ঢাকা , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নগরকান্দায় বসতঘরে ঢুকে লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

বিবাদীর অস্বীকার, অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ

নুরুল ইসলাম সদরপুরঃ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বসতঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবিনা বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করেছেন বিবাদী পাপিয়া আক্তার।

 

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা বেগমের স্বামী বর্তমানে কাতারে প্রবাসে রয়েছেন। বসতবাড়ির জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সাবিনা বেগম নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাপিয়া খানম (৫৩), মুন্নি খানম (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জন তাঁর বসতঘরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

 

সাবিনা বেগমের দাবি, এ সময় ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এর মধ্যে একটি স্টিলের লকার ভেঙে প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর পালিত একটি রাজহাঁসও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

 

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় তাঁকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

বসতবাড়ির জমির মালিকানা প্রসঙ্গে সাবিনা বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিহীন বন্দোবস্ত কবুলিয়াতের মাধ্যমে তাঁর শ্বশুর ১৯৯৩ সাল থেকে ৯৯ বছরের জন্য জমিটি ভোগদখলের সুযোগ পান। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে তাঁদের পরিবার ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি কাতারে থাকা স্বামীকে অবহিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন সাবিনা বেগম। পরে তিনি নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদী পাপিয়া আক্তার বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাবিনা আমার জমিতে এবং আমার তৈরি করা ঘরে বসবাস করেন। আমাকে সমাজে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ নাটক সাজানো হয়েছে। বাদী আমার ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি), তারপরও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।”

 

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযোগের সত্যতা এবং জমির মালিকানা ও ভোগদখল-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাংশায় অষ্টাদশপল্লী সর্বজনীন পাগল আশ্রমের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

নগরকান্দায় বসতঘরে ঢুকে লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
নুরুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিনিধি :

নুরুল ইসলাম সদরপুরঃ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বসতঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবিনা বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করেছেন বিবাদী পাপিয়া আক্তার।

 

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা বেগমের স্বামী বর্তমানে কাতারে প্রবাসে রয়েছেন। বসতবাড়ির জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সাবিনা বেগম নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাপিয়া খানম (৫৩), মুন্নি খানম (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জন তাঁর বসতঘরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

 

সাবিনা বেগমের দাবি, এ সময় ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এর মধ্যে একটি স্টিলের লকার ভেঙে প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর পালিত একটি রাজহাঁসও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

 

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় তাঁকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

বসতবাড়ির জমির মালিকানা প্রসঙ্গে সাবিনা বেগম অভিযোগে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিহীন বন্দোবস্ত কবুলিয়াতের মাধ্যমে তাঁর শ্বশুর ১৯৯৩ সাল থেকে ৯৯ বছরের জন্য জমিটি ভোগদখলের সুযোগ পান। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে তাঁদের পরিবার ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি কাতারে থাকা স্বামীকে অবহিত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন সাবিনা বেগম। পরে তিনি নগরকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদী পাপিয়া আক্তার বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাবিনা আমার জমিতে এবং আমার তৈরি করা ঘরে বসবাস করেন। আমাকে সমাজে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ নাটক সাজানো হয়েছে। বাদী আমার ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি), তারপরও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।”

 

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযোগের সত্যতা এবং জমির মালিকানা ও ভোগদখল-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।