মোঃ আলম মৃধাঃ
নরসিংদীর শিবপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইকে একসাথে কুপিয়ে খুন করেছে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা। গত (১০ সেপ্টেম্বর) বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের বৈলাব গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত দুই ভাই হলেন, অলিউল ইসলাম সোহাগ (৪০) ও সাজ্জাদ হোসেন রানা (৩৮)। তারা বৈলাব গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আসাদুজ্জামান মন্টুর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিদার ও বিদ্যুতের বাড়ির ব্যবহৃত টিউবওয়েলের পানি চাচাতো ভাই সোহাগদের বাড়ি দিয়ে প্রবাহকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উভয় পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চাচা মামুন ও তার দুই ছেলে দিদার ও বিদ্যুৎ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সোহাগ ও তার ছোট ভাই রানার ওপর হামলা চলায়। ওই সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই রানা নিহত হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর ভাই সোহাগকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের মা শামীমা আক্তার জানান, দিদারদের টিউবওয়েলের পানি আমাদের বাড়ির ওপরে আসে, এতে আমাদের চলাচল করতে সমস্যা হয়। এই নিয়ে আমার ছোট ছেলে রানা তার চাচা মামুন ও তার ছেলেদের জানালে তারা রানাকে ছুরিকাঘাত করে। তখন রানার চিৎকারে আমার অপর ছেলে সোহাগ দৌড়ে আসলে দিদার ও বিদ্যুৎ তাকেও এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আমার ছেলেদের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই পরিবারের পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল 
মোঃ আলম মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি 











