ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া: ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের পানিতেও আর্সেনিক

জাতীয় ডেস্ক: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত সরকারি প্রকল্পে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে। ডিপিএইচই প্রকল্পের আওতায় এই উপজেলায় সহস্রাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগের পানিতেই মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রন। কোথাও কোথাও নলকূপের পানি এতটাই দূষিত যে তা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে এবং পান করার সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ পানির আশায় সরকারি নিয়ম মেনে ও নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে এই নলকূপগুলো স্থাপন করলেও এখন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের অধীনে সাটুরিয়ায় এক হাজার ১৭০টি সাবমারসিবল গভীর নলকূপ এবং ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর জন্য মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু সম্প্রতি পানির নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে প্রায় ৬০ শতাংশ নলকূপের পানিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর আর্সেনিক ও আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। দরগ্রাম, বালিয়াটি ও সাটুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, নলকূপের সেই পানি দিয়ে গোসল বা কাপড় ধোয়া পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এতে সাদা কাপড়ে হলুদ দাগ পড়ে যাচ্ছে এবং ত্বক ও স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং নির্ধারিত গভীরতা বজায় না রেখেই এসব নলকূপ স্থাপন করেছে। অনেক স্থানে ৫০০ ফুট গভীরে পাইপ বসানোর কথা থাকলেও মাত্র সাড়ে তিনশ থেকে চারশ ফুট পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি ব্যাংকে নির্দিষ্ট ফি জমা দেওয়ার পরও ঠিকাদারের লোকজন নলকূপ প্রতি অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে ভালো মানের পানি পাওয়া যাবে না বলে উপকারভোগীদের নানাভাবে হুমকি ও প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত এই পানি পান করলে মানবদেহে চর্মরোগ, ফুসকুড়ির পাশাপাশি ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া কিডনি ও লিভারের জটিল সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আজিজুল হাকিম দাবি করেছেন যে সাটুরিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক না থাকায় সব এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত পানি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নির্ধারিত শিডিউল ও নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

error: Content is protected !!

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া: ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের পানিতেও আর্সেনিক

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত সরকারি প্রকল্পে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে। ডিপিএইচই প্রকল্পের আওতায় এই উপজেলায় সহস্রাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগের পানিতেই মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রন। কোথাও কোথাও নলকূপের পানি এতটাই দূষিত যে তা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে এবং পান করার সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ পানির আশায় সরকারি নিয়ম মেনে ও নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে এই নলকূপগুলো স্থাপন করলেও এখন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের অধীনে সাটুরিয়ায় এক হাজার ১৭০টি সাবমারসিবল গভীর নলকূপ এবং ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর জন্য মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু সম্প্রতি পানির নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে প্রায় ৬০ শতাংশ নলকূপের পানিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর আর্সেনিক ও আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। দরগ্রাম, বালিয়াটি ও সাটুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, নলকূপের সেই পানি দিয়ে গোসল বা কাপড় ধোয়া পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এতে সাদা কাপড়ে হলুদ দাগ পড়ে যাচ্ছে এবং ত্বক ও স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং নির্ধারিত গভীরতা বজায় না রেখেই এসব নলকূপ স্থাপন করেছে। অনেক স্থানে ৫০০ ফুট গভীরে পাইপ বসানোর কথা থাকলেও মাত্র সাড়ে তিনশ থেকে চারশ ফুট পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি ব্যাংকে নির্দিষ্ট ফি জমা দেওয়ার পরও ঠিকাদারের লোকজন নলকূপ প্রতি অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে ভালো মানের পানি পাওয়া যাবে না বলে উপকারভোগীদের নানাভাবে হুমকি ও প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত এই পানি পান করলে মানবদেহে চর্মরোগ, ফুসকুড়ির পাশাপাশি ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া কিডনি ও লিভারের জটিল সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আজিজুল হাকিম দাবি করেছেন যে সাটুরিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক না থাকায় সব এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত পানি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নির্ধারিত শিডিউল ও নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।