ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

কুষ্টিয়ার খোকসায় প্রাচীন বটবৃক্ষের ছায়াতলে দিনব্যাপী লোকগানের আসর

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

হারিয়ে যেতে বসা বাংলার লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা এবং সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে কুষ্টিয়ার খোকসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘লোকগানের আসর’।

উপজেলার একতারপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বটবৃক্ষের ছায়াতলে শনিবার (৩১ অক্টোবর) খোকসা কমিউনিটি লাইব্রেরির আয়োজনে এবং বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বটবৃক্ষের চারপাশ পরিণত হয় এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়। বিভিন্ন শিল্পী তাঁদের কণ্ঠে পরিবেশন করেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা লোকগান। সময়ের পরিক্রমায় সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে বসা এসব গান শুনতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। গান, আড্ডা আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যে পুরো দিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

আয়োজনের অংশ হিসেবে দুপুরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া লোকগানের আসর চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

আয়োজক খোকসা কমিউনিটি লাইব্রেরির উদ্যোক্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হারিয়ে গেছে এসব গান। তাই উদ্যোগ নিলাম। বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের আয়োজন সফল হয়েছে। সহজ মানুষগুলোর সঙ্গে সুন্দর একটি আয়োজনের সাক্ষী হতে পেরে ভালো লাগছে।’

আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অসীম কুমার সরকার বলেন, ‘জসিম ভাই যখন থেকে এমন একটি আয়োজনের কথা ভাবছিলেন, শুরু থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। ভাইকে কথা দিয়েছিলাম, আমি উপস্থিত থাকব। জসিম ভাই, স্বপন ভাই, রেজওয়ান ভাই, কিশোর, পুলক দাদা, বিকর্ণ দাদাসহ অনেক সাধুজন ও জ্ঞানী-গুণী মানুষের সঙ্গে আজকের দিনটি কাটল। ঈশ্বরের কৃপায় এবং সবার উপস্থিতি ও সহযোগিতায় এমন একটি আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

প্রাচীন বটবৃক্ষের ছায়ায় লোকগানের এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও হারিয়ে যাওয়া সংগীত ঐতিহ্যকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি করেছে। আয়োজনে অংশ নেওয়া মানুষের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে লোকসংগীতের চর্চা আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন প্রজন্ম বাংলার শেকড়ের গান সম্পর্কে জানতে পারবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ার খোকসায় প্রাচীন বটবৃক্ষের ছায়াতলে দিনব্যাপী লোকগানের আসর

আপডেট টাইম : ৪৮ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

হারিয়ে যেতে বসা বাংলার লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা এবং সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে কুষ্টিয়ার খোকসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘লোকগানের আসর’।

উপজেলার একতারপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বটবৃক্ষের ছায়াতলে শনিবার (৩১ অক্টোবর) খোকসা কমিউনিটি লাইব্রেরির আয়োজনে এবং বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বটবৃক্ষের চারপাশ পরিণত হয় এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়। বিভিন্ন শিল্পী তাঁদের কণ্ঠে পরিবেশন করেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা লোকগান। সময়ের পরিক্রমায় সমাজ থেকে হারিয়ে যেতে বসা এসব গান শুনতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। গান, আড্ডা আর পারস্পরিক সৌহার্দ্যে পুরো দিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

আয়োজনের অংশ হিসেবে দুপুরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া লোকগানের আসর চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

আয়োজক খোকসা কমিউনিটি লাইব্রেরির উদ্যোক্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হারিয়ে গেছে এসব গান। তাই উদ্যোগ নিলাম। বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের আয়োজন সফল হয়েছে। সহজ মানুষগুলোর সঙ্গে সুন্দর একটি আয়োজনের সাক্ষী হতে পেরে ভালো লাগছে।’

আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অসীম কুমার সরকার বলেন, ‘জসিম ভাই যখন থেকে এমন একটি আয়োজনের কথা ভাবছিলেন, শুরু থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। ভাইকে কথা দিয়েছিলাম, আমি উপস্থিত থাকব। জসিম ভাই, স্বপন ভাই, রেজওয়ান ভাই, কিশোর, পুলক দাদা, বিকর্ণ দাদাসহ অনেক সাধুজন ও জ্ঞানী-গুণী মানুষের সঙ্গে আজকের দিনটি কাটল। ঈশ্বরের কৃপায় এবং সবার উপস্থিতি ও সহযোগিতায় এমন একটি আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

প্রাচীন বটবৃক্ষের ছায়ায় লোকগানের এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও হারিয়ে যাওয়া সংগীত ঐতিহ্যকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি করেছে। আয়োজনে অংশ নেওয়া মানুষের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজনের মধ্য দিয়ে লোকসংগীতের চর্চা আরও বিস্তৃত হবে এবং নতুন প্রজন্ম বাংলার শেকড়ের গান সম্পর্কে জানতে পারবে।