ঢাকা , রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বোয়ালমারীতে শিক্ষার্থীর গলা চেপে ধরলেন শিক্ষক, প্রশ্নফাঁসসহ নানান অভিযোগ

এস. কে বাবুলঃ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।

 

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়ামুল হাসান পরশের মা সখিনা খানম আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মহসীন আলমের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অভিযোগ আনেন।

 

অভিভাবকের দাবি, গত ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ফিজিক্স ক্লাসের সময়ে শিক্ষক মহসীন আলম তার ছেলের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এ সময় শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরেন।

 

এ সময় শিক্ষকের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিভাবক আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক তার ছেলেকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার সময় গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এতে তার ছেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

 

অন্যদিকে, একই দিন সোমবার কয়েকজন অভিভাবকের স্বাক্ষর করা পৃথক অভিযোগে শিক্ষক মহসীন আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তি সৃষ্টি, শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি এবং পরীক্ষার খাতায় অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই শিক্ষক নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের গণিত পড়ান। ক্লাসে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো এবং তার পরিচালিত কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। পরীক্ষার আগের দিন কোচিং সেন্টারে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

এ ছাড়া অভিযোগকারীদের দাবি, সামান্য কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে অশোভন আচরণ করেন ওই শিক্ষক। পরীক্ষার খাতায় যোগ-বিয়োগ, সংখ্যা ও বানানসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মান নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিভাবকেরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মহসীন আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় পদার্থবিজ্ঞান খাতা দেখার সময় এক শিক্ষার্থীর খাতা নিয়ে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তাঁর হাত থেকে খাতা নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাকে চড় দেন এবং পরে তিনি ওই শিক্ষার্থীর হাত ধরে আরও দুইটি চড় দিয়ে তাকে ক্লাস থেকে বের করে দেন।”

 

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ মোল্যা বলেন, “কয়েকজন অভিভাবক তাঁর কাছে মহসীন স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার ঘটনার সত্যতা দেখতে পান।” তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে অন্য একজন অভিজ্ঞ শিক্ষককে দিয়ে খাতাটি পুনরায় মূল্যায়ন করানো হবে। পুনর্মূল্যায়নের পর খাতা মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন,” উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

উল্লেখ্য অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া, নৈতিক স্খলনজনিতসহ তার কাছে প্রাইভেট না পড়া শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ আগে থেকেই ছিলো।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগাড়ী ইউপি ভবন আগের জায়গায় ফেরানোর দাবিতে গণসমাবেশ

error: Content is protected !!

বোয়ালমারীতে শিক্ষার্থীর গলা চেপে ধরলেন শিক্ষক, প্রশ্নফাঁসসহ নানান অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
এস. কে বাবুল, বিশেষ প্রতিনিধি :

এস. কে বাবুলঃ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।

 

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়ামুল হাসান পরশের মা সখিনা খানম আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মহসীন আলমের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করার অভিযোগ আনেন।

 

অভিভাবকের দাবি, গত ১৬ আগস্ট বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ফিজিক্স ক্লাসের সময়ে শিক্ষক মহসীন আলম তার ছেলের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এ সময় শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরেন।

 

এ সময় শিক্ষকের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিভাবক আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক তার ছেলেকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার সময় গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এতে তার ছেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

 

অন্যদিকে, একই দিন সোমবার কয়েকজন অভিভাবকের স্বাক্ষর করা পৃথক অভিযোগে শিক্ষক মহসীন আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তি সৃষ্টি, শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি এবং পরীক্ষার খাতায় অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই শিক্ষক নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের গণিত পড়ান। ক্লাসে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো এবং তার পরিচালিত কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। পরীক্ষার আগের দিন কোচিং সেন্টারে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

এ ছাড়া অভিযোগকারীদের দাবি, সামান্য কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে অশোভন আচরণ করেন ওই শিক্ষক। পরীক্ষার খাতায় যোগ-বিয়োগ, সংখ্যা ও বানানসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মান নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিভাবকেরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মহসীন আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় পদার্থবিজ্ঞান খাতা দেখার সময় এক শিক্ষার্থীর খাতা নিয়ে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তাঁর হাত থেকে খাতা নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাকে চড় দেন এবং পরে তিনি ওই শিক্ষার্থীর হাত ধরে আরও দুইটি চড় দিয়ে তাকে ক্লাস থেকে বের করে দেন।”

 

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ মোল্যা বলেন, “কয়েকজন অভিভাবক তাঁর কাছে মহসীন স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার ঘটনার সত্যতা দেখতে পান।” তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীর খাতা মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে অন্য একজন অভিজ্ঞ শিক্ষককে দিয়ে খাতাটি পুনরায় মূল্যায়ন করানো হবে। পুনর্মূল্যায়নের পর খাতা মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন,” উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

উল্লেখ্য অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া, নৈতিক স্খলনজনিতসহ তার কাছে প্রাইভেট না পড়া শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ আগে থেকেই ছিলো।