ঢাকা , সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ভেড়ামারায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টি নেই, ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন

-প্রচন্ড গরম মানুষ সহ অন্যান্য সকল প্রানীর বেঁচে থাকার প্রশান্তির জন্য পানির সন্ধানে।

প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। প্রশান্তির জন্য একটুখানি ছায়ার সন্ধানে শ্রমজীবী মানুষ। গত কয়েক দিনের টানা দাবদাহে অতিষ্ঠ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মানুষ।গরমের তীব্রতায় ছোটবড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস শুরু হয়েছে জনজীবন। বাসা থেকে বের হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রোদের খরতাপে অসহনীয় অবস্থায় পড়ছেন তাঁরা। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। যাঁরা ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করেন, রোদের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে তাঁরা কম লাভে দ্রুত পণ্য বিক্রি করে বাসার পথ ধরছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে খাল-বিলসহ মাটি।

গত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে ভেড়ামারায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়নি। আষাঢ় মাসের আজ ২ তারিখ। কােন রকম বৃষ্টিপাত নেই।ভেড়ামারায়
সপ্তাহখানেক ধরে তাপমাত্রা থাকছে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। আবহাওয়া দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, আষাঢ় মাসের আজ ২তারিখ (১৬জুন)শুক্রবার ভেড়ামারায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই তাপমাত্রায়ও সমস্যা হতো না যদি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতো। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে পুঞ্জিভূত তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে গরমের অনুভূতি।

এদিকে হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে ডায়রিয়া রোগীর চাপ অত্যাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওযার কারনে গত কয়েক দিন ধরে বেলা বাড়ার সাথে-সাথেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। লোকজন অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সব মানুষের। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাপপ্রবাহে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভেড়ামারার শ্রমজীবী মানুষ। এ উপজেলায় তীব্র গরম ও রোদের তাপে কৃষি শ্রমিকসহ দিনমজুর, রিকশাচালকরা কাজ করতে পারছে না। এই অবস্থায় সরবতসহ পানীয় জাতিয় দোকানে ভীর করছেন লোকজন।

দিন মজুর শরিফুল ইসলাম সাগর বলেন, এমন গরম জীবনে দেখিনি, সব যেন পুড়ে যাচ্ছে। ঘরের মধ্যেও স্বস্তিতে থাকতে পারছিনা। লোড শেডিং এ রাতে ঘুমাতে পারছিনা, গরমে দম যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রচন্ড গরমে নাজেহাল শিশু-বৃদ্ধ। এই অবস্থায় একটু রেহাই পেতে একমাত্র ভরসা ফলের রস বা শরবত। অতিরিক্ত গরমে শরীর-মন ঠান্ডা রাখতে সাহায করছে শরবত। চিকিৎসকদের পরামর্শ পুরুষদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩.৭ লিটার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.৭ লিটার জল শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই অনেকেই গরমে অস্বস্তি কমাতে বিভিন্ন রকম শরবত পান করেন।

চিকিৎসক ডা: সাজেদুর রহমান সাজু বলছেন, প্রচন্ড গরমে মানুষ অনেক ঘামচ্ছে। শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই গরম মোকাবেলা করতে হলে বেশি বেশি করে পানি খাওয়ার জন্য জনগণকে বলছেন।

ভেড়ামারা হাসপাতালে কর্মরত জোৎস্না বেগমের ভাষায়, গরমে যেন দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, মনে হয় পড়ে কহন যেন মরে যাব।

 

 

দিনমজুর লালন শাহ বলেন, কাজ করতি পারতিছি না। পুকুরে নামেও শান্তি নেই, গরমে পুকুরের পানি যেন ফুঁটছে, জম্মের গরম, নামা যায় না, গোসল করা যায় না। তাই সকালে আর রাত্রিরে গোসল করি, তা করলি কি হবে, একটু পরেই যা তাই, গা ঘামতে থাকে।

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি কামরুজ্জামান রতন

error: Content is protected !!

ভেড়ামারায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টি নেই, ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন

আপডেট টাইম : ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩
ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ :

প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। প্রশান্তির জন্য একটুখানি ছায়ার সন্ধানে শ্রমজীবী মানুষ। গত কয়েক দিনের টানা দাবদাহে অতিষ্ঠ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মানুষ।গরমের তীব্রতায় ছোটবড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস শুরু হয়েছে জনজীবন। বাসা থেকে বের হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রোদের খরতাপে অসহনীয় অবস্থায় পড়ছেন তাঁরা। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। যাঁরা ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করেন, রোদের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে তাঁরা কম লাভে দ্রুত পণ্য বিক্রি করে বাসার পথ ধরছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে খাল-বিলসহ মাটি।

গত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে ভেড়ামারায় ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়নি। আষাঢ় মাসের আজ ২ তারিখ। কােন রকম বৃষ্টিপাত নেই।ভেড়ামারায়
সপ্তাহখানেক ধরে তাপমাত্রা থাকছে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। আবহাওয়া দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, আষাঢ় মাসের আজ ২তারিখ (১৬জুন)শুক্রবার ভেড়ামারায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই তাপমাত্রায়ও সমস্যা হতো না যদি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতো। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে পুঞ্জিভূত তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে গরমের অনুভূতি।

এদিকে হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে ডায়রিয়া রোগীর চাপ অত্যাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওযার কারনে গত কয়েক দিন ধরে বেলা বাড়ার সাথে-সাথেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। লোকজন অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সব মানুষের। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকায় গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাপপ্রবাহে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভেড়ামারার শ্রমজীবী মানুষ। এ উপজেলায় তীব্র গরম ও রোদের তাপে কৃষি শ্রমিকসহ দিনমজুর, রিকশাচালকরা কাজ করতে পারছে না। এই অবস্থায় সরবতসহ পানীয় জাতিয় দোকানে ভীর করছেন লোকজন।

দিন মজুর শরিফুল ইসলাম সাগর বলেন, এমন গরম জীবনে দেখিনি, সব যেন পুড়ে যাচ্ছে। ঘরের মধ্যেও স্বস্তিতে থাকতে পারছিনা। লোড শেডিং এ রাতে ঘুমাতে পারছিনা, গরমে দম যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রচন্ড গরমে নাজেহাল শিশু-বৃদ্ধ। এই অবস্থায় একটু রেহাই পেতে একমাত্র ভরসা ফলের রস বা শরবত। অতিরিক্ত গরমে শরীর-মন ঠান্ডা রাখতে সাহায করছে শরবত। চিকিৎসকদের পরামর্শ পুরুষদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩.৭ লিটার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.৭ লিটার জল শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই অনেকেই গরমে অস্বস্তি কমাতে বিভিন্ন রকম শরবত পান করেন।

চিকিৎসক ডা: সাজেদুর রহমান সাজু বলছেন, প্রচন্ড গরমে মানুষ অনেক ঘামচ্ছে। শরীর থেকে অনেক পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই গরম মোকাবেলা করতে হলে বেশি বেশি করে পানি খাওয়ার জন্য জনগণকে বলছেন।

ভেড়ামারা হাসপাতালে কর্মরত জোৎস্না বেগমের ভাষায়, গরমে যেন দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, মনে হয় পড়ে কহন যেন মরে যাব।

 

 

দিনমজুর লালন শাহ বলেন, কাজ করতি পারতিছি না। পুকুরে নামেও শান্তি নেই, গরমে পুকুরের পানি যেন ফুঁটছে, জম্মের গরম, নামা যায় না, গোসল করা যায় না। তাই সকালে আর রাত্রিরে গোসল করি, তা করলি কি হবে, একটু পরেই যা তাই, গা ঘামতে থাকে।