তরিকুল ইসলাম মোস্তফাঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার এবং তাঁর এক বছরের কম বয়সী শিশুসন্তানকে জোর করে কেড়ে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবিহা আক্তার সুলতানা (২১) বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বাউফল বাজার রোডে বিডি ফেইস ২৪ ডটকম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর শিশুসন্তানকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সাবিহা আক্তার সুলতানার বাবার বাড়ি বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ইন্দ্রকুল গ্রামে। প্রায় চার বছর আগে একই ইউনিয়নের পশ্চিম ইন্দ্রকুল গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের ছেলে শিহাবের (২৬) সঙ্গে ইসলামী শরিয়ত ও কাবিনমূলে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আয়ান নামের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। শিশুটির বয়স এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি।
সাবিহার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। সম্প্রতি স্বামীর পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা বলে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের আদমজী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী শিহাব, শ্বশুর আলমগীর হাওলাদার, শাশুড়ি শেফালী বেগমসহ পরিবারের কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে তাঁর শিশুসন্তান আয়ানকে রেখে তাঁকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাবিহাকে উদ্ধার করে তাঁর বাবা সুলতান হাওলাদার হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়ি বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নে অবস্থান করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাবিহা বলেন, ‘আমার সন্তান এখনো বুকের দুধ খায়। প্রায় ১৫ দিন ধরে আমি আমার সন্তানকে চোখে দেখতে পারছি না, এমনকি ফোনেও কথা বলতে পারছি না। আমি আমার সন্তানকে আমার কোলে ফিরে পেতে চাই।’
সাবিহার বাবা সুলতান হাওলাদার বলেন, ‘নাতিকে উদ্ধারের জন্য আমি শিহাবের চাচা আনিস হাওলাদার, শিহাবের বাবা আলমগীর হাওলাদার এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চুর কাছে গিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার নাতিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। শিহাবের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিহাবের বাবা আলমগীর হাওলাদার বলেন, ‘আমরা বাচ্চাকে দিতে চেয়েছি। কিন্তু সাবিহা বাচ্চা নেয়নি।’
শিহাবের চাচা আনিস হাওলাদার বলেন, সাবিহার ‘চরিত্র ভালো নয়’ এবং স্থানীয় এক ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগের কারণে তিনি সন্তান রেখে চলে গেছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে সূর্যমনি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু উভয় পক্ষ আমার কথার মূল্য দেয়নি।’ অভিযুক্ত স্বামী শিহাবের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বাউফল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান 
তরিকুল ইসলাম মোস্তফা, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 




















