ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

মানববন্ধনে শরিফুলের নিঃশর্ত মুক্তি ও সুষ্ঠু তদন্দের দাবীতে মানববন্ধন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ শরিফুল ইসলামকে ষড়যন্ত্রমূলক অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে শরিফুল ইসলামের মা নিলুফা বেগম, স্ত্রী সুইটি বেগম ও বড় বোন রেখা বেগমসহ ইউনিয়নের সহস্রাধীক নারী-পুরুষ ও ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন।

শরিফুলের মা নিলুফা বেগম বুক চাপড়িয়ে মানববন্ধনে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন ‘আমার শরিফুল নির্দোষ, আমার ছেলেকে অস্ত্র দিয়ে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে, তোমার আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। আমি শরিফুলের কাছে যাবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের রান্না ঘরে অস্ত্র রেখে আমার শরিফুলকে ষড়যন্ত্র করে র‌্যাব দিয়ে রাতের আধারে ধরিয়ে দিয়েছে। আটককৃত অস্ত্রটি পরিক্ষা করে দেখুন আমার ছেলের আঙ্গুলের ছাপ আছে কি না? আমি সুষ্ঠু তদন্দের দাবি করছি।

শরিফুল মেম্বারের স্ত্রী সুইটি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অনেক ভালো মানুষ, আমাদের বসতঘরের পাশে উন্মুক্ত রান্না ঘরে অস্ত্র রেখে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। এলাকাবাসী কেউ বলতে পারবে না আমার স্বামী খারপ মানুষ, সে যদি খারাপ লোক হতো তাহলে এলাকাবাসী তারে বার বার ভোট দিয়ে মেম্বার নির্বাচন করতো না।’ আমার চারটি সন্তান নিয়ে ভয়ের মধ্যে দিন পার করছি আমার স্বামীর মুক্তি চাই। এ মিথ্যা ঘটনার সুষ্ট তদন্দের দাবি করছি।

অন্যন্যা বক্তারা বলেন, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের একাধিক বার নির্বাচিত জনপ্রিয় ইউপি সদস্য। নির্বাচনে পরাজিত প্রতিপক্ষ তাকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ঝামেলায় জড়ানোর পাঁয়তারা করে আসছে। শেষমেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভূল তথ্য দিয়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে আসল অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও সৈয়দ শরিফুল ইসলামকে মামলা থেকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তারা।

 

গত ১০ মার্চ রাতে উপজেলার বিদ্যাধর গ্রামে ইউপি সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলামের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আলফাডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া র‌্যাব-৬। এ সময় তার বসতঘরের পাশে উন্মুক্ত রান্না ঘরে থেকে একটি দেশি ওয়ান শুটার, একটি চাপাতি এবং ছয়টি লোহার ঢাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রেস রিলিজ দেয় র‌্যাব।

 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক, ছানোয়ার মিয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন পিকুল, সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিব মিয়া, ইউপি সদস্য শওকত হোসেন, ইনামুল মোল্যা, রবিউল ইসলাম, জাকার মেম্বার, চুন্নু মিয়া, নারী সদস্য মরজিনা বেগম, সাহিদা বেগম স্বপ্না, সাবেক ইউপি সদস্য রফিক মিয়া ও যুবলীগ নেতা নাহিদুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে গোপালগঞ্জে যোগদান করলেন উখিং মে

error: Content is protected !!

মানববন্ধনে শরিফুলের নিঃশর্ত মুক্তি ও সুষ্ঠু তদন্দের দাবীতে মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ০৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ শরিফুল ইসলামকে ষড়যন্ত্রমূলক অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে শরিফুল ইসলামের মা নিলুফা বেগম, স্ত্রী সুইটি বেগম ও বড় বোন রেখা বেগমসহ ইউনিয়নের সহস্রাধীক নারী-পুরুষ ও ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন।

শরিফুলের মা নিলুফা বেগম বুক চাপড়িয়ে মানববন্ধনে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন ‘আমার শরিফুল নির্দোষ, আমার ছেলেকে অস্ত্র দিয়ে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে, তোমার আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও। আমি শরিফুলের কাছে যাবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের রান্না ঘরে অস্ত্র রেখে আমার শরিফুলকে ষড়যন্ত্র করে র‌্যাব দিয়ে রাতের আধারে ধরিয়ে দিয়েছে। আটককৃত অস্ত্রটি পরিক্ষা করে দেখুন আমার ছেলের আঙ্গুলের ছাপ আছে কি না? আমি সুষ্ঠু তদন্দের দাবি করছি।

শরিফুল মেম্বারের স্ত্রী সুইটি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অনেক ভালো মানুষ, আমাদের বসতঘরের পাশে উন্মুক্ত রান্না ঘরে অস্ত্র রেখে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। এলাকাবাসী কেউ বলতে পারবে না আমার স্বামী খারপ মানুষ, সে যদি খারাপ লোক হতো তাহলে এলাকাবাসী তারে বার বার ভোট দিয়ে মেম্বার নির্বাচন করতো না।’ আমার চারটি সন্তান নিয়ে ভয়ের মধ্যে দিন পার করছি আমার স্বামীর মুক্তি চাই। এ মিথ্যা ঘটনার সুষ্ট তদন্দের দাবি করছি।

অন্যন্যা বক্তারা বলেন, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের একাধিক বার নির্বাচিত জনপ্রিয় ইউপি সদস্য। নির্বাচনে পরাজিত প্রতিপক্ষ তাকে দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ঝামেলায় জড়ানোর পাঁয়তারা করে আসছে। শেষমেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভূল তথ্য দিয়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে আসল অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও সৈয়দ শরিফুল ইসলামকে মামলা থেকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তারা।

 

গত ১০ মার্চ রাতে উপজেলার বিদ্যাধর গ্রামে ইউপি সদস্য সৈয়দ শরিফুল ইসলামের বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আলফাডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া র‌্যাব-৬। এ সময় তার বসতঘরের পাশে উন্মুক্ত রান্না ঘরে থেকে একটি দেশি ওয়ান শুটার, একটি চাপাতি এবং ছয়টি লোহার ঢাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রেস রিলিজ দেয় র‌্যাব।

 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক, ছানোয়ার মিয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন পিকুল, সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিব মিয়া, ইউপি সদস্য শওকত হোসেন, ইনামুল মোল্যা, রবিউল ইসলাম, জাকার মেম্বার, চুন্নু মিয়া, নারী সদস্য মরজিনা বেগম, সাহিদা বেগম স্বপ্না, সাবেক ইউপি সদস্য রফিক মিয়া ও যুবলীগ নেতা নাহিদুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।