আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি ভারত সফর করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তবে পূর্বনির্ধারিত এই সফরে তিনি দেশটির রাজধানী নতুন দিল্লিতে যাবেন না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ভারতের অর্থনৈতিক কেন্দ্র মুম্বাইতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত একটি বৃহৎ তেল শোধনাগার পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। রাজধানী এড়িয়ে তার এই ভিন্নধর্মী সফরসূচি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই সফরের মূল এজেন্ডা হিসেবে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এর আগে মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশ নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তিনি সরাসরি ভারতে পৌঁছাবেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের এই বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া জামনগরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার পরিদর্শন ছাড়াও তিনি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখার বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকেই এই সফরটি সাজানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নতুন দিল্লি বাদ দিয়ে মুম্বাইতে বৈঠক করার মার্কিন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন যে ওয়াশিংটন ভারতের শীর্ষ কূটনীতিককে নিজ দেশেই তলব করার মতো একটি অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি, উচ্চ শুল্ক এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল আমদানির মতো বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও নতুন দিল্লির সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছু টানাপোড়েন থাকলেও প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত খাতের সহযোগিতা এখনও বহাল রয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নতুন বাণিজ্যিক সংযোগ এই সফরের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে মার্কিন নীতি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তবুও অর্থনৈতিক স্বার্থে দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছেন। সব মিলিয়ে মার্কো রুবিওর এই সংক্ষিপ্ত সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনো বার্তা দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 






















