ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনা, ৫২ বছরে শেফালীর এইচএসসি জয়

শিক্ষা ডেস্ক: জীবনের পঞ্চান্ন বছর পেরিয়ে এসে শিক্ষার আলোয় নতুন এক ইতিহাস গড়লেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতা এবং জীবনের শত ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ চার দশমিক একুশ অর্জন করেছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল নিজের পরিবার নয়, বরং পুরো সমাজকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে। এই বয়সে এসেও এমন সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব।

শেফালী বেগমের শিক্ষাজীবনের এই পথচলা ছিল বেশ দীর্ঘ ও সংগ্রামমুখর। মাত্র দেড় বছর বয়সে ফুফাতো ভাই মোকছেদুল আলমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং ১৯৮৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁকে স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হয়। এরপর থেকেই পড়াশোনার দীর্ঘ বিরতি শুরু হয় এবং তিনি সংসার ও সন্তানদের লালন-পালনে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। তবে পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

পরিবারের পূর্ণ সমর্থন ও নিজের প্রবল ইচ্ছাশ জোরে ২০২০ সালে তিনি দীর্ঘদিনের সুপ্ত বাসনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন। স্বামী ও সন্তানের উৎসাহে তিনি ডোমার উপজেলার গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ভর্তি হন এবং ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ চার দশমিক ঊনত্রিশ অর্জন করেন। কোনো ধরনের গৃহশিক্ষক ছাড়াই নিজের চেষ্টায় প্রতিদিন রাতের বেলা পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি, এমনকি অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত জেগে পড়ালেখা করেছেন। তাঁর এই নিরলস পরিশ্রম ও ধৈর্যই তাঁকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

শেফালী বেগমের এই সাফল্যে তাঁর পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁর স্বামী মোকছেদুল আলম জানিয়েছেন যে তারা সবসময় তাঁর পড়াশোনার পথে পাশে থেকেছেন এবং সংসারের কাজে সহযোগিতা করেছেন যাতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে তাঁর বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মায়ের এই অর্জনে নিজের আনন্দ প্রকাশ করে নিজেকে একজন সৌভাগ্যবান সন্তান হিসেবে অভিহিত করেছেন। শেফালী বেগম এখানেই থেমে থাকতে চান না, বরং তিনি এবার উচ্চশিক্ষার জন্য অনার্সে ভর্তি হয়ে সামনে আরও এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন

error: Content is protected !!

দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনা, ৫২ বছরে শেফালীর এইচএসসি জয়

আপডেট টাইম : ৪৮ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

শিক্ষা ডেস্ক: জীবনের পঞ্চান্ন বছর পেরিয়ে এসে শিক্ষার আলোয় নতুন এক ইতিহাস গড়লেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতা এবং জীবনের শত ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ চার দশমিক একুশ অর্জন করেছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল নিজের পরিবার নয়, বরং পুরো সমাজকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে। এই বয়সে এসেও এমন সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব।

শেফালী বেগমের শিক্ষাজীবনের এই পথচলা ছিল বেশ দীর্ঘ ও সংগ্রামমুখর। মাত্র দেড় বছর বয়সে ফুফাতো ভাই মোকছেদুল আলমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং ১৯৮৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁকে স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হয়। এরপর থেকেই পড়াশোনার দীর্ঘ বিরতি শুরু হয় এবং তিনি সংসার ও সন্তানদের লালন-পালনে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। তবে পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

পরিবারের পূর্ণ সমর্থন ও নিজের প্রবল ইচ্ছাশ জোরে ২০২০ সালে তিনি দীর্ঘদিনের সুপ্ত বাসনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন। স্বামী ও সন্তানের উৎসাহে তিনি ডোমার উপজেলার গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ভর্তি হন এবং ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ চার দশমিক ঊনত্রিশ অর্জন করেন। কোনো ধরনের গৃহশিক্ষক ছাড়াই নিজের চেষ্টায় প্রতিদিন রাতের বেলা পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি, এমনকি অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত জেগে পড়ালেখা করেছেন। তাঁর এই নিরলস পরিশ্রম ও ধৈর্যই তাঁকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

শেফালী বেগমের এই সাফল্যে তাঁর পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁর স্বামী মোকছেদুল আলম জানিয়েছেন যে তারা সবসময় তাঁর পড়াশোনার পথে পাশে থেকেছেন এবং সংসারের কাজে সহযোগিতা করেছেন যাতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে তাঁর বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মায়ের এই অর্জনে নিজের আনন্দ প্রকাশ করে নিজেকে একজন সৌভাগ্যবান সন্তান হিসেবে অভিহিত করেছেন। শেফালী বেগম এখানেই থেমে থাকতে চান না, বরং তিনি এবার উচ্চশিক্ষার জন্য অনার্সে ভর্তি হয়ে সামনে আরও এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।