স্বাস্থ্য ডেস্ক: দেশের গ্রামাঞ্চলের নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নারীদের মধ্যে এই রোগের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করার মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দ্রুত নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে, বর্তমানে দেশে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু শহর এলাকাতেই নয়, বরং গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার ঘটছে। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করতে না পারা এবং সচেতনতার অভাবের কারণে অসংখ্য নারী যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
চিকিৎসকদের পেশাগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন যে, কেবল সভা-সেমিনার বা প্রচারমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকৃত সচেতনতা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দেশের মেধাবী চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি পরামর্শ দেন যে, চিকিৎসকদের উচিত বছরে অন্তত কয়েকবার নিজেদের গ্রামে গিয়ে স্থানীয় নারীদের স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ ও সচেতনতা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন এবং এতে স্বাস্থ্য খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে জানান যে, বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্যই দায়ী বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হলেও আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশই কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে অবিলম্বে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্রিনিং কার্যক্রমের পরিধি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে হবে বলে তিনি জোরালো মন্তব্য করেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 





















