ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সিজারে প্রসূতির মৃত্যু

গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতাল ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কমলি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোদাগাড়ীজুড়ে। গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মান, অপারেশন ব্যবস্থাপনা, রোগ নির্ণয় ও রিপোর্ট প্রদান, চিকিৎসক-নার্সের ভূমিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ হাসপাতালটি বন্ধ ও সিলগালা করার দাবিও জানিয়েছেন।

 

এদিকে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তদন্ত কমিটি হাসপাতালে অবস্থান করছে—এমন খবর পেয়ে কমলি বেগমের স্বজনরা সেখানে গেলে তাঁদের তদন্ত দলের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি এবং হাসপাতালে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

 

নিহত কমলি বেগম গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মেডিকেল মোড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। স্বজনদের অভিযোগ, সন্তান জন্মদানের আশায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে নবজাতকসহ তিন কন্যাসন্তান মাকে হারিয়েছে। অন্য দুই কন্যা তানিয়া খাতুনের বয়স ৯ বছর এবং মাহবুবা ইয়াসমিনের বয়স ৬ বছর।

 

স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয়দের পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

সোনিয়া খাতুন নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, এর আগেও হাসপাতালে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় ভুল বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।

 

Md Tonmoy নামে একজন আগের মৃত্যুর ঘটনাগুলো অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

এ ছাড়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি, সিজার করার পরামর্শ, রোগ নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। Zahid Hasan নামে একজন দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা করানোর পর সেখানে সন্তান নেই, টিউমার রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। পরে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী বলে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

Md Sohel Rana নামে একজনের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলে প্রায়ই সিজার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে Shahnur Alom নামে একজন রিসেপশনে থাকা কর্মীদের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। আরও কয়েকজন হাসপাতালের নার্স, চিকিৎসক ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তদন্ত কমিটি গঠন

প্রসূতি কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের কথা জানিয়েছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এই ঘটনার তদন্ত হবে। তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।’

 

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনাটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

স্বজনদের বক্তব্য নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে তদন্ত কমিটি হাসপাতালে যাওয়ার পর নিহত প্রসূতির স্বজনদের সঙ্গে তদন্ত দলের কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্বজনদের দাবি, মঙ্গলবার তাঁরা তদন্ত দলের সঙ্গে কথা বলতে এবং ঘটনার বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হাসপাতালে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়।

 

স্বজনদের ভাষ্য, চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম, অবহেলা বা ভুল হয়ে থাকলে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। তাই তাঁদের বক্তব্য কেন নেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

 

স্থানীয়দের দাবি, শুধু কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনাই নয়, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হোক। বিশেষ করে সিজারের সিদ্ধান্ত, অপারেশনে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি, রোগীর চিকিৎসা নথি, ব্যবহৃত ওষুধ, অপারেশনের আগে ও পরের চিকিৎসা, রোগ নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং অতীতে একই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, ঘটলে সেসব ঘটনার নথিও পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

 

নিহত কমলি বেগমের স্বজন ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বেড়েছে অপরাধ: ৮ মাসে ১০ খুন, চুরি-ডাকাতিতে জনমনে আতঙ্ক

error: Content is protected !!

সিজারে প্রসূতির মৃত্যু

গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতাল ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট টাইম : ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কমলি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোদাগাড়ীজুড়ে। গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার মান, অপারেশন ব্যবস্থাপনা, রোগ নির্ণয় ও রিপোর্ট প্রদান, চিকিৎসক-নার্সের ভূমিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ হাসপাতালটি বন্ধ ও সিলগালা করার দাবিও জানিয়েছেন।

 

এদিকে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ও কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তদন্ত কমিটি হাসপাতালে অবস্থান করছে—এমন খবর পেয়ে কমলি বেগমের স্বজনরা সেখানে গেলে তাঁদের তদন্ত দলের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি এবং হাসপাতালে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

 

নিহত কমলি বেগম গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মেডিকেল মোড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। স্বজনদের অভিযোগ, সন্তান জন্মদানের আশায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে নবজাতকসহ তিন কন্যাসন্তান মাকে হারিয়েছে। অন্য দুই কন্যা তানিয়া খাতুনের বয়স ৯ বছর এবং মাহবুবা ইয়াসমিনের বয়স ৬ বছর।

 

স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয়দের পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

সোনিয়া খাতুন নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, এর আগেও হাসপাতালে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় ভুল বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।

 

Md Tonmoy নামে একজন আগের মৃত্যুর ঘটনাগুলো অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

এ ছাড়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি, সিজার করার পরামর্শ, রোগ নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। Zahid Hasan নামে একজন দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা করানোর পর সেখানে সন্তান নেই, টিউমার রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। পরে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী বলে জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

 

Md Sohel Rana নামে একজনের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলে প্রায়ই সিজার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে Shahnur Alom নামে একজন রিসেপশনে থাকা কর্মীদের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। আরও কয়েকজন হাসপাতালের নার্স, চিকিৎসক ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তদন্ত কমিটি গঠন

প্রসূতি কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের কথা জানিয়েছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এই ঘটনার তদন্ত হবে। তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।’

 

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনাটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

স্বজনদের বক্তব্য নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে তদন্ত কমিটি হাসপাতালে যাওয়ার পর নিহত প্রসূতির স্বজনদের সঙ্গে তদন্ত দলের কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্বজনদের দাবি, মঙ্গলবার তাঁরা তদন্ত দলের সঙ্গে কথা বলতে এবং ঘটনার বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হাসপাতালে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়।

 

স্বজনদের ভাষ্য, চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম, অবহেলা বা ভুল হয়ে থাকলে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। তাই তাঁদের বক্তব্য কেন নেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

 

স্থানীয়দের দাবি, শুধু কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনাই নয়, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হোক। বিশেষ করে সিজারের সিদ্ধান্ত, অপারেশনে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি, রোগীর চিকিৎসা নথি, ব্যবহৃত ওষুধ, অপারেশনের আগে ও পরের চিকিৎসা, রোগ নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং অতীতে একই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, ঘটলে সেসব ঘটনার নথিও পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

 

নিহত কমলি বেগমের স্বজন ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্ত যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা বা অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।