ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

নীরবেই চলে গেল কাজী ইমদাদুল হক লুলুর মৃত্যুবার্ষিকী

স্বাধীনতাত্তোরকালের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বিপ্লবী ছাত্রলীগ নেতা, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সারির অকুতোভয় যোদ্ধা, বোয়ালমারী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের দুই বারের নির্বাচিত ভিপি ও বোয়ালমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক লুলুর মৃত্যুবার্ষিকী নীরবেই চলে গেল। বুধবার (২৩ আগস্ট) তাঁর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো।

বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান কাজী ইমদাদুল হক লুলু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা, চাচা কাজী মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসেন। জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে একই বাড়ির দুই ছাত্রলীগ নেতা আবু দায়েন কাজল এবং কাজী ইমদাদুল হক লুলু বোয়ালমারী থানা এবং ফরিদপুর জেলার সভাপতির দায়িত্বে থেকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতেন। তাঁরা দুজন একই সময়ে একজন ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজ এবং বোয়ালমারী সরকারি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি ছিলেন।

গত জুন মাসে আবু দায়েন কাজলের মৃত্যু বার্ষিকী যেমন নীরবে গেছে ঠিক তেমনই নীরবে গেল কাজী ইমদাদুল হক লুলুর মৃত্যুবার্ষিকী। বন্ধুদের ফেসবুক পেজ বা স্মরণ সভায় উচ্চারিত হয়নি তাঁদের নাম। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখে আবু দায়েন কাজল স্বীকৃতি পেলেও কাজী ইমদাদুল হক লুলু স্বীকৃতি আদায়ের আপ্রাণ যুদ্ধ করতে করতে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

কাজী ইমদাদুল হক লুলু মৃত্যুকালে দুটি দুঃখ নিয়ে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। তিনি গভীরভাবে প্রত্যাশা করেছিলেন, মৃত্যুকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর লাশ দাফন, আর নামের পাশে আওয়ামী লীগ নেতার পরিচিতি। তাঁর কোন স্বপ্নই পূর্ণ হয়নি। বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিলে তিনি আকুতি জানিয়েছিলেন তাঁকে যেন সামান্য একটি সদস্য পদ প্রদান করা হয়! মৃত্যু পথযাত্রী কাজী ইমদাদুল হক লুলুর আবদার রক্ষা করা হয়নি। তিনি দীর্ঘদিন যাবত জীবন বীমা কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের নেতা ছিলেন।

কাজী ইমদাদুল হক লুলুর দুই সন্তান। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আরেকজন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বেকারত্বের অভিশাপে ভুগে পিতার মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতির প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন।

 

 

এ ব্যাপারে কাজী ইমদাদুল হক লুলুর সহযোদ্ধা এবং ফরিদপুর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, তিনি (লুলু) বোয়ালমারী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের দুইবারের ভিপি ছিলেন। ১৯৮০-৮১ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে এসে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে তার অসুস্থতাজনিত কারণে আর সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজী লুলু অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত ছিল। যাচাই-বাছাইতে তা বাদ পড়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির শোভাযাত্রা, নয়াপল্টনে নেতা-কর্মীদের ঢল

error: Content is protected !!

নীরবেই চলে গেল কাজী ইমদাদুল হক লুলুর মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৩
দীপঙ্কর পোদ্দার অপু, বিশেষ প্রতিনিধি :

স্বাধীনতাত্তোরকালের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বিপ্লবী ছাত্রলীগ নেতা, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সারির অকুতোভয় যোদ্ধা, বোয়ালমারী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের দুই বারের নির্বাচিত ভিপি ও বোয়ালমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক লুলুর মৃত্যুবার্ষিকী নীরবেই চলে গেল। বুধবার (২৩ আগস্ট) তাঁর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো।

বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান কাজী ইমদাদুল হক লুলু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা, চাচা কাজী মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসেন। জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে একই বাড়ির দুই ছাত্রলীগ নেতা আবু দায়েন কাজল এবং কাজী ইমদাদুল হক লুলু বোয়ালমারী থানা এবং ফরিদপুর জেলার সভাপতির দায়িত্বে থেকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতেন। তাঁরা দুজন একই সময়ে একজন ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজ এবং বোয়ালমারী সরকারি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি ছিলেন।

গত জুন মাসে আবু দায়েন কাজলের মৃত্যু বার্ষিকী যেমন নীরবে গেছে ঠিক তেমনই নীরবে গেল কাজী ইমদাদুল হক লুলুর মৃত্যুবার্ষিকী। বন্ধুদের ফেসবুক পেজ বা স্মরণ সভায় উচ্চারিত হয়নি তাঁদের নাম। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখে আবু দায়েন কাজল স্বীকৃতি পেলেও কাজী ইমদাদুল হক লুলু স্বীকৃতি আদায়ের আপ্রাণ যুদ্ধ করতে করতে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

কাজী ইমদাদুল হক লুলু মৃত্যুকালে দুটি দুঃখ নিয়ে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। তিনি গভীরভাবে প্রত্যাশা করেছিলেন, মৃত্যুকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর লাশ দাফন, আর নামের পাশে আওয়ামী লীগ নেতার পরিচিতি। তাঁর কোন স্বপ্নই পূর্ণ হয়নি। বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিলে তিনি আকুতি জানিয়েছিলেন তাঁকে যেন সামান্য একটি সদস্য পদ প্রদান করা হয়! মৃত্যু পথযাত্রী কাজী ইমদাদুল হক লুলুর আবদার রক্ষা করা হয়নি। তিনি দীর্ঘদিন যাবত জীবন বীমা কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের নেতা ছিলেন।

কাজী ইমদাদুল হক লুলুর দুই সন্তান। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আরেকজন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বেকারত্বের অভিশাপে ভুগে পিতার মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতির প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন।

 

 

এ ব্যাপারে কাজী ইমদাদুল হক লুলুর সহযোদ্ধা এবং ফরিদপুর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, তিনি (লুলু) বোয়ালমারী সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের দুইবারের ভিপি ছিলেন। ১৯৮০-৮১ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে এসে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে তার অসুস্থতাজনিত কারণে আর সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাজী লুলু অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া উচিত ছিল। যাচাই-বাছাইতে তা বাদ পড়েছে।