আব্দুস সালাম তালুকদারঃ
অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে নিজ দেশ ভারতে ফিরছেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন। ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাত পৌনে আটটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন সেন্টার দিয়ে সোনালী ও তার ছেলে মো. সাব্বিরকে (৮) হস্তান্তর করা হয়।
এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার, ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে সোনালীর স্বামী ও বাকি চারজনকে আবারও জিরো পয়েন্ট থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্জিপাড়া পাইকড় এলাকার বাসিন্দা সোনালী খাতুন এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সোনালী বলেন, তিনি ও তার সন্তান চান তাদের সাথে থাকা সবাই বাড়ি (ভারতে) ফিরুক।
এর আগে গেলো ২৫ জুন কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ জোরপূর্বক ছয় ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করে। পরে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশ করলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করে এবং ২২ আগস্ট আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন ও তার দুই নাবালক শিশু। মানবিক বিবেচনায় আদালত ২ ডিসেম্বর তাদের স্থানীয় জিম্মায় প্রদান করেন এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের পুশইন করার ফলে সৃষ্ট মানবিক ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তর ভারতের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে।
উভয় দেশের আলোচনার ভিত্তিতে সোনালী খাতুন এবং তার আট বছরের ছেলে মো. সাব্বির শেখকে শুক্রবার সোনামসজিদ আইসিপি দিয়ে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর শেষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিএসএফের এ ধরনের অমানবিক পুশইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট তৈরি করছে এবং উভয় দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজিবি মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করে বিজিবি দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রিন্ট

কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন 
আব্দুস সালাম তালুকদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 




















