ইসমাইল হোসেন বাবুঃ
কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৭০) নামে এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে স্থানীয় ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’।
এ সময় উত্তেজিত জনতা ওই পীরকে গণপিটুনি দিলে তিনি গুরুতর আহত হন, পুলিশ আহত শামীমকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.তৌহিদুল হাসান তুহিন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তার আস্তানায় হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এরআগে ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ একাধিক অভিযোগে শামীম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছিল। ওই সময় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভন্ডপীর আখ্যায়িত শামীমের পুরোনো একটি ভিডিও হঠাৎ করেই গতকাল থেকে সোসাল মিডিয়ায় ব্যপক ভাইরাল হয়ে পড়ে। পরে এলাকার উত্তেজিত জনতা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার দরবারে দুপুরে হামলা ও ভাংচুর চালায়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, পবিত্র কোরআন কটাক্ষ করার অভিযোগ ছিল পীরের বিরুদ্ধে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।
প্রিন্ট

বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে 
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার 


















