ঢাকা , শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

গোমস্তাপুরে কৃষিতে আলো ছড়াচ্ছে আইপিএম প্রযুক্তি

আইপিএম বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় পরিবেশকে দুষণমুক্ত রেখে এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কৃষির ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ বালাইকে দমন করাই হলো আইপিএম। ইহা পরিবেশের ক্ষতি ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের সংখ্যা যথাসম্ভব একটি নির্দিষ্ট স্তরের নিচে রাখার উপযুক্ত কৌশল ও উপায়। বাংলাদেশ ১৯৮১ সালে জাতিসংঘের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সদস্যপদ লাভ করে।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সরকার ২০২২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন ধরে একশ একর জমিতে ‘আইপিএম’ মডেল প্রকল্প চালু করে। এর আওতায় এই ইউনিয়নের ৫শ জন সবজি চাষীকে ২০টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। চাষিদের বছরব্যাপী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।প্রকল্প শুরুতে প্রশিক্ষিত ওই সকল চাষি এখনও আইপিএম পদ্ধতিতে চাষবাস করে যাচ্ছে। আবার প্রশিক্ষিত চাষিদের কাছ থেকে শিখে আইপিএম ধারণা নিচ্ছে অন্য চাষিরা। এতে উৎপাদনে খরচ যেমন কমেছে পরিবেশেরও ভাল থাকছে। ফলস্বরূপ মানুষ পাচ্ছে বিষমুক্ত সবজি। এতে ওই এলাকার কৃষিতে আলো ছড়াচ্ছে আইপিএম প্রযুক্তি।

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব কৃষিতেও পড়েছে। ফসলে নতুন নতুন পোকামাকড় ও রোগ বালায়ের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। কৃষিজ উৎপাদনে উচ্চমাত্রার রাসায়নিক বালাইনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ,পাখি ও অনুজীব ইত্যাদি বিলুপ্ত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে জীব বৈচিত্র। মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দিনদিন বাড়ছে। তাই সরকার পরিবেশ বান্ধব কৌশলে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে আইপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে। পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পটি এ বছর একযোগে দেশের ২০ টি উপজেলার মধ্যে একটি গোমস্তাপুর উপজেলা।উপকারভোগী চাষি আলমপুরের মোঃ আশরাফুল হক জানান, আইপিএম পদ্ধতি পাল্টে দিয়েছে এখানের সবজি উৎপাদন ব্যবস্থ। কোন প্রকার কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদন করছি টমেটো, যেখানে আগে টমেটো চাষ করতে চারা রোপন থেকে টমেটো পাকা পর্যন্ত আমাদের কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। আগে আমরা নিজেরাই নিজের উৎপাদিত টমেটো বাসায় খেতাম না, এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে এখন রুচিসম্মত ভাবে খেতেও পারছি, এবং বাজারেও দাম ভাল পাচ্ছি, সাধারণত বাজারে টমেটোর থেকে আমাদের উৎপাদিত টমেটো ৮/১০ টাকা কেজিতে বেশী দামে বিক্রি করতে পারছি। এই পদ্ধতিতে টমেটো চাষে উৎপাদন ও দাম দুটোই বেশী পাচ্ছি। এতে আমি লাভবান হয়েছি।

লালাপুরের শশা চাষী নুরুল ইসলাম জানান, আমি ২০ শতাংশ জমতি এই পদ্ধতিতে শশা চাষ করেছি এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার শশা বিক্রি করেছি, আশা করছি আর ৪০/৫০ হাজার টাকার শশা বিক্রি হবে। এবং দামও ভাল পাচ্ছি বাজারে অন্যন্য শশার দামের চেয়ে ৭/৮ টাকা কেজিতে বেশী পাচ্ছি। জৈব সার আর এই পদ্ধতিতে শশা চাষে খরচ এক্কেবারেই অর্ধেকের নীচে কিন্তু উৎপাদন বেশী।

লালাপুরে অপর কৃষাণী জানান, আমি ২০ শতাংশ জমিতে করলা চাষ করেছি এই আইপিএম পদ্ধতিতে। করলা চাষে করে এতে সেচও কম লেগেছে এবং কীটনাশক মুক্ত করলা পাচ্ছি এবং উৎপাদনও ভাল পাচ্ছি বাজারে দামও ভাল পাচ্ছি, তিনি আরো জানান, এই পদ্ধতিতে চাষ করে শুধু ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ মারা যাচ্ছে কিন্তু উপকারী পোকা গুলোর কোন ক্ষতি হয় না। ফলে এই পদ্ধতিতে চাষে জীব-বৈচিত্রও রক্ষা পাচ্ছে। তবে তিনি একটি ‘ নিরাপদ সবজি বাজার ‘ স্থাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের নিকট জোর দাবী জানান।তবে তাদের উৎপাদিত সবজি আরো ভাল দাম পাবেন অপর দিকে ক্রেতারা ‘ নিরাপদ সবজি’ দ্রুত সময়ে পেয়ে যাবে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্প অঞ্চলে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরের সরকার এই কর্মসূচী পুনরায় গ্রহন করে। কর্মসূচি অঞ্চলে উচ্চ মূল্যের সবজি উৎপাদনের জন্য নেটহাউজ স্থাপন করা হয়। যান্ত্রিক উপায়ে ফসলের ক্ষতি করে এমন শত্রু পোকা দমন করা হয় এই পদ্ধতিতে। ফলে উপকারী পোকা, মাছ, ব্যাঙ, পশু, পাখি, গুইসাপসহ নানা উপকারী জীব রক্ষা পায়। কেঁচোসার, গোবরসার কম্পোস্টসহ বিভিন্ন জৈবসার ব্যবহার করে লালশাক, কলমিশাক, পটোল, করলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, কলা, ফলনো হয়। ফসলের ক্ষতিকারক রোগবালাই দমনে বাঁশ পদ্ধতি, ফেরোমন ফাঁদ, ফেরোমন লিউর, আলোর ফাঁদ, গোবর, হলুদ, আঠালো ফাঁদ, জালসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক উপায় ব্যবহার করা হয়। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কমে যায়। এ ‘নিরাপদ সবজি’ ক্ষেত গুলো এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতিদিনই অনেক দর্শনার্থী ভীর করছে দেখার জন্য । উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় এলাকায় অসংখ্য মানুষ জৈব সার তৈরি করে লাভবানও হচ্ছে অনেকেই।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তানভীর আহমেদ সরকার জানান,বালাই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। কর্মসূচির কার্যক্রম চলমান এর প্রভাব অধ্যবধি মাঠে বিদ্যমান।চাষিরা এই পদ্ধতি সাদরে গ্রহন করছে।বিস্তর এলাকা জুড়ে চাষিরা ওই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব উপায়ে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ,কৃষি, কৃষক ও জনস্বার্থের উন্নতি সাধন করাই এর লক্ষ্য। আইপিএম পদ্ধতির সুফল সকল চাষির কাছে পৌছে দিতে সরকারের কৃষি বিভাগ নিরন্তন চেষ্ঠা চলাচ্ছে বলে দাবী এই কৃষি কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা খাতুন জানান,গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়।আমি নিজেও সেখানে গিয়েছি। প্রকল্পটির আওতায় কৃষকরা সেখানে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করছে। । প্রকল্পটির মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতি ও মাঠের সৌন্দর্য সকলকে আকৃষ্ট করছে। কৃষকরা নিজেরাও খুব খুশি। আশে পাশের জনসাধারণ ও খুশি, কারণ তারা বিষমুক্ত সবজি খেতে পারবে। এক্ষেত্রে হাটে/বাজারে নিরাপদ সবজি কর্ণার নামে একটি কর্নার করার ব্যবস্থা করব যাতে করে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সুবিধা হয়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলাধুলা মানসিক বিকাশ ও শরীর গঠনে সহায়তা করেঃ -লিয়াকত সিকদার

error: Content is protected !!

গোমস্তাপুরে কৃষিতে আলো ছড়াচ্ছে আইপিএম প্রযুক্তি

আপডেট টাইম : ০২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২

আইপিএম বা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় পরিবেশকে দুষণমুক্ত রেখে এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কৃষির ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ বালাইকে দমন করাই হলো আইপিএম। ইহা পরিবেশের ক্ষতি ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের সংখ্যা যথাসম্ভব একটি নির্দিষ্ট স্তরের নিচে রাখার উপযুক্ত কৌশল ও উপায়। বাংলাদেশ ১৯৮১ সালে জাতিসংঘের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সদস্যপদ লাভ করে।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সরকার ২০২২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন ধরে একশ একর জমিতে ‘আইপিএম’ মডেল প্রকল্প চালু করে। এর আওতায় এই ইউনিয়নের ৫শ জন সবজি চাষীকে ২০টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। চাষিদের বছরব্যাপী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।প্রকল্প শুরুতে প্রশিক্ষিত ওই সকল চাষি এখনও আইপিএম পদ্ধতিতে চাষবাস করে যাচ্ছে। আবার প্রশিক্ষিত চাষিদের কাছ থেকে শিখে আইপিএম ধারণা নিচ্ছে অন্য চাষিরা। এতে উৎপাদনে খরচ যেমন কমেছে পরিবেশেরও ভাল থাকছে। ফলস্বরূপ মানুষ পাচ্ছে বিষমুক্ত সবজি। এতে ওই এলাকার কৃষিতে আলো ছড়াচ্ছে আইপিএম প্রযুক্তি।

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব কৃষিতেও পড়েছে। ফসলে নতুন নতুন পোকামাকড় ও রোগ বালায়ের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। কৃষিজ উৎপাদনে উচ্চমাত্রার রাসায়নিক বালাইনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ,পাখি ও অনুজীব ইত্যাদি বিলুপ্ত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে জীব বৈচিত্র। মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দিনদিন বাড়ছে। তাই সরকার পরিবেশ বান্ধব কৌশলে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে আইপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে। পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পটি এ বছর একযোগে দেশের ২০ টি উপজেলার মধ্যে একটি গোমস্তাপুর উপজেলা।উপকারভোগী চাষি আলমপুরের মোঃ আশরাফুল হক জানান, আইপিএম পদ্ধতি পাল্টে দিয়েছে এখানের সবজি উৎপাদন ব্যবস্থ। কোন প্রকার কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদন করছি টমেটো, যেখানে আগে টমেটো চাষ করতে চারা রোপন থেকে টমেটো পাকা পর্যন্ত আমাদের কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো। আগে আমরা নিজেরাই নিজের উৎপাদিত টমেটো বাসায় খেতাম না, এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে এখন রুচিসম্মত ভাবে খেতেও পারছি, এবং বাজারেও দাম ভাল পাচ্ছি, সাধারণত বাজারে টমেটোর থেকে আমাদের উৎপাদিত টমেটো ৮/১০ টাকা কেজিতে বেশী দামে বিক্রি করতে পারছি। এই পদ্ধতিতে টমেটো চাষে উৎপাদন ও দাম দুটোই বেশী পাচ্ছি। এতে আমি লাভবান হয়েছি।

লালাপুরের শশা চাষী নুরুল ইসলাম জানান, আমি ২০ শতাংশ জমতি এই পদ্ধতিতে শশা চাষ করেছি এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার শশা বিক্রি করেছি, আশা করছি আর ৪০/৫০ হাজার টাকার শশা বিক্রি হবে। এবং দামও ভাল পাচ্ছি বাজারে অন্যন্য শশার দামের চেয়ে ৭/৮ টাকা কেজিতে বেশী পাচ্ছি। জৈব সার আর এই পদ্ধতিতে শশা চাষে খরচ এক্কেবারেই অর্ধেকের নীচে কিন্তু উৎপাদন বেশী।

লালাপুরে অপর কৃষাণী জানান, আমি ২০ শতাংশ জমিতে করলা চাষ করেছি এই আইপিএম পদ্ধতিতে। করলা চাষে করে এতে সেচও কম লেগেছে এবং কীটনাশক মুক্ত করলা পাচ্ছি এবং উৎপাদনও ভাল পাচ্ছি বাজারে দামও ভাল পাচ্ছি, তিনি আরো জানান, এই পদ্ধতিতে চাষ করে শুধু ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ মারা যাচ্ছে কিন্তু উপকারী পোকা গুলোর কোন ক্ষতি হয় না। ফলে এই পদ্ধতিতে চাষে জীব-বৈচিত্রও রক্ষা পাচ্ছে। তবে তিনি একটি ‘ নিরাপদ সবজি বাজার ‘ স্থাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের নিকট জোর দাবী জানান।তবে তাদের উৎপাদিত সবজি আরো ভাল দাম পাবেন অপর দিকে ক্রেতারা ‘ নিরাপদ সবজি’ দ্রুত সময়ে পেয়ে যাবে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্প অঞ্চলে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরের সরকার এই কর্মসূচী পুনরায় গ্রহন করে। কর্মসূচি অঞ্চলে উচ্চ মূল্যের সবজি উৎপাদনের জন্য নেটহাউজ স্থাপন করা হয়। যান্ত্রিক উপায়ে ফসলের ক্ষতি করে এমন শত্রু পোকা দমন করা হয় এই পদ্ধতিতে। ফলে উপকারী পোকা, মাছ, ব্যাঙ, পশু, পাখি, গুইসাপসহ নানা উপকারী জীব রক্ষা পায়। কেঁচোসার, গোবরসার কম্পোস্টসহ বিভিন্ন জৈবসার ব্যবহার করে লালশাক, কলমিশাক, পটোল, করলা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, কলা, ফলনো হয়। ফসলের ক্ষতিকারক রোগবালাই দমনে বাঁশ পদ্ধতি, ফেরোমন ফাঁদ, ফেরোমন লিউর, আলোর ফাঁদ, গোবর, হলুদ, আঠালো ফাঁদ, জালসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক উপায় ব্যবহার করা হয়। এতে উৎপাদন ব্যয়ও কমে যায়। এ ‘নিরাপদ সবজি’ ক্ষেত গুলো এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতিদিনই অনেক দর্শনার্থী ভীর করছে দেখার জন্য । উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় এলাকায় অসংখ্য মানুষ জৈব সার তৈরি করে লাভবানও হচ্ছে অনেকেই।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তানভীর আহমেদ সরকার জানান,বালাই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি। কর্মসূচির কার্যক্রম চলমান এর প্রভাব অধ্যবধি মাঠে বিদ্যমান।চাষিরা এই পদ্ধতি সাদরে গ্রহন করছে।বিস্তর এলাকা জুড়ে চাষিরা ওই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব উপায়ে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ,কৃষি, কৃষক ও জনস্বার্থের উন্নতি সাধন করাই এর লক্ষ্য। আইপিএম পদ্ধতির সুফল সকল চাষির কাছে পৌছে দিতে সরকারের কৃষি বিভাগ নিরন্তন চেষ্ঠা চলাচ্ছে বলে দাবী এই কৃষি কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা খাতুন জানান,গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়।আমি নিজেও সেখানে গিয়েছি। প্রকল্পটির আওতায় কৃষকরা সেখানে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করছে। । প্রকল্পটির মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতি ও মাঠের সৌন্দর্য সকলকে আকৃষ্ট করছে। কৃষকরা নিজেরাও খুব খুশি। আশে পাশের জনসাধারণ ও খুশি, কারণ তারা বিষমুক্ত সবজি খেতে পারবে। এক্ষেত্রে হাটে/বাজারে নিরাপদ সবজি কর্ণার নামে একটি কর্নার করার ব্যবস্থা করব যাতে করে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সুবিধা হয়।