ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

গোদাগাড়ীতে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, চলছে নামাজ-পূজা

জাতীয় ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ভগবন্তপুর হাট এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক চমৎকার ও বিরল দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে একই সীমানার ভেতর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি মন্দির। শত বছর ধরে এখানকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আসছেন। এই এলাকার বাসিন্দারা প্রমাণ করেছেন যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকলে ভিন্ন ধর্মের অনুসারীরাও কত সুন্দরভাবে মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। বর্তমান সময়ে সমাজে যখন নানা সংঘাতের খবর পাওয়া যায়, তখন এই জনপদের পারস্পরিক সহাবস্থান গোটা দেশের মানুষের নজর কেড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলেই এই অঞ্চলে প্রথম মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬ সালে ইনসান জমিদার নামের এক ব্যক্তি মন্দিরের পাশেই একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। তখন থেকেই এই দুটি উপাসনালয় পাশাপাশি অবস্থান করে আসছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এলাকার মানুষের কাছে সম্প্রীতির মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। মন্দির থেকে মসজিদের দূরত্ব মাত্র পাঁচ মিটার হলেও আজ পর্যন্ত কখনো কোনো বিরোধ বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি। উভয় ধর্মের মানুষ একে অপরের বিশ্বাসের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করে আসছেন এবং যুগ যুগ ধরে এই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে চলেছেন।

এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ ঘটে ইবাদত ও উপাসনার সময়ে, যখন আজানের ধ্বনি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মন্দিরের ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার নামাজ শেষ হলে নিয়মমাফিক আবার পূজার আনন্দ ও উৎসব মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। মন্দিরের সভাপতি শ্রী শান্ত কুমার মজুমদার এবং মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. শাহালাল উভয়েই জানিয়েছেন যে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অসাধারণ মনমানসিকতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেমন মুসলিমদের নামাজের সময় নীরবতা বজায় রাখেন, তেমনি মুসলিম সম্প্রদায়ও সবসময় পূজা উদযাপনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করে থাকে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মের অনুসারী ও পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ব্রিটিশ আমল থেকে টিকে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের উন্নয়নে সরকারিভাবে যদি কিছু সহায়তা করা হয়, তবে তা বেশ উপকারে আসবে। গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, বাপ-দাদার আমল থেকেই চলে আসা এই রেওয়াজ এখানকার মানুষ পরম যত্নে রক্ষা করে চলেছেন এবং এতে তারা দারুণ গর্ববোধ করেন। অন্যদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান যে, এমন সম্পর্ক দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ছাড়া আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলার মোট বাহাত্তরটি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাসারে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ইউএনও তানজিল পারভেজ

error: Content is protected !!

গোদাগাড়ীতে একই আঙিনায় মসজিদ-মন্দির, চলছে নামাজ-পূজা

আপডেট টাইম : ৫১ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ভগবন্তপুর হাট এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক চমৎকার ও বিরল দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে একই সীমানার ভেতর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে একটি মসজিদ ও একটি মন্দির। শত বছর ধরে এখানকার মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আসছেন। এই এলাকার বাসিন্দারা প্রমাণ করেছেন যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকলে ভিন্ন ধর্মের অনুসারীরাও কত সুন্দরভাবে মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। বর্তমান সময়ে সমাজে যখন নানা সংঘাতের খবর পাওয়া যায়, তখন এই জনপদের পারস্পরিক সহাবস্থান গোটা দেশের মানুষের নজর কেড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলেই এই অঞ্চলে প্রথম মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৬৬ সালে ইনসান জমিদার নামের এক ব্যক্তি মন্দিরের পাশেই একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। তখন থেকেই এই দুটি উপাসনালয় পাশাপাশি অবস্থান করে আসছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এলাকার মানুষের কাছে সম্প্রীতির মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। মন্দির থেকে মসজিদের দূরত্ব মাত্র পাঁচ মিটার হলেও আজ পর্যন্ত কখনো কোনো বিরোধ বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি। উভয় ধর্মের মানুষ একে অপরের বিশ্বাসের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করে আসছেন এবং যুগ যুগ ধরে এই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে চলেছেন।

এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ ঘটে ইবাদত ও উপাসনার সময়ে, যখন আজানের ধ্বনি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মন্দিরের ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার নামাজ শেষ হলে নিয়মমাফিক আবার পূজার আনন্দ ও উৎসব মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। মন্দিরের সভাপতি শ্রী শান্ত কুমার মজুমদার এবং মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. শাহালাল উভয়েই জানিয়েছেন যে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অসাধারণ মনমানসিকতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেমন মুসলিমদের নামাজের সময় নীরবতা বজায় রাখেন, তেমনি মুসলিম সম্প্রদায়ও সবসময় পূজা উদযাপনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করে থাকে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মের অনুসারী ও পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ব্রিটিশ আমল থেকে টিকে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের উন্নয়নে সরকারিভাবে যদি কিছু সহায়তা করা হয়, তবে তা বেশ উপকারে আসবে। গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, বাপ-দাদার আমল থেকেই চলে আসা এই রেওয়াজ এখানকার মানুষ পরম যত্নে রক্ষা করে চলেছেন এবং এতে তারা দারুণ গর্ববোধ করেন। অন্যদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান যে, এমন সম্পর্ক দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ছাড়া আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলার মোট বাহাত্তরটি পূজামণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।