ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

জানুন যুক্তরাজ্যের শীতকালীন উৎসবের অন্দরে কী থাকে

ভ্রমণ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘ ও কনকনে রাতের চাদর নেমে আসে। তবে ব্রিটিশরা শীতের এই অন্ধকার আর নিস্তব্ধতাকে হতাশার সুযোগ না দিয়ে জাদুকরি আলো, রূপকথার আবহ এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে বরণ করে নেয়। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক অনন্য মিতালিতে যুক্তরাজ্যের হরেক রকম বৈচিত্র্যময় উৎসব এই সময়টাতে প্রাণ ফিরে পায়। দীর্ঘ রাতের বিষণ্নতা কাটিয়ে মানুষের মাঝে শৈল্পিক আবহ তৈরি করতেই মূলত এই বিশেষ আয়োজনগুলোর প্রচলন রয়েছে।

স্কটল্যান্ডের পিটলোচ্রির ফাসকালি ফরেস্টে পা রাখলেই মনে হবে কোনো টাইম মেশিনের ভেতর ঢুকে পড়েছেন। স্থানীয় লোককথার রহস্যকে ঘিরেই স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শরৎকালীন আয়োজন দ্য এনচ্যান্টেড ফরেস্ট-এর ২৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপিত হয়েছে। রত্নখচিত বনের পথ ধরে হাঁটার সময় কাল্পনিক সুর এবং অদ্ভুত সব ঘড়ির উপস্থিতি মানুষকে রূপকথার জগতে নিয়ে যায়। মূলত মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি ফিরিয়ে আনতেই এই বনকে ঘিরে নানা জাদুকরি আলোর আয়োজন করা হয়।

শহরের কৃত্রিম আলো আর কংক্রিটের জঙ্গল থেকে দূরে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অন্ধকার ও পরিষ্কার আকাশের দেখা মেলে নর্থ পেনাইনস অঞ্চলে। এখানে কৃত্রিম আলোর বাতি না থাকায় খালি চোখেই গ্যালাক্সির চমৎকার রূপ উপভোগ করা যায়। এই অঞ্চলটিতে রেকর্ডসংখ্যক অফিশিয়াল ডার্ক স্কাই ডিসকভারি সাইট রয়েছে, যা নক্ষত্রপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মহাবিশ্বের বিশালতার সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন ঘটানোর এক দারুণ মাধ্যম হিসেবে এই তারা দেখার আয়োজনগুলো কাজ করে।

ইংল্যান্ডের লিভারপুলে পা রাখলে মার্সি নদীর তীর ও শহরের আইকনগুলো রঙিন আলোয় ঝলমল করতে দেখা যায়। ইউরোপের বড় বড় লাইট ফেস্টিভ্যালের বিপরীতে এই উৎসবটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও সবার জন্য ফ্রি রাখা হয়। শিল্প ও সাধারণ মানুষের দূরত্ব ঘুচিয়ে শহরকে এক মিলনমেলায় পরিণত করাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। অভিনব সব শিল্পকর্ম প্রদর্শনের মাধ্যমে এই উৎসব পুরো এলাকাকে এক অন্যরকম রূপ দেয়।

হ্যালোইনের ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে গ্লুচেস্টারশায়ারের স্লিমব্রিজ ওয়েটল্যান্ড সেন্টার এক অভিনব আয়োজন নিয়ে এসেছে। এখানে ভয়ের কোনো পরিবেশ থাকে না, বরং জলাভূমির আসল জীবজন্তুদের নিয়ে তৈরি বিশাল সব আলো ঝলমলে লণ্ঠন প্রদর্শিত হয়। হস্তনির্মিত এসব লণ্ঠন পুরো পরিবেশকে এক মায়াবী রূপ দেয় এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। শীতের এই দীর্ঘ রাতগুলো কেবল অলসতায় কাটানোর নয়, বরং আলো, শিল্প ও মানবীয় উষ্ণতা মিলে অন্ধকারকে জাদুকরি করে তোলার মোক্ষম সময়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

জানুন যুক্তরাজ্যের শীতকালীন উৎসবের অন্দরে কী থাকে

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ভ্রমণ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘ ও কনকনে রাতের চাদর নেমে আসে। তবে ব্রিটিশরা শীতের এই অন্ধকার আর নিস্তব্ধতাকে হতাশার সুযোগ না দিয়ে জাদুকরি আলো, রূপকথার আবহ এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে বরণ করে নেয়। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক অনন্য মিতালিতে যুক্তরাজ্যের হরেক রকম বৈচিত্র্যময় উৎসব এই সময়টাতে প্রাণ ফিরে পায়। দীর্ঘ রাতের বিষণ্নতা কাটিয়ে মানুষের মাঝে শৈল্পিক আবহ তৈরি করতেই মূলত এই বিশেষ আয়োজনগুলোর প্রচলন রয়েছে।

স্কটল্যান্ডের পিটলোচ্রির ফাসকালি ফরেস্টে পা রাখলেই মনে হবে কোনো টাইম মেশিনের ভেতর ঢুকে পড়েছেন। স্থানীয় লোককথার রহস্যকে ঘিরেই স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শরৎকালীন আয়োজন দ্য এনচ্যান্টেড ফরেস্ট-এর ২৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপিত হয়েছে। রত্নখচিত বনের পথ ধরে হাঁটার সময় কাল্পনিক সুর এবং অদ্ভুত সব ঘড়ির উপস্থিতি মানুষকে রূপকথার জগতে নিয়ে যায়। মূলত মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি ফিরিয়ে আনতেই এই বনকে ঘিরে নানা জাদুকরি আলোর আয়োজন করা হয়।

শহরের কৃত্রিম আলো আর কংক্রিটের জঙ্গল থেকে দূরে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অন্ধকার ও পরিষ্কার আকাশের দেখা মেলে নর্থ পেনাইনস অঞ্চলে। এখানে কৃত্রিম আলোর বাতি না থাকায় খালি চোখেই গ্যালাক্সির চমৎকার রূপ উপভোগ করা যায়। এই অঞ্চলটিতে রেকর্ডসংখ্যক অফিশিয়াল ডার্ক স্কাই ডিসকভারি সাইট রয়েছে, যা নক্ষত্রপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মহাবিশ্বের বিশালতার সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন ঘটানোর এক দারুণ মাধ্যম হিসেবে এই তারা দেখার আয়োজনগুলো কাজ করে।

ইংল্যান্ডের লিভারপুলে পা রাখলে মার্সি নদীর তীর ও শহরের আইকনগুলো রঙিন আলোয় ঝলমল করতে দেখা যায়। ইউরোপের বড় বড় লাইট ফেস্টিভ্যালের বিপরীতে এই উৎসবটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও সবার জন্য ফ্রি রাখা হয়। শিল্প ও সাধারণ মানুষের দূরত্ব ঘুচিয়ে শহরকে এক মিলনমেলায় পরিণত করাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। অভিনব সব শিল্পকর্ম প্রদর্শনের মাধ্যমে এই উৎসব পুরো এলাকাকে এক অন্যরকম রূপ দেয়।

হ্যালোইনের ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে গ্লুচেস্টারশায়ারের স্লিমব্রিজ ওয়েটল্যান্ড সেন্টার এক অভিনব আয়োজন নিয়ে এসেছে। এখানে ভয়ের কোনো পরিবেশ থাকে না, বরং জলাভূমির আসল জীবজন্তুদের নিয়ে তৈরি বিশাল সব আলো ঝলমলে লণ্ঠন প্রদর্শিত হয়। হস্তনির্মিত এসব লণ্ঠন পুরো পরিবেশকে এক মায়াবী রূপ দেয় এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে তোলে। শীতের এই দীর্ঘ রাতগুলো কেবল অলসতায় কাটানোর নয়, বরং আলো, শিল্প ও মানবীয় উষ্ণতা মিলে অন্ধকারকে জাদুকরি করে তোলার মোক্ষম সময়।