ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক:

 

সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলার আয়োজন।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আগে থেকেই প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় নববর্ষ উদযাপন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সকালে জাতীয় সংগীত ও “এসো হে বৈশাখ” গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে নৃত্য পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মাদারীপুরের শিবচরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি উৎসব ও লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একই জেলার শহর এলাকাতেও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণ করা হয়।

ফরিদপুরের সদরপুর, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা ও চরভদ্রাসনে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। এসব এলাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, লাঠিখেলা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্যে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে পুরো উপজেলা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

বাগেরহাটের রামপালে বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলার পাশাপাশি পান্তা-ইলিশের আয়োজন করা হয়। নতুন বছরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একইভাবে রাজশাহীর বাঘায় শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা পহেলা বৈশাখের মূল বার্তা হিসেবে সম্প্রীতি ও সাম্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ১১২ ধরনের ফল, পিঠা ও মিষ্টান্ন দিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বর্ষবরণ করা হয়, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

কুষ্টিয়ার খোকসায় পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে উপজেলা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি খোকসার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা চত্বরে বৈশাখী মঞ্চে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান, থানা অফিসার ইনচার্জ মোশারফ হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আমজাদ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান স্বপন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ফজলুল হক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সোহেল রানা, উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সুধীজন, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ বৈশাখী মেলা। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা গান, নৃত্য ও বিভিন্ন পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং বৈশাখের ঐতিহ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

দিনব্যাপী লোকজ বৈশাখী মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা পণ্য, হস্তশিল্প, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী চলতে থাকে নববর্ষের আনন্দ আয়োজন।

সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। শোভাযাত্রা, মেলা, গান, নৃত্য, আবৃত্তি এবং ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার মাধ্যমে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। নতুন বছরের এই আয়োজন দেশজ সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করবে।

সব মিলিয়ে আনন্দ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলায় সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।

 


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

আপডেট টাইম : ০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক :

সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক:

 

সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলার আয়োজন।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আগে থেকেই প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় নববর্ষ উদযাপন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সকালে জাতীয় সংগীত ও “এসো হে বৈশাখ” গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে নৃত্য পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মাদারীপুরের শিবচরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি উৎসব ও লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। একই জেলার শহর এলাকাতেও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণ করা হয়।

ফরিদপুরের সদরপুর, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা ও চরভদ্রাসনে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। এসব এলাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, লাঠিখেলা, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্যে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে পুরো উপজেলা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

বাগেরহাটের রামপালে বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলার পাশাপাশি পান্তা-ইলিশের আয়োজন করা হয়। নতুন বছরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একইভাবে রাজশাহীর বাঘায় শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা পহেলা বৈশাখের মূল বার্তা হিসেবে সম্প্রীতি ও সাম্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ১১২ ধরনের ফল, পিঠা ও মিষ্টান্ন দিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বর্ষবরণ করা হয়, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

কুষ্টিয়ার খোকসায় পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে উপজেলা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি খোকসার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা চত্বরে বৈশাখী মঞ্চে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান, থানা অফিসার ইনচার্জ মোশারফ হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আমজাদ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান স্বপন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ফজলুল হক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সোহেল রানা, উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সুধীজন, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ বৈশাখী মেলা। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা গান, নৃত্য ও বিভিন্ন পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং বৈশাখের ঐতিহ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

দিনব্যাপী লোকজ বৈশাখী মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা পণ্য, হস্তশিল্প, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী চলতে থাকে নববর্ষের আনন্দ আয়োজন।

সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। শোভাযাত্রা, মেলা, গান, নৃত্য, আবৃত্তি এবং ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার মাধ্যমে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়; এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। নতুন বছরের এই আয়োজন দেশজ সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করবে।

সব মিলিয়ে আনন্দ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলায় সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।

 


প্রিন্ট