ঢাকা , রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

কুষ্টিয়ায় তামাক চাষে ঝুঁকছে নারী-শিশুরা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর,মিরপুর,ভেড়ামারায় দিনদিন বাড়ছে তামাক চাষ। দেশি-বিদেশি সিগারেট কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করছে চাষিদের। চাষে অগ্রিম টাকা দেয়ায় কৃষকরাও তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আর এই চাষে বেশি ঝুঁকছে নারীরা। দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল গিয়ে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চিলমারী ইউনিয়নের তামাক শ্রমিক সাজেদা বেগম (৩৮)। অন্যের জমিতে কাজ করে দিন শেষে মজুরি হিসেবে দেড় শত টাকা পান। স্বামীর সংসারে হাল ধরতে তিনি তামাক চাষের কাজ করছেন। তার উপার্জিত এই টাকা দিয়েই ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার খরচ যোগান। বর্তমানে তার স্বামী অসুস্থ।

দৌলতপুর শত শত হেক্টর জমিতে বিষাক্ত এই তামাক চাষ করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি তামাকজাত দ্রব্য বিভিন্ন কোম্পানি বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে প্রজেক্ট তৈরি করছে।

নারী-পুরুষদের পাশাপাশি শিশুরাও তামাক চাষে জড়িয়ে যাচ্ছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তামাক শ্রমিকের কাজ করছে। তারা কেউ তামাকের আইলচা বাঁধছে, গাছ থেকে পাতা ভাঙছে, পাতা শুকাচ্ছে, গাছের আগাছা পরিষ্কার করছে আবার কেউ বা শুকানো তামাকগুলো বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। তবে শিশুদের দিন শেষে মজুরি দেয়া হয় ৫০/৬০টাকা হারে।

তামাক শ্রমিক রজিনা বেগম তিনি বলেন, ‘তামাকের কাজ করে দিন শেষে ১৫০ টাকা দেয় ক্ষেতের মালিক। উপার্জিত এই টাকা সংসার না চললেও কিছুটা সহযোগিতা করা যায় স্বামীকে। তবে তামাক চাষি লাভবান বেশি হলেও কম মজুরি দেয় আমাদের। অনেক সময় কম টাকাতেই কাজ করতে হয়।

তামাক ক্ষেতে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নারী বলেন, ‘তামাক চাষে বেশির ভাগই নারীরা কাজ করে থাকি। কাজের পারিশ্রমিক খুবই কম। বর্তমানে একজন পুরুষ শ্রমিকের মূল্য ৪শ ৫০ টা। আর আমরা পাচ্ছি মাত্র ১শ ২শ টাকা। এতে করে আমরা নারী শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছি না।

তামাক চাষিরা জানান, ভুট্টা চাষের তুলনায় তামাক চাষে লাভ হচ্ছে। সিগারেট কোম্পানিগুলোর খরচে ও সহযোগিতায় জেগে ওঠা চরে তামাক চাষ করেছি। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জানি। তারপরও ক্ষেতের জমি পরিত্যক্ত রেখে কি হবে। লাভ বেশি আর চাষের আগেই টাকা পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, তামাক চাষ না করার জন্য চরাঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তামাকের বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকর দিক নিয়ে প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবুও কিছু কৃষকরা প্রলোভনে পড়ে তামাকের চাষ করছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় তামাক চাষে ঝুঁকছে নারী-শিশুরা

আপডেট টাইম : ০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ মার্চ ২০২১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর,মিরপুর,ভেড়ামারায় দিনদিন বাড়ছে তামাক চাষ। দেশি-বিদেশি সিগারেট কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করছে চাষিদের। চাষে অগ্রিম টাকা দেয়ায় কৃষকরাও তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আর এই চাষে বেশি ঝুঁকছে নারীরা। দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল গিয়ে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চিলমারী ইউনিয়নের তামাক শ্রমিক সাজেদা বেগম (৩৮)। অন্যের জমিতে কাজ করে দিন শেষে মজুরি হিসেবে দেড় শত টাকা পান। স্বামীর সংসারে হাল ধরতে তিনি তামাক চাষের কাজ করছেন। তার উপার্জিত এই টাকা দিয়েই ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনার খরচ যোগান। বর্তমানে তার স্বামী অসুস্থ।

দৌলতপুর শত শত হেক্টর জমিতে বিষাক্ত এই তামাক চাষ করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি তামাকজাত দ্রব্য বিভিন্ন কোম্পানি বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে প্রজেক্ট তৈরি করছে।

নারী-পুরুষদের পাশাপাশি শিশুরাও তামাক চাষে জড়িয়ে যাচ্ছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তামাক শ্রমিকের কাজ করছে। তারা কেউ তামাকের আইলচা বাঁধছে, গাছ থেকে পাতা ভাঙছে, পাতা শুকাচ্ছে, গাছের আগাছা পরিষ্কার করছে আবার কেউ বা শুকানো তামাকগুলো বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। তবে শিশুদের দিন শেষে মজুরি দেয়া হয় ৫০/৬০টাকা হারে।

তামাক শ্রমিক রজিনা বেগম তিনি বলেন, ‘তামাকের কাজ করে দিন শেষে ১৫০ টাকা দেয় ক্ষেতের মালিক। উপার্জিত এই টাকা সংসার না চললেও কিছুটা সহযোগিতা করা যায় স্বামীকে। তবে তামাক চাষি লাভবান বেশি হলেও কম মজুরি দেয় আমাদের। অনেক সময় কম টাকাতেই কাজ করতে হয়।

তামাক ক্ষেতে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নারী বলেন, ‘তামাক চাষে বেশির ভাগই নারীরা কাজ করে থাকি। কাজের পারিশ্রমিক খুবই কম। বর্তমানে একজন পুরুষ শ্রমিকের মূল্য ৪শ ৫০ টা। আর আমরা পাচ্ছি মাত্র ১শ ২শ টাকা। এতে করে আমরা নারী শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছি না।

তামাক চাষিরা জানান, ভুট্টা চাষের তুলনায় তামাক চাষে লাভ হচ্ছে। সিগারেট কোম্পানিগুলোর খরচে ও সহযোগিতায় জেগে ওঠা চরে তামাক চাষ করেছি। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জানি। তারপরও ক্ষেতের জমি পরিত্যক্ত রেখে কি হবে। লাভ বেশি আর চাষের আগেই টাকা পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, তামাক চাষ না করার জন্য চরাঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তামাকের বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকর দিক নিয়ে প্রান্তিক কৃষকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবুও কিছু কৃষকরা প্রলোভনে পড়ে তামাকের চাষ করছেন।