ইসমাইল হোসেন বাবুঃ
ফরহাদ মজহার সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের জানাজায় উপস্থিত থেকে বললেন, পাকিস্তান আমলে লালন সঙ্গীত ছিল পল্লী সঙ্গীত। এ দায়টা ছিল কুষ্টিয়ার।কারণ সাধু গুরুরা ছিল কুষ্টিয়ার। এটা একান্তই কুষ্টিয়া। কুষ্টিয়ার নাম ছিল নদিয়া। ফকির লালন জানে কিতা, নদিয়ার ভাবের কথা। নদিয়ার বিশাল ভাবের জগতটা একেবারে অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিল। ফরিদা পারভীনের মাধ্যমে এ জিনিষটা সামনে এসেছিল।
আমরা যখন বুঝতে শিখলাম, ফকির লালন শাহ পল্লী গীতি নন, উনি পল্লী গায়কও নন, উনি শুধুমাত্র গীতিকার নন, বাংলার দর্শনের জগতের শিরমনি ছিলেন। বাংলার ভাব ধারার রূপান্তরে লালনের অবদান অসামান্য। সেটা যিনি আমাদের ধরিয়ে দিয়েছেন তিনি ফরিদা পারভীন। ফরিদা পারভীনের গানের গায়কী, গানের ভঙ্গি, সাধু জগতে পরিচিত করেছে। সাধু জগতে ভাব সঙ্গীতের যে সুতাটা ছিড়ে গিয়েছিল সেটা ফরিদা পারভীন বেঁধে দিয়েছিল। এটা অসামান্য।
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, ‘তার চলে যাওয়ার ক্ষতি পূরণ হবার নয়। ফরিদা পারভীন একটা ধারা তৈরি করে দিয়েছেন। যেই ধারা থেকে আমরা গড়ে উঠেছি। কুষ্টিয়াবাসীর জন্য সত্যিকার অর্থেই আজ দুঃখের দিন। কুষ্টিয়াকে সত্যিকার অর্থেই আমরা সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এটা হবে উপমহাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক নগরী। সেই ভিত্তিটা ফরিদা পারভীন তৈরি করে গেছেন।’
ফরিদা পারভীনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তানের খাদেম নুরু। তিনি বলেন, ‘শিল্পী ফরিদা পারভীনের বাবা কুষ্টিয়া হাসপাতালে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে ছোটবেলায় তিনি কুষ্টিয়ায় বেড়ে উঠেছেন। আমরা একই এলাকার মানুষ ছিলাম। ছোটবেলায় আমরা ফরিদা পারভীনের সঙ্গে খেলাধুলা করতাম। সমবয়সী হওয়ায় আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। বড় হওয়ার পর তিনি কুষ্টিয়ার বাইরে চলে যান, এজন্য যোগাযোগ ছিল না। তবে দেখা হলে আমাদের কথা হতো।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনকে শেষ বিদায় জানাতে এসে বিশিষ্ট লেখক ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার এ মন্তব্য করেন। পরে তিনি সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের জানাজা নামাজে অংশ নেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 



















