ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র নানা অনিয়মের অভিযােগের খবর পেয়ে আকস্মিক ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। এসময় বহির্বিভাগে কোন কারন ছাড়াই অনুপস্থিত মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের ২ কনসালটেন্ট কে শোকজের নির্দেশ ও দিয়েছেন।
শনিবার (২৫ শে এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে তিনি পরিদর্শনে আসেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় তিন ঘন্টা ব্যাপী অবস্থান করে নানা অনিয়ম ব্যাপক দূর্নীতি বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা সর্ম্পকে ভুক্তভােগি সাধারণ জনগণ,রাজনৈতিকনেতা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মাৌখিকবাবে অভিযােগ করেন।
২৪শে এপ্রিল শুক্রবার রাতে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সৃষ্ট মনোমালিন্য নিরসনের জন্যই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান এই ঝটিকা পরিদর্শনে এসেছিলেন বলে জানান সাংবাদিকদের।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র নানা অনিয়মের অভিযােগের এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি সেগুলোর সত্যতা স্বীকার করেন তা অতি দ্রুত নিরসনের আশ্বাস ও দেনতিনি। এসময় সাংবাদিকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে ৩ জন কনসালটেন্টের মধ্যে একজন উপস্থিত থাকলেও বাকি দুজন কোন কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, দুজন কনসালটেন্ট সপ্তাহে ৩-৪ দিন করে আর একজন ৪-৫ দিন করে আসেন।
কিন্তু বিগত দুমাস ধরে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনুসন্ধান করে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।সেখানে মেডিসিনের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার কাজী নাজমুল হক শাওন সপ্তাহে রবি, সোম, বৃহ:স্পতি এই তিন দিন বহির্বিভাগে রোগী দেখেন।কিন্তু শনিবার তিনি ফিঙ্গার ও হাজিরা স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডাক্তার মো: ইকরামুল হক সপ্তাহে রবি ও বুধ এই দুই দিন আসেন এবং অর্থোপেডিক্স কনসালটেন্ট ডাক্তার মোঃ ওবায়দুর রহমান রবি ও বুধবার বাদে সপ্তাহে চারদিন আসেন। কিন্তু হাজিরা খাতায় উপস্থিতি স্বাক্ষরে গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া ও অনুসন্ধানে উঠে আসে, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের ইসিজি করাতে বাহির থেকে ইসিজি মেশিন এনে জনপ্রতি ২৬০ টাকা করে নেয়া হয়। বিষ খাওয়া রোগীর বিষ তোলার ক্ষেত্রে এখানে রোগী প্রতি ২-৩ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্যাপাসিটির দোহাই দিয়ে জেনারেটর চালানো হয় না। রোগীদেরকে হাসপাতাল থেকে প্রদেয় অস্থায়ী বেডশীট না দেয়ার অভিযোগ ও পাওয়া গেছে। এছাড়াও রোগীদের কে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাওয়ার সামগ্রী প্রদান না করার অভিযোগ ও উঠে এসেছে।
নওদা পাড়ার ইদ্রিস আলীর মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন জানান, তার নিজের বিষ তুলতে ২ হাজার টাকা নিয়ে নিয়েছে হাসপাতাল লোকজন।
মোহন ইসলাম জানান, তার নিজের ও তার মায়ের ইসিজি করার জন্য বাহির থেকে মেশিন এনে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনি বারংবার চেষ্টা করেও তাদের রুখতে পারেননি।
আজ ২৫ এপ্রিল,শনিবার উপজেলার পরানখালি গ্রাম থেকে সেবা নিতে আসা আরিফা সুলতানা জানান, ‘বহির্বিভাগে এসেছি মেডিসিন ডাক্তার দেখাবো বলে তিনি নাই। আমার সাথে আরও দুজন এসেছে ডাক্তার দেখাবে বলে, সে ডাক্তারও আজকে আসেনি। কয়দিন থেকে ঘুরছি কোন লাভ হচ্ছে না। উপরিউক্ত তথ্যসমূহ তুলে ধরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে প্রশ্ন করলে তিনি চুপ থাকেন।
এসময় স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাক্তার জাহিদ রায়হান বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করতে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার এস এম কামাল হোসেন ও উপজেলা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, এরপরেও যদি এগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে, তাহলে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বিধি মোতাবেক প্রতিটি কনসালটেন্ট কে ছয় দিন অফিস করার নির্দেশনা দেন। সরকারি নির্দেশ অমান্য কারীদের কে শোকজ করার ও নির্দেশনা দেন।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ 
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 

















