ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

তালা ভেঙে জাবি উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল

শিক্ষা ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো নুরুল ইসলামসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তালা ভেঙে উপাচার্যসহ আটকে থাকা কর্মকর্তাদের মুক্ত করেন। সম্প্রতি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে ওই ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এই নিয়োগের পরই তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি তোলেন সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম। অন্যদিকে ওই শিক্ষককে সাবেক স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেদিন বিকেলে যখন নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে উপাচার্যের সভাপতিত্বে একটি সিন্ডিকেট সভা চলছিল, ঠিক তখনই শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। সভা শেষে উপাচার্য ও অন্যান্য কর্মকর্তারা বাইরে বের হতে গিয়ে দেখেন মূল ফটক বন্ধ এবং তারা ভেতরে আটকা পড়েছেন। ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের নিজস্ব বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগ করায় তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তারা এই নিয়োগ প্রত্যাহার করে ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান এবং তালা ঝুলিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে উপাচার্য ও অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের বাইরে বের করে আনেন। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তালা ভাঙার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তালা ভেঙেছেন আর তারা কেবল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জাবি উপাচার্য নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান যে রেজিস্ট্রারে ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার কারও নেই। তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে এই ঘটনার পেছনে যেসব শিক্ষক বা ব্যক্তি ইন্ধন জুগিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ শিক্ষক পড়ান ৩৪ শিক্ষার্থীকে, পাস করেছেন মাত্র ৪ জন

error: Content is protected !!

তালা ভেঙে জাবি উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল

আপডেট টাইম : ৪৭ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

শিক্ষা ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো নুরুল ইসলামসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তালা ভেঙে উপাচার্যসহ আটকে থাকা কর্মকর্তাদের মুক্ত করেন। সম্প্রতি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে ওই ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এই নিয়োগের পরই তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি তোলেন সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম। অন্যদিকে ওই শিক্ষককে সাবেক স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেদিন বিকেলে যখন নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে উপাচার্যের সভাপতিত্বে একটি সিন্ডিকেট সভা চলছিল, ঠিক তখনই শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। সভা শেষে উপাচার্য ও অন্যান্য কর্মকর্তারা বাইরে বের হতে গিয়ে দেখেন মূল ফটক বন্ধ এবং তারা ভেতরে আটকা পড়েছেন। ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের নিজস্ব বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগ করায় তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তারা এই নিয়োগ প্রত্যাহার করে ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান এবং তালা ঝুলিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে উপাচার্য ও অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের বাইরে বের করে আনেন। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তালা ভাঙার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তালা ভেঙেছেন আর তারা কেবল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জাবি উপাচার্য নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান যে রেজিস্ট্রারে ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার কারও নেই। তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে এই ঘটনার পেছনে যেসব শিক্ষক বা ব্যক্তি ইন্ধন জুগিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।