আসাদুর রহমান হাবিব:
বাংলাদেশ পুলিশের মতো কঠিন ও দায়িত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত থেকেও ডিউটির ফাঁকে পশুপাখি লালনপালন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল মুন্সি আব্দুল হামিদ। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সহকর্মীদের নজর কেড়েছে।
পুলিশের চাকরি এমনিতেই চ্যালেঞ্জিং, তার ওপর কনস্টেবল পদে দায়িত্ব পালন আরও কঠিন। তবুও দীর্ঘদিন ধরে নিজের বেতনের একটি অংশ সঞ্চয় করে পাখিদের জন্য আবাসস্থল তৈরি ও খাবারের ব্যবস্থা করে আসছেন তিনি। ডিউটির পাশাপাশি সময় বের করে নিয়মিত নিজ হাতে পাখিদের খাবার খাওয়ান এবং তাদের যত্ন নেন।
শুধু লালনপালনেই সীমাবদ্ধ নন, কনস্টেবল আব্দুল হামিদ পাখি সংরক্ষণেও সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন। নির্বিচারে পাখি শিকার ও নিধন বন্ধে তিনি স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করছেন এবং পাখিদের জন্য নিরাপদ অভয়ারণ্য গড়ে তুলতেও উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে। প্রায় ৩৯ বছরের চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যতটুকু সময় পেয়েছেন, তা কাজে লাগিয়েছেন পশুপাখি লালনপালনে।
তিনি বলেন, “আমি বিভিন্ন জাতের কবুতর পালন করি—গিরিবাজ, অস্ট্রেলিয়ান, বার্মা, পাকিস্তানি, আফ্রিকান সুইট, ঢাকাইয়া গোলা, ভারতীয়, চট্টগ্রামীসহ দেশীয় পায়রা। বছরের পর বছর এদের পেছনে খরচ হলেও ভেতরে এক ধরনের তৃপ্তি কাজ করে। এদের মধ্যে কিছু প্রশিক্ষিত পাখি আছে—ডাক দিলে উড়ে আসে, আবার ছেড়ে দিলে আকাশে উড়াল দিয়ে নাম ধরে ডাকলে ফিরে আসে।”
তিনি আরও জানান, কবুতরগুলো বাচ্চা দিলে তিনি ভীষণ আনন্দ পান। তাঁর সহকর্মীরাও পাখিগুলোর সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। নিজ বাড়িতেও তিনি একইভাবে কবুতর পালন করছেন।
অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “খরচের তুলনায় বাচ্চা বিক্রি করে মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। কেউ যদি এই উদ্যোগ নিতে চান, তাহলে উন্নত জাতের ২০ জোড়া কবুতর দিয়ে শুরু করতে পারেন। শুরুতে কিছু খরচ থাকলেও একসময় এটি লাভজনক হয়ে উঠবে।”
পাখিপ্রেমী এই পুলিশ সদস্যের উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই তাঁর পথ অনুসরণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ 
আসাদুর রহমান হাবিব, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 

















