ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহ্;র স্মরণোৎসব আজ

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহ স্মরণোৎসব ছেউড়িয়ায় ‘দোলপূর্ণিমা তিথিতে’ উদযাপিত হয় । অন্যান্যবার তিন দিনের হলেও এবার রমজানের কারণে আয়োজন এক দিনের। তাই আজ সোমবার দুপুরে শুরু হবে এই উৎসব। তবে থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। তবু ও এই আয়োজনে অংশ নিতে আখড়াবাড়ীতে গতকাল রবিবার রাত থেকে সাধু-গুরু, লালনভক্তরা ছেউড়িয়ায় আসতে শুরু করেছে।

 

দল বেধে ভাের থেকে আজ সােমবার বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বাউল সম্রাট লালন শাহের গানের টানে হাজার-হাজার মানুষ ছুটে আসছেন ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে।

 

আখড়াবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, এবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হবে আয়োজন। সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে।

 

উৎসবে যোগ দিতে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়ীতে আসতে শুরু করেছেন লালনভক্ত বাউল-ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তারা দলে দলে ভাগ হয়ে আসন পেতে বসেছেন। করছেন নিজেদের মধ্যে ভাববিনিময়।

 

কথা হয় ঢাকা থেকে আসা ফকির ফাহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। দোল উৎসবে দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুরা আখড়াবাড়ীতে আসেন। একে অপরের মধ্যে ভাববিনিময় হয় মনটা ভরে যায়।

 

রংপুর থেকে আসা শাহ জামাল বলেন, ছোটবেলা থেকেই লালনের গান শুনে আসছি। সেই টানে এবার প্রথমবারের মতো আখড়াবাড়ীতে আসা। এখানে বসে বাস্তবতা অনুভব করছি।

 

মানিকগঞ্জ থেকে আসা সাধু তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সাঁইজির প্রেমের টানে, মায়ার টানে কয়েক দিন আগেই আখড়াবাড়ীতে এসেছি। এবার পবিত্র রমজানের কারণে উৎসব একটু কম হবে। তবুও আসতে পেরে খুশি।

 

চুয়াডাঙ্গার শান্ত ফকির বলেন, শুভ কাজ করতে গেলে একটা শুভদিন লাগে। সেই শুভদিন উপলক্ষে এই দোলপূর্ণিমা পূর্ণ হয়। তাই এই দিনে লালন ফকির জ্ঞানী-গুণী ও ভক্তদের নিয়ে সমাবেশ করতেন। সেই থেকেই আমরা গুরুপরম্পরা এসে থাকি সাঁইজির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে। এখানে এলে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা হয়, তাত্ত্বিক উন্নতি হয়, মানসিক উন্নতি হয়।

 

আখড়াবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় গুরুকার্য দিয়ে শুরু হবে সাধুসঙ্গ। এর পর রাখাল সেবা, মধ্যরাতে অধিবাস, মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে। পবিত্র মাহে রমজানের কারণে এবার অনুষ্ঠান সীমিত। লোকসমাগমও অনেক কম হতে পারে।

 

কুমারখালীর ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আগত বাউল সাধক, ভক্ত, অনুরাগী ও দর্শনার্থীদের সহায়তা করতে গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

 

এখানে শুধু সাধু গুরুদের নিয়েই সাধুসংঘ নয়, লালন অনুরাগী লালন প্রেমীসহ আজ আমরা দেখছি ভিন্ন ভাষাভাষির মানুষও আজ এই সাইজীর আখড়ায় তাদের পদধুলি দিচ্ছে।

 

লালন ভক্ত-অনুসারীরা তাদের সাইজিকে খুজে পেতে ছুটে এসেছে লালনের আখড়া বাড়ীতে বললেন দিনাজপুর ফুলবাড়ীয়া থেকে আসা সাধু আলতাফ হোসেন। লালন সাঁইজীর নিকট থেকে আল্লাহর রছুলকে চেনা বা জানার জন্যই এখানে এসেছেন সাধুরা। প্রায় ৪২ বছর ধরে লালনের সানিধ্য পাবার জন্যই এই আখড়া বাড়িতে আসেন। এমনটি জানালেন ঢাকা নারায়ন গঞ্জ থেকে আসা সাধু সাফায়েত উল্লা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহ্;র স্মরণোৎসব আজ

আপডেট টাইম : ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
ইসমাইল হােসেন বাবু :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহ স্মরণোৎসব ছেউড়িয়ায় ‘দোলপূর্ণিমা তিথিতে’ উদযাপিত হয় । অন্যান্যবার তিন দিনের হলেও এবার রমজানের কারণে আয়োজন এক দিনের। তাই আজ সোমবার দুপুরে শুরু হবে এই উৎসব। তবে থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। তবু ও এই আয়োজনে অংশ নিতে আখড়াবাড়ীতে গতকাল রবিবার রাত থেকে সাধু-গুরু, লালনভক্তরা ছেউড়িয়ায় আসতে শুরু করেছে।

 

দল বেধে ভাের থেকে আজ সােমবার বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বাউল সম্রাট লালন শাহের গানের টানে হাজার-হাজার মানুষ ছুটে আসছেন ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে।

 

আখড়াবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, এবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হবে আয়োজন। সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে।

 

উৎসবে যোগ দিতে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়ীতে আসতে শুরু করেছেন লালনভক্ত বাউল-ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তারা দলে দলে ভাগ হয়ে আসন পেতে বসেছেন। করছেন নিজেদের মধ্যে ভাববিনিময়।

 

কথা হয় ঢাকা থেকে আসা ফকির ফাহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। দোল উৎসবে দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুরা আখড়াবাড়ীতে আসেন। একে অপরের মধ্যে ভাববিনিময় হয় মনটা ভরে যায়।

 

রংপুর থেকে আসা শাহ জামাল বলেন, ছোটবেলা থেকেই লালনের গান শুনে আসছি। সেই টানে এবার প্রথমবারের মতো আখড়াবাড়ীতে আসা। এখানে বসে বাস্তবতা অনুভব করছি।

 

মানিকগঞ্জ থেকে আসা সাধু তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সাঁইজির প্রেমের টানে, মায়ার টানে কয়েক দিন আগেই আখড়াবাড়ীতে এসেছি। এবার পবিত্র রমজানের কারণে উৎসব একটু কম হবে। তবুও আসতে পেরে খুশি।

 

চুয়াডাঙ্গার শান্ত ফকির বলেন, শুভ কাজ করতে গেলে একটা শুভদিন লাগে। সেই শুভদিন উপলক্ষে এই দোলপূর্ণিমা পূর্ণ হয়। তাই এই দিনে লালন ফকির জ্ঞানী-গুণী ও ভক্তদের নিয়ে সমাবেশ করতেন। সেই থেকেই আমরা গুরুপরম্পরা এসে থাকি সাঁইজির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে। এখানে এলে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা হয়, তাত্ত্বিক উন্নতি হয়, মানসিক উন্নতি হয়।

 

আখড়াবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় গুরুকার্য দিয়ে শুরু হবে সাধুসঙ্গ। এর পর রাখাল সেবা, মধ্যরাতে অধিবাস, মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে। পবিত্র মাহে রমজানের কারণে এবার অনুষ্ঠান সীমিত। লোকসমাগমও অনেক কম হতে পারে।

 

কুমারখালীর ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আগত বাউল সাধক, ভক্ত, অনুরাগী ও দর্শনার্থীদের সহায়তা করতে গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

 

এখানে শুধু সাধু গুরুদের নিয়েই সাধুসংঘ নয়, লালন অনুরাগী লালন প্রেমীসহ আজ আমরা দেখছি ভিন্ন ভাষাভাষির মানুষও আজ এই সাইজীর আখড়ায় তাদের পদধুলি দিচ্ছে।

 

লালন ভক্ত-অনুসারীরা তাদের সাইজিকে খুজে পেতে ছুটে এসেছে লালনের আখড়া বাড়ীতে বললেন দিনাজপুর ফুলবাড়ীয়া থেকে আসা সাধু আলতাফ হোসেন। লালন সাঁইজীর নিকট থেকে আল্লাহর রছুলকে চেনা বা জানার জন্যই এখানে এসেছেন সাধুরা। প্রায় ৪২ বছর ধরে লালনের সানিধ্য পাবার জন্যই এই আখড়া বাড়িতে আসেন। এমনটি জানালেন ঢাকা নারায়ন গঞ্জ থেকে আসা সাধু সাফায়েত উল্লা।