আসলাম বেপারীঃ
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা ডিম খেয়ে দুই শিক্ষার্থী বমি করেছে। ডিমে তীব্র তিতা স্বাদ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ বন্ধ করে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এতে পাঁচটি বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ৬৩৯ টি ডিম খাওয়া থেকে শিক্ষার্থীরা রক্ষা পায়।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আজ বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার জানান, সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের ডিম পরিবেশন করা হচ্ছিল। এ সময় দুই শিক্ষার্থী ডিম খেয়ে বমি করে। পরে তারা ডিমটি তিতা লাগার কথা জানায়। এরপর শিক্ষকরা ডিম মুখে দিয়ে তীব্র তিতা স্বাদ পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়।
তিনি বলেন, “ডিম তিতা লাগার বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে ডিম খাওয়া থেকে বিরত রাখি। পরে শিক্ষা অফিসারকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনিও ডিম পরিবেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।”
এ বিষয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুপারভাইজার বশির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে ডিম পরীক্ষা করেন। তিনিও ডিমে কিছুটা তিতা স্বাদ পেয়েছেন বলে জানান। পরে বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা সাদা ডিমগুলো বিতরণ বন্ধ রাখা হয়।
তিনি বলেন, “সরবরাহকারীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, কৃমিনাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো মুরগির কিছু ডিমে এমন তিতা স্বাদ হতে পারে। তবে বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।”
চরভদ্রাসন উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আজিজুর রহমান খান বলেন, “সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ডিম বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হই।”
তিনি জানান, উপজেলার পাঁচটি বিদ্যালয়ে মোট ৬৩৯টি সাদা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল। বিদ্যালয়গুলো হলো—হরিরামপুর স.প্রা.বি , চরশালিপুর স.প্রা.বি, আজিজ মো. আলী বেপারীর ডাঙ্গী স.প্রা.বি, ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী স.প্রা.বি এবং পদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিমের মধ্যে তিতা স্বাদের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ কালবেলাকে মুঠোফোনে জানান, “বিষয়টি জানতে পেরে ডিম সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাফুজা জানায়, “দইজন ডিম খেয়ে বমি করেছিল। পরে শিক্ষকরা আমাদের ডিম খেতে দেননি।

১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। 
আসলাম বেপারী, নিজস্ব প্রতিনিধি 




















