ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন, এখন দুঃস্বপ্নে নন্দিতা বিশ্বাস

বাদশাহ মিয়াঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নন্দিতা বিশ্বাস (১৭) এর স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে একদিন পুলিশে যোগদান করা। দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সেই স্বপ্ন বুকে ধারণ করে চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি নিরলসভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে।
নন্দিতা উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম গ্রামের মৃত শ্যামলাল বিশ্বাসের বড় মেয়ে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর থেকেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। মা ও তিন ভাইবোনের সংসারে দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী।

 

তার মা উন্নতি বিশ্বাস কলিগ্রাম মোড়ে মাসে ৪০০ টাকা ভাড়ায় একটি ঝুপড়ি ঘরে চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। মাকে সহযোগিতা করতে নন্দিতাও দোকানে বসে চা বিক্রি করে এবং সেখানেই সময় পেলেই পড়াশোনা করে।

 

নন্দিতা জলিরপাড় জে.কে.এম.বি. মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ছোট বোন একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে এবং ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।

 

পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস চায়ের দোকান হওয়ায় ঠিকমতো খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মা ছোট দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে নন্দিতা তার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এমনকি বিদ্যালয়ে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি থাকলেও তিন ভাইবোনের কেউই সেই সুবিধা পায়নি।

 

নন্দিতা বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন পুলিশে চাকরি করা। দেশের সেবা করার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। বাবাকে হারানোর পর জমিজমা কিছুই নেই। তাই বাধ্য হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি চা বিক্রি করি। কিন্তু এতে আমাদের খরচ চলে না। মা আমার ছোট ভাইবোনের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং আমাকে পড়াশোনা ছাড়তে বলেন। কিন্তু আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।

 

নন্দিতার মা উন্নতি বিশ্বাস বলেন, আমি বিধবা ভাতা পাই, আর চা বিক্রি করে যা আয় হয়, তাতে সংসার চালানোই কঠিন। তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দুইজনের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে। বড় মেয়েকেও বন্ধ করতে বলেছি, কিন্তু সে রাজি হয়নি। এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। কোনো সহযোগিতা পেলে হয়তো তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারতাম।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রণদাপ্রসাদ সাহা বাড়ির পূজামণ্ডপে মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা

error: Content is protected !!

পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন, এখন দুঃস্বপ্নে নন্দিতা বিশ্বাস

আপডেট টাইম : ১২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :

বাদশাহ মিয়াঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নন্দিতা বিশ্বাস (১৭) এর স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে একদিন পুলিশে যোগদান করা। দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সেই স্বপ্ন বুকে ধারণ করে চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি নিরলসভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে।
নন্দিতা উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রাম গ্রামের মৃত শ্যামলাল বিশ্বাসের বড় মেয়ে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর থেকেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। মা ও তিন ভাইবোনের সংসারে দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী।

 

তার মা উন্নতি বিশ্বাস কলিগ্রাম মোড়ে মাসে ৪০০ টাকা ভাড়ায় একটি ঝুপড়ি ঘরে চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। মাকে সহযোগিতা করতে নন্দিতাও দোকানে বসে চা বিক্রি করে এবং সেখানেই সময় পেলেই পড়াশোনা করে।

 

নন্দিতা জলিরপাড় জে.কে.এম.বি. মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ছোট বোন একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে এবং ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও আর্থিক সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।

 

পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস চায়ের দোকান হওয়ায় ঠিকমতো খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মা ছোট দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে নন্দিতা তার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এমনকি বিদ্যালয়ে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি থাকলেও তিন ভাইবোনের কেউই সেই সুবিধা পায়নি।

 

নন্দিতা বিশ্বাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন পুলিশে চাকরি করা। দেশের সেবা করার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। বাবাকে হারানোর পর জমিজমা কিছুই নেই। তাই বাধ্য হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি চা বিক্রি করি। কিন্তু এতে আমাদের খরচ চলে না। মা আমার ছোট ভাইবোনের পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং আমাকে পড়াশোনা ছাড়তে বলেন। কিন্তু আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।

 

নন্দিতার মা উন্নতি বিশ্বাস বলেন, আমি বিধবা ভাতা পাই, আর চা বিক্রি করে যা আয় হয়, তাতে সংসার চালানোই কঠিন। তিন সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দুইজনের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে। বড় মেয়েকেও বন্ধ করতে বলেছি, কিন্তু সে রাজি হয়নি। এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। কোনো সহযোগিতা পেলে হয়তো তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারতাম।