ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি প্রধান বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র এবং রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে একসুতোয় গেঁথে একটি সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছে সরকার। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত এই চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের উপদেষ্টা। পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবাল, অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব এবং জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিকের সঙ্গে আলাদা বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এমন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা উচিত যা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে।

দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান যে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বর্তমানের জিডিপির দুই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে সুষম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানান। জ্বালানিসংকট, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অতীতের নানা অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে এসব জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা সামলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এসব আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ ইতিবাচক অবদান রাখবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সেখানে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি হাইকমিশন চত্বরে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন, যা উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়। প্রায় অর্ধশত অধিবেশনে তিন শতাধিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

‘যে মসজিদের পাশে বড় হয়েছি, সেখান থেকেই উচ্ছেদ হতে হয়েছে’

error: Content is protected !!

বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি প্রধান বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র এবং রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে একসুতোয় গেঁথে একটি সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছে সরকার। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত এই চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের উপদেষ্টা। পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আহসান ইকবাল, অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব এবং জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিকের সঙ্গে আলাদা বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এমন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা উচিত যা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে।

দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান যে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বর্তমানের জিডিপির দুই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে সুষম উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানান। জ্বালানিসংকট, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অতীতের নানা অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে এসব জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা সামলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এসব আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ ইতিবাচক অবদান রাখবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সেখানে তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি হাইকমিশন চত্বরে একটি জামগাছের চারা রোপণ করেন, যা উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়। প্রায় অর্ধশত অধিবেশনে তিন শতাধিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।