ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কোটি টাকার সম্পদের মালিক নরসিংদী ডিসি অফিসের পিয়ন!

মোঃ আলম মৃধাঃ

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জিয়ার হোসেন নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত একজন অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী হয়েও তিনি নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি ও বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন, যা তার সরকারি বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিয়ার হোসেন সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে, যার মাসিক বেতন মোটামুটি ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি। আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজউদ্দিন আহমেদ রাজু তাকে সার্কিট হাউজের পিয়ন পদে চাকুরি দেন। বর্তমানে তিনি কর্মরত আছেন ডিসি অফিসের জারিকারক হিসেবে। তবে এই সীমিত আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে তার বিপুল সম্পদ অর্জন স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

অভিযোগকারীরা জানান, নরসিংদীর বিলাসদী এলাকার সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর তিনি পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করছেন, যার নির্মাণব্যয় আনুমানিক দেড় কোটি টাকা। পৌরসভার অনুমোদন না নিয়েই নির্মাণ করছেন ভবন। চারদিক দিয়ে খোলামেলা থাকায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এদিক দিয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কে চলাচল করেন। যেকোন সময় উপর থেকে ইট পড়ে পথচারীদের জীবননাশের শঙ্কা রয়েছে ।ভবন নির্মাণ নির্দেশনাও মানছেন না তিনি। নির্মাণাধীন এই ভবনের জমিটির দামই প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ছাড়াও বিলাসদী ও আশপাশের এলাকায় তার নামে আরও বেশ কিছু জমি ক্রয় এবং নির্মাণকাজ গোপনে চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামে বেনামে ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকা।

 

শিবপুরের দক্ষিণ কারার চর এলাকায় তার আরেকটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মিত হয়েছে বলেও জানা যায়।

 

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা ফোনে জিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “ডিসি স্যার সব জানেন। আপনি ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন, আমাকে ফোন দেবেন না।” তার এমন বক্তব্য আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

 

একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কিভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন- এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তারা মনে করেন, এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই বিষয়ে তদন্ত করলে ঘটনাটির সত্যতা উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে, এবং আরও তথ্য পেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্যামনগরের বিনামূল্ এক হাজার লিটারের ৭৭ টি পানির ট্যাংক ও সেটিং উপকরণ বিতরণ

error: Content is protected !!

কোটি টাকার সম্পদের মালিক নরসিংদী ডিসি অফিসের পিয়ন!

আপডেট টাইম : ০৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
মোঃ আলম মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :

মোঃ আলম মৃধাঃ

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জিয়ার হোসেন নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত একজন অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী হয়েও তিনি নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জমি ও বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন, যা তার সরকারি বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিয়ার হোসেন সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে, যার মাসিক বেতন মোটামুটি ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি। আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজউদ্দিন আহমেদ রাজু তাকে সার্কিট হাউজের পিয়ন পদে চাকুরি দেন। বর্তমানে তিনি কর্মরত আছেন ডিসি অফিসের জারিকারক হিসেবে। তবে এই সীমিত আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে তার বিপুল সম্পদ অর্জন স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

অভিযোগকারীরা জানান, নরসিংদীর বিলাসদী এলাকার সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর তিনি পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করছেন, যার নির্মাণব্যয় আনুমানিক দেড় কোটি টাকা। পৌরসভার অনুমোদন না নিয়েই নির্মাণ করছেন ভবন। চারদিক দিয়ে খোলামেলা থাকায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এদিক দিয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কে চলাচল করেন। যেকোন সময় উপর থেকে ইট পড়ে পথচারীদের জীবননাশের শঙ্কা রয়েছে ।ভবন নির্মাণ নির্দেশনাও মানছেন না তিনি। নির্মাণাধীন এই ভবনের জমিটির দামই প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ছাড়াও বিলাসদী ও আশপাশের এলাকায় তার নামে আরও বেশ কিছু জমি ক্রয় এবং নির্মাণকাজ গোপনে চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামে বেনামে ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকা।

 

শিবপুরের দক্ষিণ কারার চর এলাকায় তার আরেকটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মিত হয়েছে বলেও জানা যায়।

 

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা ফোনে জিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “ডিসি স্যার সব জানেন। আপনি ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন, আমাকে ফোন দেবেন না।” তার এমন বক্তব্য আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

 

একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কিভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন- এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তারা মনে করেন, এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই বিষয়ে তদন্ত করলে ঘটনাটির সত্যতা উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে, এবং আরও তথ্য পেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।


প্রিন্ট