ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

নির্বাচন বানচালের চেষ্টার ফল ভালো হবে নাঃ -প্রধানমন্ত্রী

-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা (বিএনপি) নির্বাচনে আসুক, কার কত দৌড়, তা দেখা যাক। জনগণ কাকে চায়, তা যাচাই করা যাক।

 

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।

 

যেসব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যারা এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন, তাদের বলব, আপনারা নির্বাচনে আসেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। জনগণের ভোট আমাদের চুরি করা লাগবে না। জনগণের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। এ সময় শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবেন না। যদি তা করেন, তাহলে এর পরিণতি কারও জন্য ভালো হবে না।

 

আওয়ামী লীগের আমলে প্রতিটি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে আমরা নির্বাচন করি। বারবার বলেছি, নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে, সেটাই আমরা চাই।

 

দেশবাসীর উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আপনাদের যাকে খুশি তাকে ভোট দিন, এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নেই। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে আমার আহ্বান থাকবে, জাতির সেবায় আবার আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিন। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা নির্বাচন করব।

 

নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করতে আওয়ামী লীগ সরকার আইন করে দিয়েছে। যার অধীনে এখন দেশে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে ৮২টি সংশোধনী আনা হয়েছে।

 

বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা নির্বাচনে আসবে না। নির্বাচনে আসার মতো তাদের আস্থা-বিশ্বাস নেই। একটা দলের মাথা কোথায়? বিএনপি কি বাংলাদেশে একজন নেতাও পেল না, যাকে তারা দলের চেয়ারম্যান করতে পারে?

 

শেখ হাসিনা বলেন, দল যখন আছে, আর কিছু না হোক, নির্বাচনের নমিনেশন বিক্রি করা, এটাও তো একটা ব্যবসা তাদের (বিএনপি)। এর আগে সে ব্যবসাই তারা করেছে। এবার তো তা করতে পারে। সেজন্য দলটি নির্বাচনে আসুক, তিনি সেই আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বিএনপি মিছিল-মিটিং করছিল, ভদ্রভাবে রাজনীতি করছিল, তখন তাদের ওপর মানুষের আস্থা ফিরে আসছিল। তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছিল। তারা মানুষের সমর্থন পাচ্ছিল। জমায়েতও ভালো করছিল। তারা যখন জ্বালাও-পোড়াও শুরু করল, তখন আগের অবস্থানে চলে গেছে।

 

তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর সন্ত্রাস করে, প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আক্রমণ করে এবং মানুষকে মেরে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিল তারা। রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয়, তাহলে সরকারে যাওয়া যায়। কিন্তু তারা যেই কাজগুলো করে যাচ্ছে, তা জনগণ মেনে নেয়নি। ছাত্রছাত্রীরা আজ পরীক্ষা দিতে পারছে না। হরতালের কারণে স্কুলে যেতে পারছে না। আগুন দিয়ে বিএনপি গাড়ি পোড়াচ্ছে, ট্রেন পোড়াচ্ছে, মানুষের ওপর হামলা করছে। হরতাল, অবরোধ, অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ অগ্নিসন্ত্রাসের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে ধরতে হবে। পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পায়। কারণ, তাদের দুই শীর্ষ নেতা দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কেউ নেই। তারেকের বিরুদ্ধে এফবিআই এবং কানাডিয়ান পুলিশ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সাক্ষ্য দিয়েছে। ক্ষমতায় এলে এরা দেশকে আবার খুবলে খাবে, দেশকে পিছিয়ে দেবে। কারণ, এরা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না, চেতনায় বিশ্বাস করে না, উন্নয়নে বিশ্বাস করে না, শুধু নিজেদের ভাগ্য গড়ায় বিশ্বাস করে।

 

বিএনপির প্রতি বিদেশিদের সমর্থনের বিষয়ে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন বড় দেশ তাদের সমর্থন দিল, তাতে কিছু যায়-আসে না। আমার কাছে আমার বাংলাদেশ বড়। এর থেকে বড় আর কেউ নয়। আমি দেশের জন্য কাজ করি। কারও তাঁবেদারি করার জন্য নয়, পদলেহন করার জন্যও নয়।

 

দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ধ্বংস করার জন্য নানা প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিকভাবে তারা পারেনি, এখন অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে চাপে ফেলবে, সেই চেষ্টা চালাচ্ছে। পৃথিবীর কিছু মোড়ল আছে, তারা এক জায়গায় যুদ্ধ হলে বলে সেটা ইনভেনশন; আরেক জায়গায় যুদ্ধ হলে সেটা ‘ইনভেনশন’ না। যেখানে তাদের সমর্থন আছে, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও তা মানবাধিকার লঙ্ঘন না। অন্য জায়গায় হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এরা দুমুখো। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ধ্বংস করার এটা একটা চক্রান্ত।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

নির্বাচন বানচালের চেষ্টার ফল ভালো হবে নাঃ -প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৩

বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা (বিএনপি) নির্বাচনে আসুক, কার কত দৌড়, তা দেখা যাক। জনগণ কাকে চায়, তা যাচাই করা যাক।

 

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।

 

যেসব দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যারা এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন, তাদের বলব, আপনারা নির্বাচনে আসেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। জনগণের ভোট আমাদের চুরি করা লাগবে না। জনগণের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। এ সময় শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবেন না। যদি তা করেন, তাহলে এর পরিণতি কারও জন্য ভালো হবে না।

 

আওয়ামী লীগের আমলে প্রতিটি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে আমরা নির্বাচন করি। বারবার বলেছি, নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে, সেটাই আমরা চাই।

 

দেশবাসীর উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আপনাদের যাকে খুশি তাকে ভোট দিন, এ ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নেই। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে আমার আহ্বান থাকবে, জাতির সেবায় আবার আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিন। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা নির্বাচন করব।

 

নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করতে আওয়ামী লীগ সরকার আইন করে দিয়েছে। যার অধীনে এখন দেশে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে ৮২টি সংশোধনী আনা হয়েছে।

 

বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা নির্বাচনে আসবে না। নির্বাচনে আসার মতো তাদের আস্থা-বিশ্বাস নেই। একটা দলের মাথা কোথায়? বিএনপি কি বাংলাদেশে একজন নেতাও পেল না, যাকে তারা দলের চেয়ারম্যান করতে পারে?

 

শেখ হাসিনা বলেন, দল যখন আছে, আর কিছু না হোক, নির্বাচনের নমিনেশন বিক্রি করা, এটাও তো একটা ব্যবসা তাদের (বিএনপি)। এর আগে সে ব্যবসাই তারা করেছে। এবার তো তা করতে পারে। সেজন্য দলটি নির্বাচনে আসুক, তিনি সেই আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বিএনপি মিছিল-মিটিং করছিল, ভদ্রভাবে রাজনীতি করছিল, তখন তাদের ওপর মানুষের আস্থা ফিরে আসছিল। তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছিল। তারা মানুষের সমর্থন পাচ্ছিল। জমায়েতও ভালো করছিল। তারা যখন জ্বালাও-পোড়াও শুরু করল, তখন আগের অবস্থানে চলে গেছে।

 

তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর সন্ত্রাস করে, প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আক্রমণ করে এবং মানুষকে মেরে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিল তারা। রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয়, তাহলে সরকারে যাওয়া যায়। কিন্তু তারা যেই কাজগুলো করে যাচ্ছে, তা জনগণ মেনে নেয়নি। ছাত্রছাত্রীরা আজ পরীক্ষা দিতে পারছে না। হরতালের কারণে স্কুলে যেতে পারছে না। আগুন দিয়ে বিএনপি গাড়ি পোড়াচ্ছে, ট্রেন পোড়াচ্ছে, মানুষের ওপর হামলা করছে। হরতাল, অবরোধ, অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ অগ্নিসন্ত্রাসের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে ধরতে হবে। পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পায়। কারণ, তাদের দুই শীর্ষ নেতা দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কেউ নেই। তারেকের বিরুদ্ধে এফবিআই এবং কানাডিয়ান পুলিশ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সাক্ষ্য দিয়েছে। ক্ষমতায় এলে এরা দেশকে আবার খুবলে খাবে, দেশকে পিছিয়ে দেবে। কারণ, এরা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না, চেতনায় বিশ্বাস করে না, উন্নয়নে বিশ্বাস করে না, শুধু নিজেদের ভাগ্য গড়ায় বিশ্বাস করে।

 

বিএনপির প্রতি বিদেশিদের সমর্থনের বিষয়ে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন বড় দেশ তাদের সমর্থন দিল, তাতে কিছু যায়-আসে না। আমার কাছে আমার বাংলাদেশ বড়। এর থেকে বড় আর কেউ নয়। আমি দেশের জন্য কাজ করি। কারও তাঁবেদারি করার জন্য নয়, পদলেহন করার জন্যও নয়।

 

দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ধ্বংস করার জন্য নানা প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিকভাবে তারা পারেনি, এখন অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে চাপে ফেলবে, সেই চেষ্টা চালাচ্ছে। পৃথিবীর কিছু মোড়ল আছে, তারা এক জায়গায় যুদ্ধ হলে বলে সেটা ইনভেনশন; আরেক জায়গায় যুদ্ধ হলে সেটা ‘ইনভেনশন’ না। যেখানে তাদের সমর্থন আছে, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও তা মানবাধিকার লঙ্ঘন না। অন্য জায়গায় হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এরা দুমুখো। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ধ্বংস করার এটা একটা চক্রান্ত।