নাঈমুল ইসলামঃ
অদম্য ইচ্ছেশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মতান্ত্রিক অধ্যাবসায় থাকলে যে গ্রামীণ পরিবেশ থেকেও দেশের সর্বোচ্চ বিচারবিভাগীয় পদে পৌঁছানো সম্ভব, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেতগাড়ী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান জনাব খালেকুজ্জামান। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সফলতার সাথে তিনি সিভিল জজ / জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যে তাঁকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ফুলেল ভালোবাসা জানিয়েছে স্থানীয় যুব সংগঠন ‘মানবতার দিশারী যুব ফাউন্ডেশন’।
কোনো রকম জাঁকজমকপূর্ণ বা আনুষ্ঠানিক সভা ছাড়াই সম্প্রতি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: জীবন আহম্মদ-এর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের সদস্যবৃন্দ সরাসরি কৃতি সন্তান খালেকুজ্জামানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান।
স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে খালেকুজ্জামান বলেন, সাধারণ এক গ্রামীণ পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা এবং বেতগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় পথটি মোটেও সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি পড়াশোনায় কখনো মনোযোগ হারাননি। প্রতিদিনের রুটিন মেনে চলা, শিক্ষকমণ্ডলীর আদর্শ ও নিখাদ নির্দেশনায় নিজেকে গড়ে তোলার সেই দিনগুলোই তাঁর আজকের এই অবস্থানের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। বিদ্যালয়ের সেই পুরোনো দিনগুলো ও শিক্ষকদের অবদানকে তিনি পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
”সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; বরং আমার বাবা-মা, শিক্ষকবৃন্দ এবং আমার এলাকার প্রতিটি মানুষের দোয়ার ফসল। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকে যারা বড় স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়, আমার এই সাফল্য যেন তাদের বুকভরা সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়। সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আমি দেশের মানুষের সেবা করতে চাই।”
মানবতার দিশারী যুব ফাউন্ডেশনের এগিয়ে আসা:
এদিকে, স্থানীয় যুব সমাজের এই কীর্তিমান সন্তানকে উৎসাহ জোগাতে ও তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে এগিয়ে এসেছে ‘মানবতার দিশারী যুব ফাউন্ডেশন’। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা অতিথি ছাড়া একান্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই শুভেচ্ছা বিনিময় প্রসঙ্গে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: জীবন আহম্মদ বলেন- ”আমাদের বেতগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের এই কৃতি শিক্ষার্থী আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা পুরো গংগাচড়ার জন্য এক ঐতিহাসিক গৌরব। অনেক সময় মেধাবী তরুণেরা অর্থাভাব বা সঠিক পরিচর্যার অভাবে পিছিয়ে পড়ে। খালেকুজ্জামানের এই লড়াই ও সাফল্য প্রমাণ করে যে ইচ্ছা থাকলে বাধা জয় করা যায়। ‘মানবতার দিশারী যুব ফাউন্ডেশন’ সবসময় এলাকার এমন মেধাবী ও পরিশ্রমী তরুণদের পাশে থাকতে এবং তাদের উৎসাহিত করতে বদ্ধপরিকর।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে খালেকুজ্জামানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং বিচারক হিসেবে তাঁর আগামী দিনগুলো যেন সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে কাটতে পারে, সেই প্রার্থনা করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান 
নাঈমুল ইসলাম, রংপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি 




















