ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

যে সেলিব্রিটিকে কখনো দেখিনি, তাঁর জীবন নিয়ে এত আগ্রহ কেন

ফিচার ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে অনেক মানুষই এমন কোনো সেলিব্রিটি বা তারকার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন, যাঁদের সঙ্গে বাস্তব জীবনে তাঁদের কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। দূরদূরান্তের এই বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা প্রতিদিনের আপডেট জানার এক অদ্ভুত আগ্রহ কাজ করে ভক্তদের মনে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের একতরফা মানসিক সংযুক্তি মূলত মানুষের সহজাত সামাজিক প্রবৃত্তি থেকেই জন্ম নেয়। যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের অজান্তেই তার পছন্দের তারকার সঙ্গে একটি অদৃশ্য আবেগী সেতু তৈরি করে ফেলেন।

মনোবিজ্ঞান এই বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক বা একতরফা সামাজিক সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করে থাকে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো এমন এক ব্যক্তির প্রতি আসক্তি, যিনি হয়তো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন, কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে ভক্তদের চেনেন না। ভক্তরা যখন নিয়মিত ওই তারকার কাজ, সাক্ষাৎকার বা ছবি দেখেন, তখন ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে একটি পরিচিতির মোহ তৈরি হয়। এর ফলে তারকাটিকে নিজের জীবনের অত্যন্ত কাছের কেউ বলে ভুল করতে শুরু করেন ভক্তরা।

এ ধরনের মানসিক সম্পর্কের পেছনে আধুনিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটকের কল্যাণে তারকারা এখন ভক্তদের অনেক বেশি কাছাকাছি চলে এসেছেন, যা এই প্যারাসোশ্যাল মিথস্ক্রিয়াকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তারকারাও তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন, যার ফলে ভক্তদের মনে একটি ঘনিষ্টতার ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। তারা মনে করতে শুরু করেন যে তাঁরা তারকাটির সুখ-দুঃখ এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের সঙ্গী।

যদিও এই ধরনের সম্পর্ক একতরফা, তবুও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে এর নানা ধরনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। অনেক সময় অচেনা তারকার এই জীবনযাত্রা মানুষকে একঘেয়েমি জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি দেয় এবং অনুপ্রেরণা জোগায়। তবে অতিরিক্ত মোহগ্রস্ততা বা আচ্ছন্নতা অনেক সময় বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তারকার প্রতি ভালোবাসা ও কৌতূহল একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখাই মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে ভালো।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

যে সেলিব্রিটিকে কখনো দেখিনি, তাঁর জীবন নিয়ে এত আগ্রহ কেন

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ফিচার ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে অনেক মানুষই এমন কোনো সেলিব্রিটি বা তারকার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন, যাঁদের সঙ্গে বাস্তব জীবনে তাঁদের কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। দূরদূরান্তের এই বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা প্রতিদিনের আপডেট জানার এক অদ্ভুত আগ্রহ কাজ করে ভক্তদের মনে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের একতরফা মানসিক সংযুক্তি মূলত মানুষের সহজাত সামাজিক প্রবৃত্তি থেকেই জন্ম নেয়। যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের অজান্তেই তার পছন্দের তারকার সঙ্গে একটি অদৃশ্য আবেগী সেতু তৈরি করে ফেলেন।

মনোবিজ্ঞান এই বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক বা একতরফা সামাজিক সম্পর্ক হিসেবে অভিহিত করে থাকে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো এমন এক ব্যক্তির প্রতি আসক্তি, যিনি হয়তো গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন, কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে ভক্তদের চেনেন না। ভক্তরা যখন নিয়মিত ওই তারকার কাজ, সাক্ষাৎকার বা ছবি দেখেন, তখন ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে একটি পরিচিতির মোহ তৈরি হয়। এর ফলে তারকাটিকে নিজের জীবনের অত্যন্ত কাছের কেউ বলে ভুল করতে শুরু করেন ভক্তরা।

এ ধরনের মানসিক সম্পর্কের পেছনে আধুনিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটকের কল্যাণে তারকারা এখন ভক্তদের অনেক বেশি কাছাকাছি চলে এসেছেন, যা এই প্যারাসোশ্যাল মিথস্ক্রিয়াকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তারকারাও তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন, যার ফলে ভক্তদের মনে একটি ঘনিষ্টতার ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়। তারা মনে করতে শুরু করেন যে তাঁরা তারকাটির সুখ-দুঃখ এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের সঙ্গী।

যদিও এই ধরনের সম্পর্ক একতরফা, তবুও মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে এর নানা ধরনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। অনেক সময় অচেনা তারকার এই জীবনযাত্রা মানুষকে একঘেয়েমি জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি দেয় এবং অনুপ্রেরণা জোগায়। তবে অতিরিক্ত মোহগ্রস্ততা বা আচ্ছন্নতা অনেক সময় বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তারকার প্রতি ভালোবাসা ও কৌতূহল একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখাই মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে ভালো।