ঢাকা , রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জাতীয় সংসদ -৪৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের নব নির্বাচিত এমপিকে সংবর্ধনা নড়াইলে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক চট্টগ্রাম ৮ আসনের সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ এম পি’র রোগ মুক্তি কামনায় বোয়ালখালীতে দোয়া মাহফিল। সালথায় নবকাম পল্লী কলেজে নবীন বরণ, গুণীজন সংবর্ধনা ও পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত পাংশার বাহাদুরপুর ইউপিতে এমপি জিল্লুল হাকিমের উদ্যোগে দ্বিতীয় দফায় কম্বল বিতরণ মিষ্টিকুমড়া ও সিম চাষে সাবলম্বী ওবায়দুর পাঠক বৃদ্ধির লক্ষ্যে তরুণ সংঘ ও পাঠাগারে সভা অনুষ্ঠিত পাংশায় সাহিত্য উন্নয়ন পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ট্রেন থেকে ৩লাখ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার রোজা উপলক্ষে ভারত থেকে ৩৮০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি

সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে অশান্তিঃ

ভাবী পা ধরে আর ভাই গলা টিপে হত্যা করে কৃষক রিপনকে

-প্রতীকী ছবি।

গত ৯ ডিসেম্বর রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল কৃষক রিপন। রাত ১২ টার দিকে ভাই ও ভাবী ঘরে ঢোকে। এক পর্যায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাবী ফরিদা বেগম রিপনের পা ধরে আর বড় ভাই নান্নু গলা টিপে হত্যা করে। পরে পেটে দা দিয়ে কোপ দেয়।

পুলিশের নজর এড়াতে ধান পাহারা দিতে গেছে এমন গল্প ফেঁদে তার চাদর ও মোবাইল বাড়ি থেকে দুরের একটি মাঠে ফেলে আসে। ভোরের দিকে বাড়ির পাশের ডোবায় মাটিচাপা দেয়। সম্পত্তির কারণেই এ হত্যাকান্ড বলে স্বীকার করেছে আটক ভাবি ফরিদা বেগম।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামানের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে তার ভাবী ফরিদা বেগম।

ঝিনাইদহের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম জানান, গত ৯ ডিসেম্বর শৈলকুপা উপজেলার চর রূপদাহ গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক বিশ্বাসের ছেলে রিপন হোসেন (২৮) বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়।

এ ব্যাপারে তার স্ত্রী সোহাগি বেগম পরের দিন শৈলকুপা থানাতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই রিপকে উদ্ধারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

পরে গত ১৬ ডিসেম্বর বাড়ির পাশের ডোবায় তার পুতে রাখা লাশের হাত দেখতে পেয়ে পুলিশের খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় সন্দেহজনক ভাবে ওই দিনই ভাবী ফরিদা বেগমকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে ভাই নান্নু। ২ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরিদা বেগম হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়।

প্রতিবেশিরা জানায়, কৃষক রিপন দীর্ঘদিন মালেশিয়া ছিল। বড় ভাই ময়মনসিংহ চাকুরী করে। এই সুবাদে পরিবারের সকল সম্পত্তি নান্নু ভোগ দখল করে আসছিল। ২ বছর আগে রিপন বাড়িতে এসে জমি নিয়ে চাষাবাদ শুরু করে। সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে ঝামেলা চলে আসছিল। যে কারণেই হত্যা হলো কৃষক রিপন।

Tag :

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জাতীয় সংসদ -৪৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের নব নির্বাচিত এমপিকে সংবর্ধনা

error: Content is protected !!

সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে অশান্তিঃ

ভাবী পা ধরে আর ভাই গলা টিপে হত্যা করে কৃষক রিপনকে

আপডেট টাইম : ০৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

গত ৯ ডিসেম্বর রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল কৃষক রিপন। রাত ১২ টার দিকে ভাই ও ভাবী ঘরে ঢোকে। এক পর্যায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাবী ফরিদা বেগম রিপনের পা ধরে আর বড় ভাই নান্নু গলা টিপে হত্যা করে। পরে পেটে দা দিয়ে কোপ দেয়।

পুলিশের নজর এড়াতে ধান পাহারা দিতে গেছে এমন গল্প ফেঁদে তার চাদর ও মোবাইল বাড়ি থেকে দুরের একটি মাঠে ফেলে আসে। ভোরের দিকে বাড়ির পাশের ডোবায় মাটিচাপা দেয়। সম্পত্তির কারণেই এ হত্যাকান্ড বলে স্বীকার করেছে আটক ভাবি ফরিদা বেগম।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামানের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে তার ভাবী ফরিদা বেগম।

ঝিনাইদহের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আরিফুল ইসলাম জানান, গত ৯ ডিসেম্বর শৈলকুপা উপজেলার চর রূপদাহ গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক বিশ্বাসের ছেলে রিপন হোসেন (২৮) বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়।

এ ব্যাপারে তার স্ত্রী সোহাগি বেগম পরের দিন শৈলকুপা থানাতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই রিপকে উদ্ধারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

পরে গত ১৬ ডিসেম্বর বাড়ির পাশের ডোবায় তার পুতে রাখা লাশের হাত দেখতে পেয়ে পুলিশের খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় সন্দেহজনক ভাবে ওই দিনই ভাবী ফরিদা বেগমকে আটক করে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে ভাই নান্নু। ২ দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরিদা বেগম হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়।

প্রতিবেশিরা জানায়, কৃষক রিপন দীর্ঘদিন মালেশিয়া ছিল। বড় ভাই ময়মনসিংহ চাকুরী করে। এই সুবাদে পরিবারের সকল সম্পত্তি নান্নু ভোগ দখল করে আসছিল। ২ বছর আগে রিপন বাড়িতে এসে জমি নিয়ে চাষাবাদ শুরু করে। সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে ঝামেলা চলে আসছিল। যে কারণেই হত্যা হলো কৃষক রিপন।