মুরাদ হোসেনঃ
মাগুরার মহম্মদপুর সদর বাজারে নেই কোনো কসাইখানা। নির্দিষ্ট জায়গা না থাকার ফলে মাংস ব্যবসায়ীরা তাদের পশু যত্রতত্রভাবে যেখানে সেখানে জবাই করে থাকেন। এই সুযোগে অসাধু মাংস ব্যবসায়ীরা রোগগ্রস্ত পশুও অবলীলায় বিক্রি করার সুযোগ পান। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতারিত হচ্ছেন না তো ক্রেতারা? পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটা কসাইখানার প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।
মহম্মদপুর একটি ঐতিহাসিক স্থান। এটি একটি প্রাচীন জনপদ। সারা দেশে এটি রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। ১৮৬৯ সালের ২৪ নভেম্বর মহম্মদপুর থানা স্থাপিত হয় এবং ১৯৮৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মহম্মদপুরকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। ঐতিহাসিক এই জনপদে কয়েকজন মন্ত্রীরও জন্ম হয়েছে।
বিশিষ্ট নাট্যকার, গবেষক, কবি সালাহউদদীন আহমেদ মিলটন তার লেখা “মহম্মদপুর উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য” বইয়ের ৮৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে যশোর জেলার সদর দপ্তর উঠিয়ে মহম্মদপুরকে জেলায় রুপান্তর করার সিধান্ত হয়।
এ থেকেই প্রাচীন জনপদ হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে মহম্মদপুরের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। সে-জন্য তারা মহম্মদপুরকে সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে বহাল রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সেটি আর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সে-ই নানা কারণ আজও উপজেলাবাসী ভোগ করে চলেছেন!

মধুমতি নদীর উপর ব্রিজ স্থাপিত হওয়ায় দিনে দিনে মহম্মদপুর একটি আঞ্চলিক করিডোরে পরিণত হচ্ছে। মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়ার পণ্যবাহী ছোট বড় যানবাহন এ পথ দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটে যায়। আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে মহম্মদপুরের ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখার জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেনিপেশার মানুষ ভিড় করেন এখানে। মহম্মদপুরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলে।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় মহম্মদপুর বাজরে একটা কসাইখানা নেই। কসাইখানা না থাকার কারণে মাংস ব্যবসায়ীরা তাদের ছাগল,গরু, মহিষ যত্রতত্রভাবে বিভিন্ন জায়গায় জবাই করে থাকেন। অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে রোগগ্রস্ত পশুও অবলীলায় বিক্রি করতে পারেন। যার কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ।
এ বিষয়ে বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, আমরা মহম্মদপুরে একটি কসাইখানার জন্য বিগত ইউএনও স্যারের কাছে আবেদন করেছিলাম। তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু কসাইখানার মুখ দেখতে পারেনি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বলেন, মহম্মদপুর বাজারে একটি কসাইখানা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে অগ্রধীকার ভিত্তিতে আমরা এ বাজারে কসাইখানা স্থাপন করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহানুর জামান জানান,”আমি এখানে অল্প কিছু দিন এসেছি। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করবো।বাজারে কোন কসাইখানা না থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি কসাইখানা স্থাপন করার ব্যবস্থা করবো।”

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
মুরাদ হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি 



















