ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

দৌলতপুরে সজিব ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন! মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে প্রসূতি

মোঃ জিয়াউর রহমানঃ

 

দৌলতপুর বিভিন্ন সময় শোনা যায় ভুল অপারেশন, ডাক্তারের অবহেলায়, ক্লিনিকের জরাজীর্ণতা, বা সিজারিয়ান অপারেশন পরবর্তী সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ সকল মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মাধ্যমে ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তার মিলে একটি নিরব হত্যাকাণ্ডকে অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দিয়ে ফেলে যার কারনে প্রতিনিয়তই ঘটতে থাকে এ ধরনের ঘটনা।

অনুসন্ধানে জানা যায় গত দেড় মাস আগে বাচ্চা প্রসবের জন্য দৌলতপুর হাসপাতাল গেটের পাশেই অবস্থিত নাম সর্বস্ব সজিব ক্লিনিক নামের একটি ক্লিনিকের দ্বারস্থ হয় রিফাইতপুর ইউনিয়নের গলাকাটি গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেনের মেয়ে মুন্নী খাতুন।

 

ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তার মিলে মুন্নীর পরিবারের লোকজনকে জানান দ্রুত সময়ের মধ্যে সিজারিয়ান অপারেশন না করলে রোগীর সমস্যা হবে। যেই কথা সেই কাজ জরাজীর্ণ ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সমস্ত বন্দোবস্ত করে সিজার সম্পন্ন করে ক্লিনিক মালিকসহ অবসরপ্রাপ্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সফর আলী সহ তার সহযোগীরা।

 

অপারেশন করার কিছুদিন পরেই বাঁধে বিপত্তি, আস্তে আস্তে মুন্নী খাতুনের পেটের ভিতরে শুরু হয় জ্বালা যন্ত্রণা এরপরে দিন পেরিয়ে সপ্তাহ যায় সপ্তাহ পেরিয়ে মাস, খারাপ হতে থাকে মুন্নী খাতুনের শারীরিক অবস্থা এমন অবস্থায় মুন্নী খাতুনের পরিবারের লোকজন কোন দিসে না পেয়ে দৌলতপুর ও কুষ্টিয়ায় কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ডায়গনস্টিক সেন্টারে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে পরিবারের লোকজন জানতে পারে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটের মধ্যে ময়লা গজের টুকরো রেখেই তড়িঘড়ি করে অপারেশন সম্পূর্ণ করে সেলাই করে দেওয়া হয়।

 

যার কারনে কিছুদিন যেতে না যেতেই মনি খাতুনের পেটের মধ্যে শুরু হয় তীব্র জ্বালা যন্ত্রণা। মুন্নী খাতুন বর্তমান রাজশাহীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

 

এ বিষয়ে মুন্নী খাতুনের মা জানান,ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তারের উদাসীনতায় সিজারিয়ান অপারেশন পরবর্তী আমার মেয়ে আজ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে তিনি আরো জানান এ ধরনের অর্থলোভী ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তারদের যদি সঠিক বিচার করা না হয় তাহলে তারা এরকম অন্যায় কাজ প্রতিনিয়ত করেই চলবে।

 

এদিকে নাম সর্বস্ব সজীব ক্লিনিকের তিন মালিকপক্ষ আলেক,সাহানাজ ও দৌলতপুর হাসপাতালে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মিনু’র সাথে কথা বললে, তারা জানান, আমরা শুধু ক্লিনিকের ব্যবসা করি অপারেশন করে ডাক্তার সেটা ভুল হলো কি সঠিক হল আমরা কিছুই বলতে পারি না আপনারা ডাক্তারের সাথে কথা বলেন।

 

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সফর আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, অপারেশন করার পরে রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসা সেবা না দেওয়ার কারনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। আমি অপারেশন করে রোগীকে ক্লিনিকে রেখে এসেছি পরবর্তীতে কি হয়েছে তার সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা। এ সকল বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতেও তিনি অনুরোধ করেন গণমাধ্যম কর্মীকে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

দৌলতপুরে সজিব ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন! মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে প্রসূতি

আপডেট টাইম : ১১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
মোঃ জিয়াউর রহমান, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি :

মোঃ জিয়াউর রহমানঃ

 

দৌলতপুর বিভিন্ন সময় শোনা যায় ভুল অপারেশন, ডাক্তারের অবহেলায়, ক্লিনিকের জরাজীর্ণতা, বা সিজারিয়ান অপারেশন পরবর্তী সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ সকল মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মাধ্যমে ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তার মিলে একটি নিরব হত্যাকাণ্ডকে অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দিয়ে ফেলে যার কারনে প্রতিনিয়তই ঘটতে থাকে এ ধরনের ঘটনা।

অনুসন্ধানে জানা যায় গত দেড় মাস আগে বাচ্চা প্রসবের জন্য দৌলতপুর হাসপাতাল গেটের পাশেই অবস্থিত নাম সর্বস্ব সজিব ক্লিনিক নামের একটি ক্লিনিকের দ্বারস্থ হয় রিফাইতপুর ইউনিয়নের গলাকাটি গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেনের মেয়ে মুন্নী খাতুন।

 

ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তার মিলে মুন্নীর পরিবারের লোকজনকে জানান দ্রুত সময়ের মধ্যে সিজারিয়ান অপারেশন না করলে রোগীর সমস্যা হবে। যেই কথা সেই কাজ জরাজীর্ণ ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সমস্ত বন্দোবস্ত করে সিজার সম্পন্ন করে ক্লিনিক মালিকসহ অবসরপ্রাপ্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সফর আলী সহ তার সহযোগীরা।

 

অপারেশন করার কিছুদিন পরেই বাঁধে বিপত্তি, আস্তে আস্তে মুন্নী খাতুনের পেটের ভিতরে শুরু হয় জ্বালা যন্ত্রণা এরপরে দিন পেরিয়ে সপ্তাহ যায় সপ্তাহ পেরিয়ে মাস, খারাপ হতে থাকে মুন্নী খাতুনের শারীরিক অবস্থা এমন অবস্থায় মুন্নী খাতুনের পরিবারের লোকজন কোন দিসে না পেয়ে দৌলতপুর ও কুষ্টিয়ায় কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ডায়গনস্টিক সেন্টারে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে পরিবারের লোকজন জানতে পারে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটের মধ্যে ময়লা গজের টুকরো রেখেই তড়িঘড়ি করে অপারেশন সম্পূর্ণ করে সেলাই করে দেওয়া হয়।

 

যার কারনে কিছুদিন যেতে না যেতেই মনি খাতুনের পেটের মধ্যে শুরু হয় তীব্র জ্বালা যন্ত্রণা। মুন্নী খাতুন বর্তমান রাজশাহীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

 

এ বিষয়ে মুন্নী খাতুনের মা জানান,ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তারের উদাসীনতায় সিজারিয়ান অপারেশন পরবর্তী আমার মেয়ে আজ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে তিনি আরো জানান এ ধরনের অর্থলোভী ক্লিনিক মালিক ও ডাক্তারদের যদি সঠিক বিচার করা না হয় তাহলে তারা এরকম অন্যায় কাজ প্রতিনিয়ত করেই চলবে।

 

এদিকে নাম সর্বস্ব সজীব ক্লিনিকের তিন মালিকপক্ষ আলেক,সাহানাজ ও দৌলতপুর হাসপাতালে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মিনু’র সাথে কথা বললে, তারা জানান, আমরা শুধু ক্লিনিকের ব্যবসা করি অপারেশন করে ডাক্তার সেটা ভুল হলো কি সঠিক হল আমরা কিছুই বলতে পারি না আপনারা ডাক্তারের সাথে কথা বলেন।

 

এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সফর আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, অপারেশন করার পরে রোগীকে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসা সেবা না দেওয়ার কারনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। আমি অপারেশন করে রোগীকে ক্লিনিকে রেখে এসেছি পরবর্তীতে কি হয়েছে তার সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা। এ সকল বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতেও তিনি অনুরোধ করেন গণমাধ্যম কর্মীকে।