ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নরসিংদীর ১৮ জুলাই গণহত্যা : পুলিশের দায় ম্যাজিস্ট্রেটের ঘাড়ে!

মোঃ আলম মৃধাঃ

 

নরসিংদীতে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সংঘটিত হয় এক ভয়াবহ এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যা ইতিহাসে “জুলাই গণহত্যা” নামে পরিচিত। এদিন তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) মুস্তাফিজুর রহমান, ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ওসি খোকন চন্দ্র সরকার এবং নরসিংদী মডেল থানার ওসি তানভীর আহমেদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ও নির্দেশে সাধারণ ছাত্র, জনতা এবং পথচারীদের উপর গুলি চালানো হয়। এই নির্মম হামলায় প্রাণ হারান ২০ জনেরও বেশি নিরীহ মানুষ।

ঘটনাপ্রবাহ:

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাস্থলে কোন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যা গুলি চালানোর জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারত। তবুও পুলিশ সুপারের নির্দেশনা পেয়ে, বিনা উসকানিতে এবং অমানবিক ভাষায় গালিগালাজ করে ওসি তানভীর তার কনস্টেবলদের গুলি চালাতে নির্দেশ দেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওসি তানভীর চিৎকার করে বলেন, “তোদের পিস্তলে কি গুলি নাই? শালারারে গুলি কর।” অন্যদিকে নরসিংদী ডিবির ওসি খোকন চন্দ্র সরকার তার ফোর্সদের গুলি করার হুকুম দেন। পুলিশ এবং ডিবির যৌথ অভিযানে এই নিশংস হত্যাযজ্ঞ চলে।

দোষ চাপানো হয় ম্যাজিস্ট্রেটদের উপর:

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে পুলিশ প্রশাসন কৌশলে দায় চাপিয়ে দেয় নরসিংদীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপর। প্রকৃতপক্ষে, সেদিন কোনও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং গুলি চালানোর মত কোনো বৈধ আদেশও প্রদান করা হয়নি। বরং ঘটনার পর পুলিশের চাপের মুখে ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছ থেকে পরে গুলি চালানোর অনুমতির মিথ্যা প্রমাণ আদায় করে নেয়া হয়।

দোষীদের বর্তমান অবস্থা:

এসপি মুস্তাফিজুর রহমান ও ডিবির ওসি খোকন চন্দ্র সরকারের ভারত পালিয়ে যাওয়ার তথ্য জানা গেছে।

ওসি তানভীর আহমেদ বর্তমানে টুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে এসপি ও ডিবি ওসির উপস্থিতি এবং তাদের নেতৃত্বে গুলির নির্দেশনার ভিডিওচিত্র এখনো সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে।

 

নরসিংদীর ১৮ জুলাই গণহত্যা একটি পরিকল্পিত এবং নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যেখানে আইনের রক্ষকেরাই পরিণত হয়েছিল খুনিতে। আজও ন্যায়বিচার অধরা থেকে গেছে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানই পারে এই জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরের বিনামূল্ এক হাজার লিটারের ৭৭ টি পানির ট্যাংক ও সেটিং উপকরণ বিতরণ

error: Content is protected !!

নরসিংদীর ১৮ জুলাই গণহত্যা : পুলিশের দায় ম্যাজিস্ট্রেটের ঘাড়ে!

আপডেট টাইম : ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
মোঃ আলম মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ আলম মৃধাঃ

 

নরসিংদীতে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সংঘটিত হয় এক ভয়াবহ এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যা ইতিহাসে “জুলাই গণহত্যা” নামে পরিচিত। এদিন তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) মুস্তাফিজুর রহমান, ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ওসি খোকন চন্দ্র সরকার এবং নরসিংদী মডেল থানার ওসি তানভীর আহমেদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ও নির্দেশে সাধারণ ছাত্র, জনতা এবং পথচারীদের উপর গুলি চালানো হয়। এই নির্মম হামলায় প্রাণ হারান ২০ জনেরও বেশি নিরীহ মানুষ।

ঘটনাপ্রবাহ:

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাস্থলে কোন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যা গুলি চালানোর জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারত। তবুও পুলিশ সুপারের নির্দেশনা পেয়ে, বিনা উসকানিতে এবং অমানবিক ভাষায় গালিগালাজ করে ওসি তানভীর তার কনস্টেবলদের গুলি চালাতে নির্দেশ দেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওসি তানভীর চিৎকার করে বলেন, “তোদের পিস্তলে কি গুলি নাই? শালারারে গুলি কর।” অন্যদিকে নরসিংদী ডিবির ওসি খোকন চন্দ্র সরকার তার ফোর্সদের গুলি করার হুকুম দেন। পুলিশ এবং ডিবির যৌথ অভিযানে এই নিশংস হত্যাযজ্ঞ চলে।

দোষ চাপানো হয় ম্যাজিস্ট্রেটদের উপর:

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে পুলিশ প্রশাসন কৌশলে দায় চাপিয়ে দেয় নরসিংদীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপর। প্রকৃতপক্ষে, সেদিন কোনও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং গুলি চালানোর মত কোনো বৈধ আদেশও প্রদান করা হয়নি। বরং ঘটনার পর পুলিশের চাপের মুখে ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছ থেকে পরে গুলি চালানোর অনুমতির মিথ্যা প্রমাণ আদায় করে নেয়া হয়।

দোষীদের বর্তমান অবস্থা:

এসপি মুস্তাফিজুর রহমান ও ডিবির ওসি খোকন চন্দ্র সরকারের ভারত পালিয়ে যাওয়ার তথ্য জানা গেছে।

ওসি তানভীর আহমেদ বর্তমানে টুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে এসপি ও ডিবি ওসির উপস্থিতি এবং তাদের নেতৃত্বে গুলির নির্দেশনার ভিডিওচিত্র এখনো সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে।

 

নরসিংদীর ১৮ জুলাই গণহত্যা একটি পরিকল্পিত এবং নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যেখানে আইনের রক্ষকেরাই পরিণত হয়েছিল খুনিতে। আজও ন্যায়বিচার অধরা থেকে গেছে। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানই পারে এই জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।


প্রিন্ট