আটক ব্যক্তির স্ত্রীও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মনিরামপুর, চৌগাছা ও নওয়াপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন ডিলারের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে বলা হয় যে, স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীরাই মূলত এই তালিকায় প্রাধান্য পেয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দোকান বা সঠিক ব্যবসায়িক অবকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে ডিলারশিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত নেতারা জানান, সার-বীজ মনিটরিং কমিটি গঠন ও ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ একপেশে নীতি অনুসরণ করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ডিলার নিয়োগ বা কমিটি গঠনে তাঁদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসক জেলা বিএনপির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী এই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এ সময় সরকারের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে চলা রাজনৈতিক নিপীড়নে কেবল বিএনপি নয়, জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মীও সমানভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, বাড়িছাড়া ছিলেন এবং বহু মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। অথচ ডিলারশিপ বণ্টনের ক্ষেত্রে জামায়াতকে পুরোপুরি ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আনীত এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে জেলা বিএনপি। যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন দাবি করেন যে, জামায়াত নেতাদের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন। বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের অনেকেই আবেদন করেছেন এবং নীতিমালা মেনেই তালিকাভুক্ত হয়েছেন। জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে এই ডিলার তালিকা চূড়ান্ত করেছে এবং এতে দলীয় কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না বলে তিনি জানান। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিরোধী পক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের খাতিরেই জামায়াত এই ধরনের অমূলক বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। অন্যদিকে, ডিলার নিয়োগে অনিয়মের এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য যশোরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের অন্য সংসদ সদস্যরাসহ দলটির স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 



















