ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর

আইন-আদালত ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কেবল পলাতক আসামিদেরই বিচারকার্য পরিচালিত হয়—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর। সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসিকিউটর এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এর পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে স্পষ্ট উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আদালতের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছিলেন যে, বর্তমান ট্রাইব্যুনালে মূলত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বা অনুপস্থিত থাকা পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সাজা ঘোষণা করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্য নিয়ে পরবর্তীতে আইনি অঙ্গনে এবং বিভিন্ন মহলে নানামুখী আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। বিশেষ করে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন নানা ধরনের পর্যালোচনা চলছে, তখন এমন রাজনৈতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

প্রসিকিউটর আরও পরিষ্কার করে জানান যে, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে উপস্থিত কিংবা পলাতক—সব আসামির ক্ষেত্রেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে বিচার সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা প্রদান বা একপেশে রায় দেওয়ার কোনো সুযোগ এই আদালতে নেই বলে জোরালোভাবে দাবি করেন তিনি।

আইনজীবীরা মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা উচিত নয়। এতে বিচার বিভাগের কাজে অনাবশ্যক চাপ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা লাভ করতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের মন্তব্য করার আগে আইনি প্রক্রিয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫

error: Content is protected !!

‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আইন-আদালত ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কেবল পলাতক আসামিদেরই বিচারকার্য পরিচালিত হয়—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর। সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসিকিউটর এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এর পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে স্পষ্ট উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আদালতের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছিলেন যে, বর্তমান ট্রাইব্যুনালে মূলত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বা অনুপস্থিত থাকা পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সাজা ঘোষণা করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্য নিয়ে পরবর্তীতে আইনি অঙ্গনে এবং বিভিন্ন মহলে নানামুখী আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। বিশেষ করে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন নানা ধরনের পর্যালোচনা চলছে, তখন এমন রাজনৈতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

প্রসিকিউটর আরও পরিষ্কার করে জানান যে, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে উপস্থিত কিংবা পলাতক—সব আসামির ক্ষেত্রেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে বিচার সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা প্রদান বা একপেশে রায় দেওয়ার কোনো সুযোগ এই আদালতে নেই বলে জোরালোভাবে দাবি করেন তিনি।

আইনজীবীরা মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা উচিত নয়। এতে বিচার বিভাগের কাজে অনাবশ্যক চাপ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা লাভ করতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের মন্তব্য করার আগে আইনি প্রক্রিয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।