ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

চাকরি হারালেন ডিবির হারুন-অর রশিদসহ ৭ পুলিশ কর্মকর্তা

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যেখানে তাঁর বরখাস্তের আদেশ গত বছরের আগস্ট মাস থেকে কার্যকর বলে গণ্য করার কথা জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগ ও পলায়নের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতদিন তিনি সাময়িক বরখাস্তের দায়িত্বে থাকলেও এবার তাঁকে সরাসরি চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করেছিলেন এবং বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও তিনি আর চাকরিতে ফিরে আসেননি।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে কোনো লিখিত জবাব প্রদান করেননি এবং বাড়তি কোনো সময়ও প্রার্থনা করেননি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা মেলে। পরবর্তীতে তাঁকে পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সেটিরও কোনো উত্তর দেননি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে তারাও তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করে।

সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং পিএসসির ইতিবাচক মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পর তাঁর বিরুদ্ধে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উল্লেখ্য, একই ধরনের অপরাধ অর্থাৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অসদাচরণ এবং বিনা অনুমতিতে বিদেশে গিয়ে আর কাজে যোগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আরও ছয়জন উচ্চপদস্থ ও মাঝারি সারির পুলিশ কর্মকর্তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই তালিকায় রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী এবং লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে সুনির্দিষ্ট একটি অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রজ্ঞাপনে এটিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পেশাগত দায়িত্বহীনতা রোধ করতেই এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

error: Content is protected !!

চাকরি হারালেন ডিবির হারুন-অর রশিদসহ ৭ পুলিশ কর্মকর্তা

আপডেট টাইম : ৪৯ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যেখানে তাঁর বরখাস্তের আদেশ গত বছরের আগস্ট মাস থেকে কার্যকর বলে গণ্য করার কথা জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগ ও পলায়নের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতদিন তিনি সাময়িক বরখাস্তের দায়িত্বে থাকলেও এবার তাঁকে সরাসরি চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করেছিলেন এবং বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও তিনি আর চাকরিতে ফিরে আসেননি।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে কোনো লিখিত জবাব প্রদান করেননি এবং বাড়তি কোনো সময়ও প্রার্থনা করেননি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা মেলে। পরবর্তীতে তাঁকে পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সেটিরও কোনো উত্তর দেননি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে তারাও তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করে।

সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং পিএসসির ইতিবাচক মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পর তাঁর বিরুদ্ধে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উল্লেখ্য, একই ধরনের অপরাধ অর্থাৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অসদাচরণ এবং বিনা অনুমতিতে বিদেশে গিয়ে আর কাজে যোগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আরও ছয়জন উচ্চপদস্থ ও মাঝারি সারির পুলিশ কর্মকর্তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই তালিকায় রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী এবং লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আলাদাভাবে শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে সুনির্দিষ্ট একটি অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রজ্ঞাপনে এটিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পেশাগত দায়িত্বহীনতা রোধ করতেই এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।