ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নরসিংদী সিটি হাসপাতালে ১৮ ইঞ্চি ‘মব’ কাপড় পেটে রেখেই সেলাই, সংকটাপন্ন প্রসূতি

মোঃ আলম মৃধাঃ

 

নরসিংদীতে লিমা আক্তার (২৮) নামে এক প্রসূতির অস্ত্রোপাচারের সময় পেটের ভেতর ১৮ ইঞ্চির টুকরো ‘মব’ কাপড় রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই জহিরুল ইসলাম সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন।

 

লিমা আক্তার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের দত্তেরগাও মির্জাকান্দি এলাকার রহিম মিয়ার স্ত্রী।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লিমা আক্তারের প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ১৭ জুন নরসিংদীর বাসাইল এলাকায় অবস্থিত নরসিংদী সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলে তাকে অস্ত্রোপাচার করেন ডাঃ শিউলি আক্তার। এ সময় লিমা এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এরপর ২১ জুন দুপুরে লিমা আক্তারকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পর তিনি পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন।

 

এই অবস্থায় ফের ভুক্তভোগী নারীকে ২৫ তারিখে পুনরায় একই হাসপাতালে নিয়ে এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলে সেখানে কিছু ধরা পড়েনি। পরে তাকে নরসিংদীর আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক দ্রুত তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন এবং তার পেটে কিছু একটা রয়েছে বলে ধারণা দেন। সে অনুযায়ী স্বজনরা রোগীকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। সেখানে পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

পরে সেখানকার চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হন তার পেটে রক্ত পরিস্কার করার ‘মব’ কাপড়ের টুকরো রয়েছে, দ্রুতই অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানান। ৩ জুলাই গভীর রাতে চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ. এইচ. এম. শাখাওয়াত হোসেন দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপাচার করে ওই নারীর পেট থেকে ১৮ ইঞ্চি সম আকৃতির একটি ‘মব’ কাপড়ের টুকরো বের করেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী নারীর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রোপচার করে এখন আমার বোন মৃত্যুপথযাত্রী। পেটে ইনফেকশন হয়ে গেছে, এখনো পেট ফুলে আছে, দুর্গন্ধ বের হয়, ব্যাথায় প্রতিনিয়ত কাতরাচ্ছে সে। দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে মিলিয়ে ৫ দিন তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখতে হয়েছে। এখনো সে সংকটাপন্ন। শিশুটিও মায়ের সেবা এবং বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় মানসিক ও আর্থিকভাবে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

 

তিনিও আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেছি। বিএমডিসিতে অভিযোগ করবো এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তে মামলায় দায়ের করবো। আমরা এরকম অবহেলিত চিকিৎসার প্রতিকার চাই এবং এর বিচার চাই।

 

নরসিংদী সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন মিয়া বলেন, বিষয়টি আমরা জানার পর খোঁজ-খবর নিয়েছি। রোগীর বাড়িতেও গিয়েছি এবং সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। তারা অনেক বেশি টাকা চায়। ভুল করে বিষয়টি হয়ে গেছে। আমরা রোগীর চিকিৎসার দায়িত্বও নেওয়ার কথা বলেছি।

 

এ বিষয়ে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডাঃ সৈয়দ মোঃ আমিরুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ কাজে এমন ভুল হতে পারে না। শুনেছি রোগী সংকটাপন্ন। রোগীর জীবন বিপন্ন করে তুলে এতো বড় ময়লা পরিস্কার করার ‘মব’ কাপড় পেটে রেখে সেলাই করে ফেলেন কিভাবে। এর প্রতিকার দরকার; তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

এর আগেও এই সিটি হাসপাতালে বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সঠিক যাচাই-বাছাই করে কঠিন বিচারের আওতায় আনার দাবি ভুক্তভোগীদের।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরের বিনামূল্ এক হাজার লিটারের ৭৭ টি পানির ট্যাংক ও সেটিং উপকরণ বিতরণ

error: Content is protected !!

নরসিংদী সিটি হাসপাতালে ১৮ ইঞ্চি ‘মব’ কাপড় পেটে রেখেই সেলাই, সংকটাপন্ন প্রসূতি

আপডেট টাইম : ১১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
মোঃ আলম মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ আলম মৃধাঃ

 

নরসিংদীতে লিমা আক্তার (২৮) নামে এক প্রসূতির অস্ত্রোপাচারের সময় পেটের ভেতর ১৮ ইঞ্চির টুকরো ‘মব’ কাপড় রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই জহিরুল ইসলাম সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন।

 

লিমা আক্তার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের দত্তেরগাও মির্জাকান্দি এলাকার রহিম মিয়ার স্ত্রী।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লিমা আক্তারের প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ১৭ জুন নরসিংদীর বাসাইল এলাকায় অবস্থিত নরসিংদী সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলে তাকে অস্ত্রোপাচার করেন ডাঃ শিউলি আক্তার। এ সময় লিমা এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এরপর ২১ জুন দুপুরে লিমা আক্তারকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পর তিনি পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন।

 

এই অবস্থায় ফের ভুক্তভোগী নারীকে ২৫ তারিখে পুনরায় একই হাসপাতালে নিয়ে এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলে সেখানে কিছু ধরা পড়েনি। পরে তাকে নরসিংদীর আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক দ্রুত তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন এবং তার পেটে কিছু একটা রয়েছে বলে ধারণা দেন। সে অনুযায়ী স্বজনরা রোগীকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। সেখানে পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

 

পরে সেখানকার চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হন তার পেটে রক্ত পরিস্কার করার ‘মব’ কাপড়ের টুকরো রয়েছে, দ্রুতই অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানান। ৩ জুলাই গভীর রাতে চিকিৎসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ. এইচ. এম. শাখাওয়াত হোসেন দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপাচার করে ওই নারীর পেট থেকে ১৮ ইঞ্চি সম আকৃতির একটি ‘মব’ কাপড়ের টুকরো বের করেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী নারীর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রোপচার করে এখন আমার বোন মৃত্যুপথযাত্রী। পেটে ইনফেকশন হয়ে গেছে, এখনো পেট ফুলে আছে, দুর্গন্ধ বের হয়, ব্যাথায় প্রতিনিয়ত কাতরাচ্ছে সে। দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে মিলিয়ে ৫ দিন তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখতে হয়েছে। এখনো সে সংকটাপন্ন। শিশুটিও মায়ের সেবা এবং বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় মানসিক ও আর্থিকভাবে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

 

তিনিও আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেছি। বিএমডিসিতে অভিযোগ করবো এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তে মামলায় দায়ের করবো। আমরা এরকম অবহেলিত চিকিৎসার প্রতিকার চাই এবং এর বিচার চাই।

 

নরসিংদী সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন মিয়া বলেন, বিষয়টি আমরা জানার পর খোঁজ-খবর নিয়েছি। রোগীর বাড়িতেও গিয়েছি এবং সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। তারা অনেক বেশি টাকা চায়। ভুল করে বিষয়টি হয়ে গেছে। আমরা রোগীর চিকিৎসার দায়িত্বও নেওয়ার কথা বলেছি।

 

এ বিষয়ে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডাঃ সৈয়দ মোঃ আমিরুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ কাজে এমন ভুল হতে পারে না। শুনেছি রোগী সংকটাপন্ন। রোগীর জীবন বিপন্ন করে তুলে এতো বড় ময়লা পরিস্কার করার ‘মব’ কাপড় পেটে রেখে সেলাই করে ফেলেন কিভাবে। এর প্রতিকার দরকার; তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

 

এর আগেও এই সিটি হাসপাতালে বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সঠিক যাচাই-বাছাই করে কঠিন বিচারের আওতায় আনার দাবি ভুক্তভোগীদের।


প্রিন্ট