ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

করকাঠামো সংস্কারে নীতি ও প্রশাসন আলাদা করলেই কি রাজস্ব বাড়বে

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর ভেঙে দুটি আলাদা বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মূলত করের নিয়মকানুন প্রণয়ন এবং মাঠে গিয়ে কর আদায়—এই দুটি কাজ আলাদা করার লক্ষ্যেই এই কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের হয়রানি কমানো এবং দেশের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানো। তবে এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাতারাতি কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

অতীতে এই সংস্কারের রূপরেখা তৈরি ও অধ্যাদেশ জারির সময় রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়েছিল প্রশাসন। টানা বিক্ষোভের ফলে আমদানি-রপ্তানিসহ পুরো ব্যবসা-বাণিজ্যে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বর্তমান সরকারের পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কাঠামোগত এই বিভাজন এবং কর্মকর্তাদের অসন্তোষের ইতিহাস প্রমাণ করে যে কেবল কাগজে-কলমে বিভাগ আলাদা করলেই ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় উন্নতি ঘটে না।

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন হওয়ায় রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদ অত্যন্ত তীব্র। নীতি প্রণেতা এবং আদায়কারী পক্ষ এক হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়—এই তত্ত্বে ভর করেই সংস্কারের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে নীতিনির্ধারণের টেবিলে কাদের বসানো হবে, সেটাই আসল চ্যালেঞ্জ। নীতি বিভাগে শুধু তাত্ত্বিক গবেষক বসালে বাস্তবসম্মত নিয়মের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, আবার মাঠের পুরোনো কর্মকর্তারা দায়িত্ব পেলে তাঁরা সহজ উপায়ে পুরোনো করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারেন।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো দাঁড় করানো অত্যন্ত জরুরি। নীতি প্রণয়নের দায়িত্বে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কর্মকর্তাদের যুক্ত করতে হবে এবং তাঁদের প্রশাসনে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ করে পেশাদার হিসেবে নির্দিষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞ, হিসাববিদ ও অর্থনীতিবিদদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা দল গঠন করা যেতে পারে। অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন, যেখানে কেবল নাম পরিবর্তন না করে অটোমেশন এবং করদাতাদের জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

করকাঠামো সংস্কারে নীতি ও প্রশাসন আলাদা করলেই কি রাজস্ব বাড়বে

আপডেট টাইম : ৪৮ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর ভেঙে দুটি আলাদা বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মূলত করের নিয়মকানুন প্রণয়ন এবং মাঠে গিয়ে কর আদায়—এই দুটি কাজ আলাদা করার লক্ষ্যেই এই কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের হয়রানি কমানো এবং দেশের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানো। তবে এই ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাতারাতি কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

অতীতে এই সংস্কারের রূপরেখা তৈরি ও অধ্যাদেশ জারির সময় রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়েছিল প্রশাসন। টানা বিক্ষোভের ফলে আমদানি-রপ্তানিসহ পুরো ব্যবসা-বাণিজ্যে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বর্তমান সরকারের পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কাঠামোগত এই বিভাজন এবং কর্মকর্তাদের অসন্তোষের ইতিহাস প্রমাণ করে যে কেবল কাগজে-কলমে বিভাগ আলাদা করলেই ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় উন্নতি ঘটে না।

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন হওয়ায় রাজস্ব বাড়ানোর তাগিদ অত্যন্ত তীব্র। নীতি প্রণেতা এবং আদায়কারী পক্ষ এক হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়—এই তত্ত্বে ভর করেই সংস্কারের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে নীতিনির্ধারণের টেবিলে কাদের বসানো হবে, সেটাই আসল চ্যালেঞ্জ। নীতি বিভাগে শুধু তাত্ত্বিক গবেষক বসালে বাস্তবসম্মত নিয়মের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, আবার মাঠের পুরোনো কর্মকর্তারা দায়িত্ব পেলে তাঁরা সহজ উপায়ে পুরোনো করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারেন।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো দাঁড় করানো অত্যন্ত জরুরি। নীতি প্রণয়নের দায়িত্বে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কর্মকর্তাদের যুক্ত করতে হবে এবং তাঁদের প্রশাসনে ফিরে যাওয়ার পথ বন্ধ করে পেশাদার হিসেবে নির্দিষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞ, হিসাববিদ ও অর্থনীতিবিদদের নিয়ে একটি উপদেষ্টা দল গঠন করা যেতে পারে। অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন, যেখানে কেবল নাম পরিবর্তন না করে অটোমেশন এবং করদাতাদের জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।