ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব

দুই মাস ধরে দোকান বন্ধ, কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

সিকদার শাহ আলম লিমনঃ

 

ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে অব্যাহত হামলা ও হুমকির মুখে পড়েছেন শতাধিক ব্যবসায়ী। ফলে তারা গত দুই মাস ধরে নিজেদের দোকানে যেতে পারছেন না। এতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা, বেকার হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলার দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষের ভয়ে খারদিয়া গ্রামের শতাধিক ব্যবসায়ী ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছেন না। টানা দুই মাস দোকান বন্ধ থাকায় প্রায় কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত ময়েনদিয়া বাজারটি এলাকার সবচেয়ে বড় হাট ও মোকাম, যেখানে প্রায় এক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের সঙ্গে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের বিএনপি সমর্থক টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার বিরোধ চলে আসছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন মান্নান মাতুব্বর। সরকার পরিবর্তনের পর তার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে টুলু ও জিহাদ মিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মান্নান মাতুব্বর পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

 

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, ওই সংঘর্ষের পর থেকেই খারদিয়া গ্রামের ব্যবসায়ীরা বাজারে যেতে পারছেন না। বাজারে গেলে মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের হামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

 

ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মিনহাজ ট্রেডার্সের মালিক মো. ফায়েক বলেন, “দুই মাস ধরে দোকানে যেতে পারছি না। এতে আমার সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু আমি নয়, শতাধিক ব্যবসায়ী একই সমস্যায় ভুগছেন।”

 

কাপড় ব্যবসায়ী আকরাম শিকদার বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষে আমাদের কোনো দোষ নেই। তবুও আমাদের দোকান খুলতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমরা পথে বসার উপক্রম হয়েছি।”

 

অন্যদিকে, বাজারের ইজারাদার টুলু মিয়া অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের পর থেকে তিনি ইজারার টাকা তুলতে পারছেন না। তার লোকজন বাজারে গেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মান্নান মাতুব্বরের পরিবারের সদস্যরা। তার ভাতিজা শাহিন মিয়া দাবি করেন, বাজারে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চলছে এবং কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

 

এদিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের বিরোধ চলছে এবং এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

 

তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা চলছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন, সে বিষয়ে পুলিশ বদ্ধপরিকর। কাউকে হুমকি বা বাধা দেওয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব

আপডেট টাইম : ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
সিকদার শাহ আলম লিমন, ফরিদপুর :

সিকদার শাহ আলম লিমনঃ

 

ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে অব্যাহত হামলা ও হুমকির মুখে পড়েছেন শতাধিক ব্যবসায়ী। ফলে তারা গত দুই মাস ধরে নিজেদের দোকানে যেতে পারছেন না। এতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা, বেকার হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলার দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষের ভয়ে খারদিয়া গ্রামের শতাধিক ব্যবসায়ী ময়েনদিয়া বাজারে থাকা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছেন না। টানা দুই মাস দোকান বন্ধ থাকায় প্রায় কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত ময়েনদিয়া বাজারটি এলাকার সবচেয়ে বড় হাট ও মোকাম, যেখানে প্রায় এক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের সঙ্গে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের বিএনপি সমর্থক টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার বিরোধ চলে আসছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন মান্নান মাতুব্বর। সরকার পরিবর্তনের পর তার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে টুলু ও জিহাদ মিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে নেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মান্নান মাতুব্বর পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

 

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, ওই সংঘর্ষের পর থেকেই খারদিয়া গ্রামের ব্যবসায়ীরা বাজারে যেতে পারছেন না। বাজারে গেলে মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের হামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

 

ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মিনহাজ ট্রেডার্সের মালিক মো. ফায়েক বলেন, “দুই মাস ধরে দোকানে যেতে পারছি না। এতে আমার সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু আমি নয়, শতাধিক ব্যবসায়ী একই সমস্যায় ভুগছেন।”

 

কাপড় ব্যবসায়ী আকরাম শিকদার বলেন, “দুই পক্ষের সংঘর্ষে আমাদের কোনো দোষ নেই। তবুও আমাদের দোকান খুলতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমরা পথে বসার উপক্রম হয়েছি।”

 

অন্যদিকে, বাজারের ইজারাদার টুলু মিয়া অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের পর থেকে তিনি ইজারার টাকা তুলতে পারছেন না। তার লোকজন বাজারে গেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মান্নান মাতুব্বরের পরিবারের সদস্যরা। তার ভাতিজা শাহিন মিয়া দাবি করেন, বাজারে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চলছে এবং কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

 

এদিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের বিরোধ চলছে এবং এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

 

তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা চলছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন, সে বিষয়ে পুলিশ বদ্ধপরিকর। কাউকে হুমকি বা বাধা দেওয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রিন্ট