ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

অস্তিত্ব নেই মায়ের কবরটারও! ঘর থেকে নদীর দুরত্ব প্রায় ৫ হাত

আমার মায়ের কবরটার অস্তিত্বও নেই! ঘর থেকে নদীর দুরত্ব প্রায় ৫ হাত। এইতো কয়েক দিন আগেই আমার ভাই প্রায় ২/৩ লক্ষ টাকা খরচ করে পুরাতন ঘর ভেঙ্গে নতুন ঘর তোলে। সেই ঘরটাও এখন যেকোন মূহুর্তে নদীতে বিলিন হয়ে যাবে।  আমার বাবার প্রায় ১-১৫০ শতাংশ জমি এই নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আমার দাদা, দাদী, ফুফু, বাবা, সবার কবরই নদীর ভয়াল গ্রাসে কেড়ে নিয়েছে। কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলেন, নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা শাফিন আমান।
সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বিলিন হচ্ছে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদ। নদী পাড়ের ১০গ্রামে তীব্র ভাঙনে দিশেহারা শতশত পরিবার। দফায়  দফায় বাড়ি ছেড়েও রক্ষা মিলছে না। বর্ষা মৌসুম আসলেই শংস্কায় দিন কাটে নদী পাড়ের মানুষের।
এলাকাবাসী জানায়, সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবার তাদের মাথা গোজার শেষ সম্বল ভিটেমাটি হারিয়ে আজ তারা দিশে হারা।  এক সময়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নদীর ভয়াল গ্রাসে সব হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উপজেলার তিমিরকাঠি, খোজাখালি, মল্লিকপুর, সিকদারপাড়া, বহরমপুর,ষাটপাকিয়া, কাঠিপাড়া, অনুরাগসহ ১০টিরও বেশি গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এরমধ্যে খোজাখালি, দরিরচর ও তিমিরকাঠি এই তিনটি গ্রামের  সম্পূর্নরুপে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সিকদারপাড়া গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। শুধু ঘড়বাড়ি নয়, নদী গর্ভে বিলিনের পথে নলছিটি- দপদপিয়া আঞ্চলিক সড়কও। কর্তৃপক্ষ নামে মাত্র ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েছে যা কোন কাজে আসছে না।
এ ব্যাপারে জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম.নিলয় পাশা বলেন, নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রথম পর্যায়ে ৭টি স্থানে ১৩কিঃমিঃ এলাকায় ডাম্পিংয়ের জন্য ৮শ ৫৫কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদন হলে নদী পাড়ের মানুষজনকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা যাবে বলে আশা করি।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ইমোশনের বিষয় নেই, আইনটাকে প্রয়োগ করব: আইনমন্ত্রী

error: Content is protected !!

অস্তিত্ব নেই মায়ের কবরটারও! ঘর থেকে নদীর দুরত্ব প্রায় ৫ হাত

আপডেট টাইম : ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৩
মোঃ আমিন হোসেন, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি :
আমার মায়ের কবরটার অস্তিত্বও নেই! ঘর থেকে নদীর দুরত্ব প্রায় ৫ হাত। এইতো কয়েক দিন আগেই আমার ভাই প্রায় ২/৩ লক্ষ টাকা খরচ করে পুরাতন ঘর ভেঙ্গে নতুন ঘর তোলে। সেই ঘরটাও এখন যেকোন মূহুর্তে নদীতে বিলিন হয়ে যাবে।  আমার বাবার প্রায় ১-১৫০ শতাংশ জমি এই নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আমার দাদা, দাদী, ফুফু, বাবা, সবার কবরই নদীর ভয়াল গ্রাসে কেড়ে নিয়েছে। কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলেন, নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা শাফিন আমান।
সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বিলিন হচ্ছে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদ। নদী পাড়ের ১০গ্রামে তীব্র ভাঙনে দিশেহারা শতশত পরিবার। দফায়  দফায় বাড়ি ছেড়েও রক্ষা মিলছে না। বর্ষা মৌসুম আসলেই শংস্কায় দিন কাটে নদী পাড়ের মানুষের।
এলাকাবাসী জানায়, সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গনে শতাধিক পরিবার তাদের মাথা গোজার শেষ সম্বল ভিটেমাটি হারিয়ে আজ তারা দিশে হারা।  এক সময়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নদীর ভয়াল গ্রাসে সব হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উপজেলার তিমিরকাঠি, খোজাখালি, মল্লিকপুর, সিকদারপাড়া, বহরমপুর,ষাটপাকিয়া, কাঠিপাড়া, অনুরাগসহ ১০টিরও বেশি গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এরমধ্যে খোজাখালি, দরিরচর ও তিমিরকাঠি এই তিনটি গ্রামের  সম্পূর্নরুপে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সিকদারপাড়া গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। শুধু ঘড়বাড়ি নয়, নদী গর্ভে বিলিনের পথে নলছিটি- দপদপিয়া আঞ্চলিক সড়কও। কর্তৃপক্ষ নামে মাত্র ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েছে যা কোন কাজে আসছে না।
এ ব্যাপারে জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম.নিলয় পাশা বলেন, নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রথম পর্যায়ে ৭টি স্থানে ১৩কিঃমিঃ এলাকায় ডাম্পিংয়ের জন্য ৮শ ৫৫কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদন হলে নদী পাড়ের মানুষজনকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা যাবে বলে আশা করি।