প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন পোর্টালের উপজেলা প্রতিনিধি পরিচয়ে কিছু কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে অপতৎপরতা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রতি সপ্তাহেই শিবগঞ্জের বিভিন্ন সাংবাদিক বগুড়া সদরসহ আশপাশের উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার কিছু ব্যক্তি নিজেদের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে হঠাৎ উপস্থিত হচ্ছেন। তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভিডিও ধারণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। পরে এসব সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতি সপ্তাহেই শিবগঞ্জ থেকে কয়েকজন সাংবাদিক বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারি দপ্তরে আসছেন। অনেক সময় তারা কোনো পূর্ব অনুমতি ছাড়াই অফিসে ঢুকে পড়েন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ভিডিও ধারণ করেন। এতে সরকারি কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বগুড়া সদর উপজেলার ৪নং এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই শিবগঞ্জের কিছু সাংবাদিক বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারি দপ্তরে আসছেন। তারা হঠাৎ করেই অফিসে প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ করেন এবং নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তারা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ রায়হান আলী বলেন,
“সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালমান কবির হৃদয় বলেন, “এক উপজেলার প্রতিনিধি হয়ে অন্য উপজেলায় গিয়ে এভাবে ক্যামেরা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রতিনিধিদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।”
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, “কিছু কথিত সাংবাদিকের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষায় এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আপেল বলেন, “সাংবাদিকতার নামে কেউ যেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
সচেতন মহল মনে করছে, সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক পেশা। এই পেশার মর্যাদা রক্ষায় অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা পাবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিন্ট

বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক রিপোর্ট 


















