ঢাকা , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের শেয়ার, তবু বিনিয়োগে আগ্রহ কম

অর্থনীতি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির বা খাতের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও যত কম থাকে, সেটিতে ঝুঁকিও তত কম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মানদণ্ডে বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ার সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই খাতের শেয়ারের গড় পিই রেশিও বেশ কম রয়েছে। তা সত্ত্বেও সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাতের শেয়ারের প্রতি কোনো উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকি কম থাকলেও ব্যাংক খাতের সামগ্রিক পরিবেশ ও আস্থার সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা দূরে সরে থাকছেন। অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনার কারণে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে অধিকাংশ ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে গভীর সংশয় রয়েছে। এছাড়া অনেক ভালো মানের ব্যাংকও তাদের মূল ব্যবসায় কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ব্যাংকের মুনাফা বাড়লেও তার বড় অংশই এসেছে মূলত সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে, যা মূলত সাময়িক আয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা ৫টি ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত রয়েছে এবং এগুলোর শেয়ারের দাম শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ও নানা অনিয়মের কারণে বড় লোকসানে থাকা আরও ৭টি ব্যাংকের পিই রেশিও প্রকাশ করা হয়নি। নিয়মিত আয়ের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত ২৪টি ব্যাংকের হিসাব কষে দেখা গেছে, এর মধ্যে যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকের পিই রেশিও সবচেয়ে কম রয়েছে এবং অন্তত ১১টি ব্যাংকের এই অনুপাত পাঁচের নিচে অবস্থান করছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, ব্যাংকগুলোর প্রদর্শित মুনাফার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। তা ছাড়া আমাদের দেশের শেয়ারবাজারের সিংহভাগ বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অবলম্বনের চেয়ে নিয়মিত লেনদেন বা ট্রেডিংয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর মুনাফা বাড়লেও খেলাপি ঋণের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হওয়ায় সে তুলনায় লভ্যাংশের হার বাড়েনি, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা আশানুরূপ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আদালত: প্রসিকিউটর

error: Content is protected !!

সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকের শেয়ার, তবু বিনিয়োগে আগ্রহ কম

আপডেট টাইম : ৬০ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির বা খাতের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও যত কম থাকে, সেটিতে ঝুঁকিও তত কম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মানদণ্ডে বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ার সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই খাতের শেয়ারের গড় পিই রেশিও বেশ কম রয়েছে। তা সত্ত্বেও সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাতের শেয়ারের প্রতি কোনো উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকি কম থাকলেও ব্যাংক খাতের সামগ্রিক পরিবেশ ও আস্থার সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা দূরে সরে থাকছেন। অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনার কারণে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে অধিকাংশ ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে গভীর সংশয় রয়েছে। এছাড়া অনেক ভালো মানের ব্যাংকও তাদের মূল ব্যবসায় কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ব্যাংকের মুনাফা বাড়লেও তার বড় অংশই এসেছে মূলত সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে, যা মূলত সাময়িক আয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা ৫টি ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত রয়েছে এবং এগুলোর শেয়ারের দাম শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ও নানা অনিয়মের কারণে বড় লোকসানে থাকা আরও ৭টি ব্যাংকের পিই রেশিও প্রকাশ করা হয়নি। নিয়মিত আয়ের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত ২৪টি ব্যাংকের হিসাব কষে দেখা গেছে, এর মধ্যে যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকের পিই রেশিও সবচেয়ে কম রয়েছে এবং অন্তত ১১টি ব্যাংকের এই অনুপাত পাঁচের নিচে অবস্থান করছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, ব্যাংকগুলোর প্রদর্শित মুনাফার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। তা ছাড়া আমাদের দেশের শেয়ারবাজারের সিংহভাগ বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অবলম্বনের চেয়ে নিয়মিত লেনদেন বা ট্রেডিংয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর মুনাফা বাড়লেও খেলাপি ঋণের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হওয়ায় সে তুলনায় লভ্যাংশের হার বাড়েনি, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা আশানুরূপ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।