ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আজ হিলি হানাদার মুক্ত দিবস

মোঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী কৌশিকঃ

 

আজ ১১ ডিসেম্বর হিলি পাক-হানাদার মুক্ত দিবস।”ক্ষনিকের জন্য হলেও কাঁদিয়ে তোলে হিলিবাসীকে”। পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন, হত্যা যজ্ঞ আর সম্ভ্রম হানির ঘটনা। স্বরণ করিয়ে দেয় সেই ১৯৭১ সাল, ১১ ডিসেম্বরের ভয়াল দিনের কথা। আজকের এই দিনে “হিলি শক্র মুক্ত” হয়েছিলো।

 

স্বাধীনতার ৫৪ টি বছর পেরিয়ে গেলো। এই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী মানুষ সেদিন হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলো চরম সাহসিকতায়। হানাদার বাহিনী থেমে থেমে মেতে উঠেছিলো নির্মম হত্যাযজ্ঞে। আক্রমন চালিয়েছিলো নিরীহ হিলি সীমান্তবাসীর ওপর।

 

‘সম্মুখ সমর’ ও বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার সুড়োংগো করে সন্মুখ যুদ্ধে মেতেছিলো হানাদারেরা।

 

পাকহানাদাররা উপজেলার ছাতনী গ্রামে শক্ত ঘাটি প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন দিকে ক্যাম্প গঠনের মাধ্যমে ভারী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান গ্রহণ করে এবং মুহাড়া পাড়ায় তারা একটি গভীর খাল কেটে বেশ কয়েকটি বাংকার তৈরী করে। ৬-৭ হাজার পাক সেনা ৪০টি ট্যাংক নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন দানের পর হিলিতে ভারত-বাংলাদেশ মিত্র বাহিনীর সাথে পাক সেনাদের প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়।

 

প্রথমদিকে মুহাড়া পাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাসহ মিত্র বাহিনী ব্যাপক তীরের সম্মুখিন হয়। পরবর্তীতে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা আরো সু-সংঘঠিত হয়ে ১০ ডিসেম্বর মুহাড়া পাড়া এলাকাসহ পাক সেনাদের বিভিন্ন আস্তানায় আকাশ পথে এবং স্থলপথে একসঙ্গে হামলা চালায়।

 

এসময় দুইদিন ধরে প্রচন্ড যুদ্ধের পর পাকহানাদার বাহিনী পরাস্থ হলে ১১ ডিসেম্বর বেলা ১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) হানদার মুক্ত হয়। শহীদদের স্বরনে হিলিতে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ “সন্মুখ সমর”।

প্রতিবছরের ন্যায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে ১১ ডিসেম্বর সীমান্তের জিরো পয়েন্ট মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বাহির হয়ে সম্মুখ সমর এ গিয়ে শেষ হবে এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা বিশেষ দোয়া করা হবে।

 

উক্ত কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধারাসহ এলাকাবাসী অংশ গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। ওই দিন নিহত মুক্তিসেনাদের স্মৃতি চারণ, রুহের মাগফেরাত কামনাসহ বিভিন্ন কর্মসুচির মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন হিলিবাসী।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সেভ রংপুর’ প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন: পরিচয় গোপন রেখে অপরাধের তথ্য দিতে পারবেন নাগরিকরা

error: Content is protected !!

আজ হিলি হানাদার মুক্ত দিবস

আপডেট টাইম : ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
মোঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী কৌশিক, হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

মোঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী কৌশিকঃ

 

আজ ১১ ডিসেম্বর হিলি পাক-হানাদার মুক্ত দিবস।”ক্ষনিকের জন্য হলেও কাঁদিয়ে তোলে হিলিবাসীকে”। পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন, হত্যা যজ্ঞ আর সম্ভ্রম হানির ঘটনা। স্বরণ করিয়ে দেয় সেই ১৯৭১ সাল, ১১ ডিসেম্বরের ভয়াল দিনের কথা। আজকের এই দিনে “হিলি শক্র মুক্ত” হয়েছিলো।

 

স্বাধীনতার ৫৪ টি বছর পেরিয়ে গেলো। এই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী মানুষ সেদিন হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলো চরম সাহসিকতায়। হানাদার বাহিনী থেমে থেমে মেতে উঠেছিলো নির্মম হত্যাযজ্ঞে। আক্রমন চালিয়েছিলো নিরীহ হিলি সীমান্তবাসীর ওপর।

 

‘সম্মুখ সমর’ ও বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার সুড়োংগো করে সন্মুখ যুদ্ধে মেতেছিলো হানাদারেরা।

 

পাকহানাদাররা উপজেলার ছাতনী গ্রামে শক্ত ঘাটি প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন দিকে ক্যাম্প গঠনের মাধ্যমে ভারী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান গ্রহণ করে এবং মুহাড়া পাড়ায় তারা একটি গভীর খাল কেটে বেশ কয়েকটি বাংকার তৈরী করে। ৬-৭ হাজার পাক সেনা ৪০টি ট্যাংক নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন দানের পর হিলিতে ভারত-বাংলাদেশ মিত্র বাহিনীর সাথে পাক সেনাদের প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়।

 

প্রথমদিকে মুহাড়া পাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাসহ মিত্র বাহিনী ব্যাপক তীরের সম্মুখিন হয়। পরবর্তীতে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা আরো সু-সংঘঠিত হয়ে ১০ ডিসেম্বর মুহাড়া পাড়া এলাকাসহ পাক সেনাদের বিভিন্ন আস্তানায় আকাশ পথে এবং স্থলপথে একসঙ্গে হামলা চালায়।

 

এসময় দুইদিন ধরে প্রচন্ড যুদ্ধের পর পাকহানাদার বাহিনী পরাস্থ হলে ১১ ডিসেম্বর বেলা ১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) হানদার মুক্ত হয়। শহীদদের স্বরনে হিলিতে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ “সন্মুখ সমর”।

প্রতিবছরের ন্যায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে ১১ ডিসেম্বর সীমান্তের জিরো পয়েন্ট মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বাহির হয়ে সম্মুখ সমর এ গিয়ে শেষ হবে এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা বিশেষ দোয়া করা হবে।

 

উক্ত কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধারাসহ এলাকাবাসী অংশ গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। ওই দিন নিহত মুক্তিসেনাদের স্মৃতি চারণ, রুহের মাগফেরাত কামনাসহ বিভিন্ন কর্মসুচির মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকেন হিলিবাসী।